Dhaka ০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
সব নাগরিককে এক ডিজিটাল আইডির আওতায় আনতে চায় সরকার : রেহান আসিফ ৯ বছর পর মুক্তি মিলছে গাজীপুর সাফারি পার্কের দুই লেপার্ডের ডিআইজিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ২৪ কর্মকর্তাকে বদলি সবার জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পূর্বশর্ত : রাষ্ট্রপতি কানাডার উৎসবে সেরা অভিনেত্রী তুষি, ‘রইদ’ পেল তিন পুরস্কার শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণে ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গুণী শিক্ষক হিসেবে সংবর্ধনা পাচ্ছেন আব্দুর রাজ্জাক একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাবার আহাজারি, ‘আমার বাচ্চা ফেরত দেন, আর কিছু চাই না’ এলপিজির দাম বাড়ল সাতদিন ধরে চলে ‘বরের মেলা’: সেজেগুজে থাকেন পাত্ররা, পছন্দ করে কিনে নেন কনেরা!

রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা পেলেও ভারতে খেলতে নারাজ বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১১:৫৪:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 158

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতের আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ইতোমধ্যে বিসিবির সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে।

মঙ্গলবার অনলাইনে দুই পক্ষের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

আইসিসির যেকোনো টুর্নামেন্টের আগে আয়োজক দেশ ও অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী কোনো দেশ যদি টুর্নামেন্ট বা নির্দিষ্ট ম্যাচে অংশ না নেয়, তবে আইসিসিকে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে হয়। সাধারণত সরকারি নিষেধাজ্ঞা বা নিরাপত্তাজনিত কারণকে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অতীতেও ভারত–পাকিস্তান সিরিজ বাতিল বা ভেন্যু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এমন নজির রয়েছে, যা আইসিসি মেনে নিয়েছে।

এই নজির অনুসরণ করেই বিসিবি ভারতের মাটিতে খেলতে অনিচ্ছুক অবস্থান নিয়েছে। বিসিবির প্রধান উদ্বেগ নিরাপত্তা। বোর্ডের দাবি, ভারতে খেলোয়াড়, কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপ উপলক্ষে ভারতে যেতে চাচ্ছে না এবং ম্যাচগুলো অন্য কোনো দেশে আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে বিসিবি।

সম্প্রতি মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক ও উগ্র সংগঠনের হুমকির কারণে বিসিসিআই যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে বাংলাদেশের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিসিবির মতে, একজন খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে পুরো দল, কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও দর্শকদের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে—এই প্রশ্নই এখন প্রধান।

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামও জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলা নিরাপদ মনে হচ্ছে না। তিনি মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে অসম্মানজনক বলেও উল্লেখ করেন। জানা গেছে, আইসিসির মধ্যস্থতায় বিসিসিআই রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের নিরাপত্তা দেওয়ার প্রস্তাব দিতে পারে। তবে এমন প্রস্তাবেও বিসিবির সম্মত হওয়ার সম্ভাবনা কম।

পুরো বিষয়টি নিয়ে বিসিসিআইয়ের ওপর চাপ বাড়ছে। আয়োজক হিসেবে সব দলের অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদেরই দায়িত্ব। ভারতীয় কিছু গণমাধ্যম জানিয়েছে, বাংলাদেশের ম্যাচ অন্য দেশে সরানোর বিষয়ে আইসিসি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

তবে বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র এক মাস আগে ভেন্যু পরিবর্তন করা সহজ নয়। সূচি, সম্প্রচার এবং প্রতিপক্ষ দলগুলোর সম্মতির মতো নানা জটিলতা রয়েছে। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচ থাকায় সেগুলো পুনর্বিন্যাস করাও কঠিন হবে।

আইসিসি যদি বিসিবির প্রস্তাব না মানে এবং বাংলাদেশ দল খেলতে না যায়, তাহলে নিয়ম অনুযায়ী প্রতিপক্ষ দলগুলো ওয়াকওভার পাবে এবং শাস্তির আশঙ্কাও রয়েছে। তবে বিসিবির বিশ্বাস, নিরাপত্তাজনিত যুক্তিসংগত কারণ থাকায় শেষ পর্যন্ত বড় কোনো শাস্তি দেওয়া হবে না।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা পেলেও ভারতে খেলতে নারাজ বাংলাদেশ

প্রকাশের সময় : ১১:৫৪:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতের আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ইতোমধ্যে বিসিবির সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে।

মঙ্গলবার অনলাইনে দুই পক্ষের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

আইসিসির যেকোনো টুর্নামেন্টের আগে আয়োজক দেশ ও অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী কোনো দেশ যদি টুর্নামেন্ট বা নির্দিষ্ট ম্যাচে অংশ না নেয়, তবে আইসিসিকে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে হয়। সাধারণত সরকারি নিষেধাজ্ঞা বা নিরাপত্তাজনিত কারণকে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অতীতেও ভারত–পাকিস্তান সিরিজ বাতিল বা ভেন্যু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এমন নজির রয়েছে, যা আইসিসি মেনে নিয়েছে।

এই নজির অনুসরণ করেই বিসিবি ভারতের মাটিতে খেলতে অনিচ্ছুক অবস্থান নিয়েছে। বিসিবির প্রধান উদ্বেগ নিরাপত্তা। বোর্ডের দাবি, ভারতে খেলোয়াড়, কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপ উপলক্ষে ভারতে যেতে চাচ্ছে না এবং ম্যাচগুলো অন্য কোনো দেশে আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে বিসিবি।

সম্প্রতি মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক ও উগ্র সংগঠনের হুমকির কারণে বিসিসিআই যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে বাংলাদেশের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিসিবির মতে, একজন খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে পুরো দল, কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও দর্শকদের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে—এই প্রশ্নই এখন প্রধান।

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামও জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলা নিরাপদ মনে হচ্ছে না। তিনি মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে অসম্মানজনক বলেও উল্লেখ করেন। জানা গেছে, আইসিসির মধ্যস্থতায় বিসিসিআই রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের নিরাপত্তা দেওয়ার প্রস্তাব দিতে পারে। তবে এমন প্রস্তাবেও বিসিবির সম্মত হওয়ার সম্ভাবনা কম।

পুরো বিষয়টি নিয়ে বিসিসিআইয়ের ওপর চাপ বাড়ছে। আয়োজক হিসেবে সব দলের অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদেরই দায়িত্ব। ভারতীয় কিছু গণমাধ্যম জানিয়েছে, বাংলাদেশের ম্যাচ অন্য দেশে সরানোর বিষয়ে আইসিসি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

তবে বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র এক মাস আগে ভেন্যু পরিবর্তন করা সহজ নয়। সূচি, সম্প্রচার এবং প্রতিপক্ষ দলগুলোর সম্মতির মতো নানা জটিলতা রয়েছে। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচ থাকায় সেগুলো পুনর্বিন্যাস করাও কঠিন হবে।

আইসিসি যদি বিসিবির প্রস্তাব না মানে এবং বাংলাদেশ দল খেলতে না যায়, তাহলে নিয়ম অনুযায়ী প্রতিপক্ষ দলগুলো ওয়াকওভার পাবে এবং শাস্তির আশঙ্কাও রয়েছে। তবে বিসিবির বিশ্বাস, নিরাপত্তাজনিত যুক্তিসংগত কারণ থাকায় শেষ পর্যন্ত বড় কোনো শাস্তি দেওয়া হবে না।