শেখ হাসিনার ‘হেভিওয়েট’ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ ১৭ জন ট্রাইব্যুনালে
- প্রকাশের সময় : ১২:১৫:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 93
চব্বিশের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনকে ঘিরে হত্যা ও গণহত্যার দায়ে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা সরকারের আমলের সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ মোট ১৭ জনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। সোমবার সকালে কেরানীগঞ্জ, কাশিমপুরসহ বিভিন্ন কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তায় তাদের আদালতে আনা হয়। সকাল পৌনে ১০টার দিকে একে একে প্রিজনভ্যান থেকে নামিয়ে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় নেয় পুলিশ।
ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন প্যানেলে এদিন মামলার অগ্রগতি নিয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। হাজির হওয়া আসামিদের মধ্যে আছেন— সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক এমপি সোলায়মান সেলিম, সাবেক এমপি ফারুক খান, সাবেক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এর মধ্যে সালমান এফ রহমান, আনিসুল হক, হাসানুল হক ইনু ও জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে পৃথক ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছে। ইনুর মামলায় ইতোমধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রেখে গণহত্যা সংঘটনের অভিযোগে সজীব ওয়াজেদ জয় ও পলকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও আমলে নিয়েছে ট্রাইব্যুনাল-১। জয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে আনিসুল ও সালমানের বিরুদ্ধে কারফিউ দিয়ে ছাত্র-জনতাকে হত্যার অভিযোগও আমলে নিয়ে শুনানির দিন নির্ধারণ করেছে আদালত।
এর আগে ১৫ অক্টোবর পৃথক মামলায় সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৫ জনের তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। তবে প্রতিবেদন জমা না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল নতুন করে সময় দেয়। আজ সকাল থেকেই ট্রাইব্যুনাল চত্বরে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় এবং প্রত্যেককে তল্লাশি করে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
সব মিলিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিভিন্ন মামলায় এক সময়ের প্রভাবশালী মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় নেতাদের বিরুদ্ধে পৃথক চার্জ গঠনের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
























