Dhaka ০৮:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
সব নাগরিককে এক ডিজিটাল আইডির আওতায় আনতে চায় সরকার : রেহান আসিফ ৯ বছর পর মুক্তি মিলছে গাজীপুর সাফারি পার্কের দুই লেপার্ডের ডিআইজিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ২৪ কর্মকর্তাকে বদলি সবার জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পূর্বশর্ত : রাষ্ট্রপতি কানাডার উৎসবে সেরা অভিনেত্রী তুষি, ‘রইদ’ পেল তিন পুরস্কার শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণে ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গুণী শিক্ষক হিসেবে সংবর্ধনা পাচ্ছেন আব্দুর রাজ্জাক একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাবার আহাজারি, ‘আমার বাচ্চা ফেরত দেন, আর কিছু চাই না’ এলপিজির দাম বাড়ল সাতদিন ধরে চলে ‘বরের মেলা’: সেজেগুজে থাকেন পাত্ররা, পছন্দ করে কিনে নেন কনেরা!

বিসিবিকে পাঠানো আইসিসির সেই চিঠিতে কী লেখা আছে

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৫:৫৭:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 143

নিরাপত্তা উদ্বেগকে সামনে রেখে আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের ভেন্যু নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিসিবি। এই প্রেক্ষাপটে বিসিবিকে পাঠানো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল আইসিসির একটি চিঠির বিস্তারিত তুলে ধরেছে বিবিসি বাংলা।

নিরাপত্তা ইস্যুতে বিশ্বকাপে ভারত থেকে ম্যাচ সরানোর অনুরোধ জানিয়ে বিসিবি আইসিসির কাছে আবেদন করেছিল। এ বিষয়ে আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগ বিসিবিকে একটি ই–মেইল পাঠিয়েছে বলে দাবি করেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। সোমবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ওই চিঠিতে তিনটি আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেছে আইসিসি।

পরবর্তীতে বিসিবি জানায়, এটি আইসিসির আনুষ্ঠানিক কোনো জবাব নয়। বরং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের একটি অংশ।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিসির পাঠানো ওই ই–মেইলে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ও সমর্থকেরা ভারতে গেলে কী ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন, সেটির একটি রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট বা ঝুঁকি মূল্যায়নের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়েছে। আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগের ব্যবস্থাপক গত ৮ জানুয়ারি বিসিবির নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টাকে এই ই–মেইল পাঠিয়েছেন বলে দাবি করেছে বিবিসি বাংলা।

মেইলের শুরুতে ৩ জানুয়ারি মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিতে বিসিসিআইয়ের নির্দেশনা, নিরাপত্তা ইস্যুতে বিসিবির শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাওয়ার অনুরোধ এবং মোস্তাফিজ ইস্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর চারটি বিষয়ে আলাদা করে বাংলাদেশের ভারত সফরের ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়েছে।

সাধারণত আইসিসি যেকোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের আগে এ ধরনের ঝুঁকি মূল্যায়ন করে থাকে। এতে প্রতিটি ভেন্যু ও প্রতিটি দলের ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। ক্রিকেট বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ক্রিকইনফোর মতে, এই ধরনের মূল্যায়ন সাধারণত ভেন্যু পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট কারণ হিসেবে বিবেচিত হয় না।

আইসিসির চিঠিতে উল্লেখ করা চারটি বিষয় হলো

ভারতে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের ঝুঁকি মূল্যায়ন গত ডিসেম্বরে সম্পন্ন হয়। সেখানে পুরো টুর্নামেন্টের ঝুঁকি মাঝারি মাত্রার বলা হলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা মাঝারি থেকে উচ্চ মাত্রার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পরবর্তী আরেক দফা মূল্যায়নেও বাংলাদেশের ঝুঁকি মাঝারি বলা হয়েছে। তবে এতে যোগ করা হয়েছে, ধর্মীয় উগ্রপন্থার প্রসঙ্গ জড়িত হলে মোস্তাফিজুর রহমানের উপস্থিতি সমস্যার কারণ হতে পারে।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ কলকাতায় এবং একটি ম্যাচ মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি বেঙ্গালুরুতে একটি ওয়ার্মআপ ম্যাচ খেলার সূচি আছে। ম্যাচের সময় ও প্রতিপক্ষ বিবেচনায় এসব ভেন্যুতে বাংলাদেশ দলের ঝুঁকি মাঝারি থেকে কম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিসিসিআই কর্মকর্তা সি ভি মুরালিধরের মূল্যায়ন উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পরও ঝুঁকি মূল্যায়নে কোনো পরিবর্তন হয়নি। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, বিদ্যমান পরিকল্পনার মধ্যেই সব ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

সমর্থকদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, কলকাতা ও মুম্বাইয়ে বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা নেই। তবে বাংলাদেশি সমর্থকদের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে যারা জাতীয় দলের জার্সি পরে বা ছোট দলে স্টেডিয়ামে যাবেন, তাদের ঝুঁকি মাঝারি থেকে উচ্চ মাত্রার হতে পারে। কোনো বড় সহিংস ঘটনা ঘটলে তা আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ ও অস্থিরতা ছড়িয়ে দিতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং বাংলাদেশ–ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনার বিষয়টিও ঝুঁকি মূল্যায়নে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। আইসিসি বলেছে, এই বিষয়গুলো স্বল্প থেকে মাঝারি সময়ের মধ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এগুলো সরাসরি খেলোয়াড় বা ভেন্যুর ওপর সহিংসতায় রূপ নেবে না বলেই তাদের ধারণা।

চিঠির শেষ অংশে বলা হয়েছে, দুই বোর্ডের স্বাধীন নিরাপত্তা ব্যবস্থাপকরা কৌশলগত নিরাপত্তা পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছেন। একই সঙ্গে বিসিবির নিরাপত্তা উপদেষ্টার যেকোনো মন্তব্য ও উদ্বেগকে স্বাগত জানানো হবে, যাতে সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরসন করা যায়।

সোর্স: বিবিসি বাংলা

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

বিসিবিকে পাঠানো আইসিসির সেই চিঠিতে কী লেখা আছে

প্রকাশের সময় : ০৫:৫৭:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

নিরাপত্তা উদ্বেগকে সামনে রেখে আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের ভেন্যু নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিসিবি। এই প্রেক্ষাপটে বিসিবিকে পাঠানো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল আইসিসির একটি চিঠির বিস্তারিত তুলে ধরেছে বিবিসি বাংলা।

নিরাপত্তা ইস্যুতে বিশ্বকাপে ভারত থেকে ম্যাচ সরানোর অনুরোধ জানিয়ে বিসিবি আইসিসির কাছে আবেদন করেছিল। এ বিষয়ে আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগ বিসিবিকে একটি ই–মেইল পাঠিয়েছে বলে দাবি করেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। সোমবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ওই চিঠিতে তিনটি আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেছে আইসিসি।

পরবর্তীতে বিসিবি জানায়, এটি আইসিসির আনুষ্ঠানিক কোনো জবাব নয়। বরং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের একটি অংশ।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিসির পাঠানো ওই ই–মেইলে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ও সমর্থকেরা ভারতে গেলে কী ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন, সেটির একটি রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট বা ঝুঁকি মূল্যায়নের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়েছে। আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগের ব্যবস্থাপক গত ৮ জানুয়ারি বিসিবির নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টাকে এই ই–মেইল পাঠিয়েছেন বলে দাবি করেছে বিবিসি বাংলা।

মেইলের শুরুতে ৩ জানুয়ারি মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিতে বিসিসিআইয়ের নির্দেশনা, নিরাপত্তা ইস্যুতে বিসিবির শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাওয়ার অনুরোধ এবং মোস্তাফিজ ইস্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর চারটি বিষয়ে আলাদা করে বাংলাদেশের ভারত সফরের ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়েছে।

সাধারণত আইসিসি যেকোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের আগে এ ধরনের ঝুঁকি মূল্যায়ন করে থাকে। এতে প্রতিটি ভেন্যু ও প্রতিটি দলের ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। ক্রিকেট বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ক্রিকইনফোর মতে, এই ধরনের মূল্যায়ন সাধারণত ভেন্যু পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট কারণ হিসেবে বিবেচিত হয় না।

আইসিসির চিঠিতে উল্লেখ করা চারটি বিষয় হলো

ভারতে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের ঝুঁকি মূল্যায়ন গত ডিসেম্বরে সম্পন্ন হয়। সেখানে পুরো টুর্নামেন্টের ঝুঁকি মাঝারি মাত্রার বলা হলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা মাঝারি থেকে উচ্চ মাত্রার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পরবর্তী আরেক দফা মূল্যায়নেও বাংলাদেশের ঝুঁকি মাঝারি বলা হয়েছে। তবে এতে যোগ করা হয়েছে, ধর্মীয় উগ্রপন্থার প্রসঙ্গ জড়িত হলে মোস্তাফিজুর রহমানের উপস্থিতি সমস্যার কারণ হতে পারে।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ কলকাতায় এবং একটি ম্যাচ মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি বেঙ্গালুরুতে একটি ওয়ার্মআপ ম্যাচ খেলার সূচি আছে। ম্যাচের সময় ও প্রতিপক্ষ বিবেচনায় এসব ভেন্যুতে বাংলাদেশ দলের ঝুঁকি মাঝারি থেকে কম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিসিসিআই কর্মকর্তা সি ভি মুরালিধরের মূল্যায়ন উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পরও ঝুঁকি মূল্যায়নে কোনো পরিবর্তন হয়নি। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, বিদ্যমান পরিকল্পনার মধ্যেই সব ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

সমর্থকদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, কলকাতা ও মুম্বাইয়ে বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা নেই। তবে বাংলাদেশি সমর্থকদের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে যারা জাতীয় দলের জার্সি পরে বা ছোট দলে স্টেডিয়ামে যাবেন, তাদের ঝুঁকি মাঝারি থেকে উচ্চ মাত্রার হতে পারে। কোনো বড় সহিংস ঘটনা ঘটলে তা আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ ও অস্থিরতা ছড়িয়ে দিতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং বাংলাদেশ–ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনার বিষয়টিও ঝুঁকি মূল্যায়নে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। আইসিসি বলেছে, এই বিষয়গুলো স্বল্প থেকে মাঝারি সময়ের মধ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এগুলো সরাসরি খেলোয়াড় বা ভেন্যুর ওপর সহিংসতায় রূপ নেবে না বলেই তাদের ধারণা।

চিঠির শেষ অংশে বলা হয়েছে, দুই বোর্ডের স্বাধীন নিরাপত্তা ব্যবস্থাপকরা কৌশলগত নিরাপত্তা পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছেন। একই সঙ্গে বিসিবির নিরাপত্তা উপদেষ্টার যেকোনো মন্তব্য ও উদ্বেগকে স্বাগত জানানো হবে, যাতে সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরসন করা যায়।

সোর্স: বিবিসি বাংলা