Dhaka ০৯:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
রেমিট্যান্স প্রবাহে রেকর্ড, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এলো ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ, স্বজনদের বিক্ষোভ যশোরের শার্শায় তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই যুবক গ্রেপ্তার বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিত্যক্ত ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান কালুখালীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন দোহায় পরোক্ষ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান রাজবাড়ীতে যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন বিতর্কের পরও ভবিষ্যতে বিশ্বকাপে হাইড্রেশন বিরতি রাখতে চায় ফিফা নতুন ৩ উপজেলা ও ১ থানা অনুমোদন নওগাঁ জেলা পুলিশের উদ্যোগে হারানো ১০১টি মোবাইল উদ্ধার, মালিকদের কাছে হস্তান্তর

বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিত্যক্ত ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান

মনির হোসেন, বেনাপোল
  • প্রকাশের সময় : ০৭:২১:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • / 18

যশোরের বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চলছে। শ্রেণিকক্ষের তীব্র সংকটের কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কখনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে, আবার কখনো স্কুলের বারান্দায় ক্লাস করতে হচ্ছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা।

দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টম হাউজের সামনে অবস্থিত বিদ্যালয়টি ১৮৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯৬৫ সালে নির্মিত হয় ‘কবি নজরুল ইসলাম ভবন’ এবং ১৯৯৬ সালে ‘কবি জসীমউদ্দীন ভবন’। বর্তমানে ভবন দুটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১২ জন শিক্ষক ও ৩৫৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রথম সহকারী শিক্ষকের একটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। শিক্ষার্থীর তুলনায় প্রয়োজন ১০টি শ্রেণিকক্ষ, অথচ ব্যবহারযোগ্য রয়েছে মাত্র চারটি। ফলে দুই শিফটে পাঠদান পরিচালনা করতে হচ্ছে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ক্লাস সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এবং তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

প্রায় ছয় মাস আগে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা শিক্ষা অফিস ভবন দুটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সেখানে ক্লাস বন্ধের নির্দেশ দেয়। এরপরও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন শিক্ষার্থীদের পরিত্যক্ত ভবনে পাঠদান করতে হয়েছে। বর্তমানে নিরাপত্তার স্বার্থে অধিকাংশ ক্লাস স্কুলের বারান্দায় নেওয়া হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা বেদৌরা পারভীন জানান, শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ঝুঁকি নিয়েই ক্লাস পরিচালনা করতে হয়েছে। বারবার নতুন ভবনের দাবি জানানো হলেও এখনো কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষানুরাগী অস্থায়ীভাবে বাঁশ ও টিন দিয়ে কয়েকটি শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিক্ষানুরাগী আলহাজ মতিয়ার রহমান বলেন, বিদ্যালয়টির জন্য জরুরি ভিত্তিতে চারতলা একটি ভবন নির্মাণ প্রয়োজন। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও জানানো হয়েছে।

আরেক শিক্ষানুরাগী আলহাজ হাবিবুর রহমান হবি বলেন, ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের কষ্টের কথা বিবেচনা করে তারা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ও টিন দিয়ে কয়েকটি অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের কাজ শুরু করবেন।

শার্শা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রেহেনা বানু বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে আপাতত বারান্দায় ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় মাটি পরীক্ষা (সয়েল টেস্ট) সম্পন্ন হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পাঠদানের ব্যবস্থা করতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিত্যক্ত ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান

প্রকাশের সময় : ০৭:২১:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

যশোরের বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চলছে। শ্রেণিকক্ষের তীব্র সংকটের কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কখনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে, আবার কখনো স্কুলের বারান্দায় ক্লাস করতে হচ্ছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা।

দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টম হাউজের সামনে অবস্থিত বিদ্যালয়টি ১৮৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯৬৫ সালে নির্মিত হয় ‘কবি নজরুল ইসলাম ভবন’ এবং ১৯৯৬ সালে ‘কবি জসীমউদ্দীন ভবন’। বর্তমানে ভবন দুটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১২ জন শিক্ষক ও ৩৫৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রথম সহকারী শিক্ষকের একটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। শিক্ষার্থীর তুলনায় প্রয়োজন ১০টি শ্রেণিকক্ষ, অথচ ব্যবহারযোগ্য রয়েছে মাত্র চারটি। ফলে দুই শিফটে পাঠদান পরিচালনা করতে হচ্ছে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ক্লাস সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এবং তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

প্রায় ছয় মাস আগে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা শিক্ষা অফিস ভবন দুটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সেখানে ক্লাস বন্ধের নির্দেশ দেয়। এরপরও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন শিক্ষার্থীদের পরিত্যক্ত ভবনে পাঠদান করতে হয়েছে। বর্তমানে নিরাপত্তার স্বার্থে অধিকাংশ ক্লাস স্কুলের বারান্দায় নেওয়া হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা বেদৌরা পারভীন জানান, শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ঝুঁকি নিয়েই ক্লাস পরিচালনা করতে হয়েছে। বারবার নতুন ভবনের দাবি জানানো হলেও এখনো কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষানুরাগী অস্থায়ীভাবে বাঁশ ও টিন দিয়ে কয়েকটি শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিক্ষানুরাগী আলহাজ মতিয়ার রহমান বলেন, বিদ্যালয়টির জন্য জরুরি ভিত্তিতে চারতলা একটি ভবন নির্মাণ প্রয়োজন। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও জানানো হয়েছে।

আরেক শিক্ষানুরাগী আলহাজ হাবিবুর রহমান হবি বলেন, ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের কষ্টের কথা বিবেচনা করে তারা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ও টিন দিয়ে কয়েকটি অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের কাজ শুরু করবেন।

শার্শা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রেহেনা বানু বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে আপাতত বারান্দায় ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় মাটি পরীক্ষা (সয়েল টেস্ট) সম্পন্ন হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পাঠদানের ব্যবস্থা করতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।