জবি ছাত্রদল নেতা খুন : ১৬ ঘণ্টা পরও মামলা নেয়নি পুলিশ
- প্রকাশের সময় : ১০:০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫
- / 72
পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল নেতা মো. জোবায়েদ হোসেনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার ১৬ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও থানায় মামলা হয়নি, গ্রেফতারও হয়নি কেউ।
রোববার (১৯ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টা থেকে নিহতের পরিবার মামলা করার চেষ্টা করলেও সোমবার (২০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্তও বংশাল থানায় মামলা হয়নি।
নিহত জোবায়েদের পরিবার জানায়, তারা জোবায়েদের এক ছাত্রী, তার বাবা-মা এবং পরিচিত মাহির রহমান ও মো. নাফিস নামে দুজনের বিরুদ্ধে মামলা দিতে চাইলেও বংশাল থানার ওসি রফিকুল ইসলাম মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানান।
নিহতের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত অভিযোগ করে বলেন, “আমরা ওই ছাত্রী ও তার বাবা-মাসহ পাঁচজনের নামে মামলা দিতে চেয়েছি। কিন্তু ওসি বলেন, এতজনের নামে মামলা না দিতে। আমরা চাই সবার নাম থাকুক, আমার ভাই হত্যার বিচার চাই।”
পরিবারের সদস্যরা জানান, রাত ১টা থেকে সকাল পর্যন্ত থানায় অবস্থান করেও মামলা করতে পারেননি তারা। রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যে মামলার খসড়া তৈরি করা হলেও ওসি উপস্থিত না থাকায় বিলম্ব হয়। পরে ওসি এসে আসামির সংখ্যা কমানোর পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, “যাদের নামে মামলা দিতে চায়, দিতে পারবে। তবে বলেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে।”
এদিকে, হত্যার দ্রুত বিচার ও আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বংশাল থানার সামনে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করে রাখেন।
রোববার রাত ১১টার দিকে ওই ছাত্রীকে পুলিশ হেফাজতে নেয় এবং জিজ্ঞাসাবাদ শেষে থানায় আনা হয়। তবে এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
এর আগে রাত ১০টা ৫০ মিনিটে জোবায়েদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মিডফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়।
জানা গেছে, জোবায়েদ হোসেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি কুমিল্লা জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির সভাপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য ছিলেন।
রোববার বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে আরমানিটোলার ১৫, নূরবক্স লেনের ‘রৌশান ভিলা’ নামের বাসায় ছুরিকাঘাতে নিহত হন জোবায়েদ। বাসার নিচতলা থেকে তিনতলা পর্যন্ত রক্তের দাগ পাওয়া যায় এবং তিনতলার সিঁড়িতে পড়ে থাকতে দেখা যায় তার মরদেহ।






















