বগুড়া-৬ আসনে উপ-নির্বাচনে আলোচনায় জুবাইদা-জাইমা-শামিলা
- প্রকাশের সময় : ০৮:১৩:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 154
আবারও আলোচনায় বগুড়া-৬ আসন। সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে দুই আসনে জয়ী হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসন রেখে বগুড়া-৬ ছেড়ে দেওয়ায় এখানে উপ-নির্বাচন অনিবার্য হয়ে উঠেছে। আর সেই উপ-নির্বাচন ঘিরেই শুরু হয়েছে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে তুমুল আলোচনা।
এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান এবং প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিণী সৈয়দা শামিলা রহমানের নাম শোনা যাচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বগুড়া-৬ আসন। তাই এখানে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সেটি শুধু একটি উপ-নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নয়; বরং সরকারের রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
এ আসনে প্রার্থী তালিকায় অন্যদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, সাবেক পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা ছাড়াও জিয়া পরিবারের সদস্যদের নাম।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের কেন্দ্রীয় এক নেতা বলেন, ‘বগুড়া-৬ শুধু একটি আসন না, এটা দলের ঐতিহ্যের অংশ। এখানে এমন কাউকে দিতে হবে, যিনি সরকারের প্রতিনিধিত্বও করতে পারবেন। তৃণমূল চায়, এবার স্থানীয় পরীক্ষিত কাউকে দেওয়া হোক। আন্দোলন-সংগ্রামে যারা ছিলেন, তাদের মধ্য থেকেই প্রার্থী আসা উচিত।’
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বলেন, ‘দলের নীতিগত সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবেই চেয়ারম্যান আসনটি ছেড়ে দিয়েছেন। এখানে ব্যক্তিগত অনুভূতির কোনো বিষয় নেই। দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তিনিই উপ-নির্বাচনে প্রার্থী হবেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেন্দ্র থেকেই জানানো হবে।’
অন্যদিকে আসনটিতে নির্বাচন করবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত অবস্থান নেয়নি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির বগুড়া শহর আমির আবিদুর রহমান সোহেল বলেন, ‘বিষয়টি কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যালোচনায় রয়েছে। কেন্দ্র থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে, তার ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।’
অতীতে এই আসন থেকে নির্বাচন করেন খালেদা জিয়া। সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে আবারও জিয়া পরিবারের কাউকে আনার আলোচনাও চলছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক আব্দুল মোমিন বলেন, ‘সরকার গঠনের পর এটি হবে প্রথম উপ-নির্বাচন। এখানে কাকে দেওয়া হচ্ছে, সেটি দেখেই বোঝা যাবে বিএনপি কোন ধরনের নেতৃত্ব সামনে আনতে চায়। প্রধানমন্ত্রী নিজে এই আসন ছেড়েছেন। ফলে এখানে যিনি প্রার্থী হবেন, তিনি কার্যত সরকারের মুখ হিসেবেই বিবেচিত হবেন।’
১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে এই আসন থেকে জয়ী হন বেগম খালেদা জিয়া। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন থেকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হন। পরে তিনি শপথ না নেওয়ায় ২০১৯ সালের উপ-নির্বাচনে বিজয়ী হন বিএনপির গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ।




















