রাবিতে শিক্ষক-কর্মচারিদের সন্তানদের জন্য পুনরায় পোষ্য কোটায় ভর্তি
- প্রকাশের সময় : ১০:২০:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 87
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের সন্তানদের পোষ্য কোটায় শর্তসাপেক্ষে ভর্তির সিদ্ধান্ত পুনর্বহাল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত ভর্তি কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মাঈনউদ্দীন।
ভর্তি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পোষ্য কোটায় ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীদের কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে প্রধান শর্তগুলো হলো—ভর্তি শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের ঔরসজাত বা গর্ভজাত সন্তান হতে পারবে, প্রচলিত যোগ্যতা ও শর্ত প্রযোজ্য হবে, মেধার ভিত্তিতে নির্ধারিত আসনের অতিরিক্ত ভর্তির সুযোগ দেওয়া হবে, বিভাগীয় ন্যূনতম পাস নম্বর বাধ্যতামূলক, কোনো বিভাগে সর্বোচ্চ দুইজন ভর্তির সুযোগ থাকবে, কর্মরত অভিভাবকের নিজ বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ নেই, অটো মাইগ্রেশন ছাড়া বিভাগ পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে ছাত্রত্ব বাতিলসহ অভিভাবকের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া, পোষ্য কোটায় ভর্তি শিক্ষার্থীরা অন্য আসনের জন্য আবেদন করতে পারবেন না।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বহুদিন ধরে চালু থাকা এই প্রক্রিয়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের একাংশ বিরোধিতা করে আসছিল। তাদের অভিযোগ, অতীতে ন্যূনতম যোগ্যতা অর্জন না করেও কিছু শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন, যা মেধাভিত্তিক ভর্তি প্রক্রিয়াকে ক্ষুণ্ণ করেছে। পাশাপাশি অভিভাবকের বিভাগে ভর্তির মাধ্যমে অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া যেত বলে তারা দাবি করেন।
অন্যদিকে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা দীর্ঘদিন ধরে এ সুবিধা পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন। তাদের যুক্তি, দীর্ঘদিনের প্রচলিত নিয়ম হঠাৎ করে বাতিল করা অযৌক্তিক এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও একই ধরনের সুবিধা রয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি একাদশ শ্রেণির ভর্তিতে শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের জন্য ইকিউ কোটার সিদ্ধান্ত সরকারী অবস্থানকে প্রতিফলিত করে।
প্রতিবছরের মত চলতি বছরের ২ জানুয়ারি শিক্ষার্থীরা প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলিয়ে উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষসহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে প্রায় ১৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করেছিলেন। পরে প্রশাসন তাদের দাবি মানতে বাধ্য হয়েছিল। শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারিরা কর্মবিরতি ও আন্দোলনের মাধ্যমে পোষ্য কোটার পুনর্বহালের দাবি অব্যাহত রাখেন।
পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে। পরে গঠিত কমিটি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মকানুন পর্যালোচনা করে সুপারিশ দেয়। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে ভর্তি কমিটি শর্তসাপেক্ষে পোষ্য কোটার সুবিধা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেয়।



















