Dhaka ০২:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:

জাকসু নির্বাচন: অতিরিক্ত ব্যালট নিয়ে দুশ্চিন্তায় প্রার্থীরা

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০২:৫৮:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 75

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে অতিরিক্ত ব্যালট পেপার পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে প্রার্থীদের মধ্যে। ভোটার সংখ্যা নির্দিষ্ট থাকলেও প্রায় সব কেন্দ্রেই ১০ থেকে ২০ শতাংশ, কোথাও তারও বেশি ব্যালট রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহীদ সালাম-বরকত হলে গিয়ে দেখা যায়, ভোটার সংখ্যা ২৯৯ হলেও ব্যালট পেপার রাখা হয়েছে প্রায় ৪শ। একই অবস্থা মীর মশাররফ হোসেন, তাজউদ্দীন আহমদ, মওলানা ভাসানী ও কাজী নজরুল ইসলাম হলসহ একাধিক কেন্দ্রে।

ভোটার-প্রার্থীদের অভিযোগ

ভোটার ও প্রার্থীরা বলছেন, অতিরিক্ত ব্যালট কারচুপির সুযোগ তৈরি করবে। পৃথিবীর কোনো নির্বাচনে শতভাগ ভোট পড়ে না, সাধারণত ৭০-৮০ শতাংশ ভোটার উপস্থিত থাকেন। তারপরও অতিরিক্ত ব্যালট রাখায় সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী আব্দুর রশিদ জিতুর পোলিং এজেন্ট মেহেদী হাসান বলেন, “যত সুষ্ঠু নির্বাচনই হোক, ৮০ ভাগের বেশি ভোট পড়ার সম্ভাবনা নেই। অতিরিক্ত ব্যালট রাখা প্রশাসনের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকা উচিত।”

বাগছাসের জিএস প্রার্থী আবু তৌহিদ মো. সিয়াম অভিযোগ করেন, “শুধু অতিরিক্ত ব্যালট নয়, শিবিরসহ কিছু প্রার্থীকে বাড়তি সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এতে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।”

সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থী আরিফুল্লাহ আদিব বলেন, “শহীদ সালাম-বরকত হলে শতাধিক অতিরিক্ত ব্যালট রাখা হয়েছে কার স্বার্থে? কমিশনকে প্রশ্ন করেছি, কিন্তু স্পষ্ট কোনো জবাব পাইনি।”

নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা

রিটার্নিং কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন পর ভোট হওয়ায় অনেক ভোটার নতুন। কেউ ভুল করলে যেন পুনরায় ভোট দিতে পারে, সে কারণেই অতিরিক্ত ব্যালট রাখা হয়েছে।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলের প্রাধ্যক্ষ ও নির্বাচন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. খো. লুত্ফুল এলাহী বলেন, “ভুল ব্যালট বাতিল করে নতুন ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখতেই বাড়তি ব্যালট দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের কারচুপির সুযোগ নেই। অতিরিক্ত যেগুলো থাকবে, সেগুলো ফেরত যাবে।”

রিটার্নিং কর্মকর্তা মওদুদ আহমেদ বলেন, “আমাদের কাছে কিছু বেশি ব্যালট এসেছে। বিষয়টি কমিশনকে জানানো হয়েছে। তারা নিয়ে যাবে। এখন পর্যন্ত কাউকে দ্বিতীয়বার ব্যালট দিতে হয়নি।”

মাঠের চিত্র

শহীদ সালাম-বরকত হলে দুপুরে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। বৃষ্টির কারণে শুরুতে ভোটগ্রহণ কিছুটা ধীর হলেও পরে স্বাভাবিক গতি ফিরে আসে।

ভোটারদের অনেকে বলছেন, ব্যালট পেপার অতিরিক্ত রাখা কেন, এ প্রশ্নের উত্তর নির্বাচন কমিশনের স্পষ্টভাবে দেওয়া দরকার।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

জাকসু নির্বাচন: অতিরিক্ত ব্যালট নিয়ে দুশ্চিন্তায় প্রার্থীরা

প্রকাশের সময় : ০২:৫৮:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে অতিরিক্ত ব্যালট পেপার পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে প্রার্থীদের মধ্যে। ভোটার সংখ্যা নির্দিষ্ট থাকলেও প্রায় সব কেন্দ্রেই ১০ থেকে ২০ শতাংশ, কোথাও তারও বেশি ব্যালট রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহীদ সালাম-বরকত হলে গিয়ে দেখা যায়, ভোটার সংখ্যা ২৯৯ হলেও ব্যালট পেপার রাখা হয়েছে প্রায় ৪শ। একই অবস্থা মীর মশাররফ হোসেন, তাজউদ্দীন আহমদ, মওলানা ভাসানী ও কাজী নজরুল ইসলাম হলসহ একাধিক কেন্দ্রে।

ভোটার-প্রার্থীদের অভিযোগ

ভোটার ও প্রার্থীরা বলছেন, অতিরিক্ত ব্যালট কারচুপির সুযোগ তৈরি করবে। পৃথিবীর কোনো নির্বাচনে শতভাগ ভোট পড়ে না, সাধারণত ৭০-৮০ শতাংশ ভোটার উপস্থিত থাকেন। তারপরও অতিরিক্ত ব্যালট রাখায় সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী আব্দুর রশিদ জিতুর পোলিং এজেন্ট মেহেদী হাসান বলেন, “যত সুষ্ঠু নির্বাচনই হোক, ৮০ ভাগের বেশি ভোট পড়ার সম্ভাবনা নেই। অতিরিক্ত ব্যালট রাখা প্রশাসনের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকা উচিত।”

বাগছাসের জিএস প্রার্থী আবু তৌহিদ মো. সিয়াম অভিযোগ করেন, “শুধু অতিরিক্ত ব্যালট নয়, শিবিরসহ কিছু প্রার্থীকে বাড়তি সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এতে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।”

সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থী আরিফুল্লাহ আদিব বলেন, “শহীদ সালাম-বরকত হলে শতাধিক অতিরিক্ত ব্যালট রাখা হয়েছে কার স্বার্থে? কমিশনকে প্রশ্ন করেছি, কিন্তু স্পষ্ট কোনো জবাব পাইনি।”

নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা

রিটার্নিং কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন পর ভোট হওয়ায় অনেক ভোটার নতুন। কেউ ভুল করলে যেন পুনরায় ভোট দিতে পারে, সে কারণেই অতিরিক্ত ব্যালট রাখা হয়েছে।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলের প্রাধ্যক্ষ ও নির্বাচন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. খো. লুত্ফুল এলাহী বলেন, “ভুল ব্যালট বাতিল করে নতুন ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখতেই বাড়তি ব্যালট দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের কারচুপির সুযোগ নেই। অতিরিক্ত যেগুলো থাকবে, সেগুলো ফেরত যাবে।”

রিটার্নিং কর্মকর্তা মওদুদ আহমেদ বলেন, “আমাদের কাছে কিছু বেশি ব্যালট এসেছে। বিষয়টি কমিশনকে জানানো হয়েছে। তারা নিয়ে যাবে। এখন পর্যন্ত কাউকে দ্বিতীয়বার ব্যালট দিতে হয়নি।”

মাঠের চিত্র

শহীদ সালাম-বরকত হলে দুপুরে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। বৃষ্টির কারণে শুরুতে ভোটগ্রহণ কিছুটা ধীর হলেও পরে স্বাভাবিক গতি ফিরে আসে।

ভোটারদের অনেকে বলছেন, ব্যালট পেপার অতিরিক্ত রাখা কেন, এ প্রশ্নের উত্তর নির্বাচন কমিশনের স্পষ্টভাবে দেওয়া দরকার।