Dhaka ১০:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
বাদ পড়া ৪০ জনকে নিয়োগ দিয়ে ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের প্রজ্ঞাপন জারি ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলনের সুযোগ নেই, বিচারের মুখোমুখি করতে হবে’ দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি, তার আগের শনিবার অফিস খোলা দুর্গাপূজা উপলক্ষে শপিংমল-মার্কেট রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটির প্রস্তাব অনুমোদন পত্নীতলায় ১৩০ ট্যাপেন্টাডলসহ যুবক গ্রেফতার রাণীনগরে সরকারি চাল জব্দের সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিককে হুমকি-লাঞ্ছিতের অভিযোগ রাজবাড়ীতে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে পাঁচ গুণী শিক্ষক সংবর্ধিত রাজবাড়ীতে বিশ্ব বসতি দিবসে আলোচনা সভা শিক্ষকতাকে মেধাবীদের প্রথম পছন্দের পেশা করতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

লন্ডনে ড. ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান টিউলিপ সিদ্দিক

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৪:৪৭:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ জুন ২০২৫
  • / 90

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে লন্ডনে সাক্ষাৎ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন টিউলিপ সিদ্দিক। এ লক্ষ্যে তিনি ড. ইউনূসকে একটি চিঠিও পাঠিয়েছেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ড. ইউনূসের লন্ডন সফরের সময় টিউলিপ এই সাক্ষাৎ চান। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, তার বিরুদ্ধে ঢাকার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযোগ মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

দুদকের দাবি, টিউলিপ বা তার মা বাংলাদেশে একটি ৭,২০০ বর্গফুট আয়তনের জমি ‘ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রভাব খাটিয়ে’ পেয়েছেন। এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে টিউলিপ বলেন, তার বা তার পরিবারের বাংলাদেশে কোনো আর্থিক স্বার্থ নেই এবং তিনি কখনোই এমন জমির মালিক ছিলেন না।

চিঠিতে টিউলিপ আরও জানান, ড. ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ হলে তার খালা শেখ হাসিনার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার সুযোগ পাবেন বলে মনে করেন।

টিউলিপ বলেন, তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিক, লন্ডনে জন্মেছেন এবং গত এক দশক ধরে হ্যাম্পস্টেড ও হাইগেটের মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশ তার হৃদয়ের খুব কাছের হলেও, তার জীবন গড়ে উঠেছে যুক্তরাজ্যে।

তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ তার আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ না করে এলোমেলো একটি ঠিকানায় নোটিশ পাঠাচ্ছে এবং গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ ফাঁস করছে। এমনকি প্রতিটি পদক্ষেপ আগে মিডিয়ায় প্রকাশ পাচ্ছে, অথচ তার আইনজীবীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হচ্ছে না।

টিউলিপের দাবি, তিনি বাংলাদেশের কোনো আদালত থেকে হাজিরার নির্দেশ বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়ে জানেন না। অথচ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হচ্ছে, যা তিনি একটি ‘কল্পিত তদন্ত’ বলেই মনে করছেন।

এদিকে, টিউলিপের খালা ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন আত্মীয়ের বিরুদ্ধেও বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত চলছে।

এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ছড়ানো অপপ্রচার হিসেবে বর্ণনা করে টিউলিপ জানান, এসব বিতর্ক যাতে ব্রিটিশ সরকারে বা সংসদীয় দায়িত্বে প্রভাব না ফেলে, সে চিন্তা থেকে তিনি নিজেই স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য, ড. মুহাম্মদ ইউনূস ৯ জুন লন্ডন সফরে যাচ্ছেন। এ সফরে তিনি রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছ থেকে ‘কিং চার্লস হারমনি অ্যাওয়ার্ড–২০২৫’ গ্রহণ করবেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক থিংক ট্যাংক চ্যাথাম হাউসে অংশ নেওয়া এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে তার।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

লন্ডনে ড. ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান টিউলিপ সিদ্দিক

প্রকাশের সময় : ০৪:৪৭:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ জুন ২০২৫

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে লন্ডনে সাক্ষাৎ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন টিউলিপ সিদ্দিক। এ লক্ষ্যে তিনি ড. ইউনূসকে একটি চিঠিও পাঠিয়েছেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ড. ইউনূসের লন্ডন সফরের সময় টিউলিপ এই সাক্ষাৎ চান। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, তার বিরুদ্ধে ঢাকার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযোগ মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

দুদকের দাবি, টিউলিপ বা তার মা বাংলাদেশে একটি ৭,২০০ বর্গফুট আয়তনের জমি ‘ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রভাব খাটিয়ে’ পেয়েছেন। এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে টিউলিপ বলেন, তার বা তার পরিবারের বাংলাদেশে কোনো আর্থিক স্বার্থ নেই এবং তিনি কখনোই এমন জমির মালিক ছিলেন না।

চিঠিতে টিউলিপ আরও জানান, ড. ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ হলে তার খালা শেখ হাসিনার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার সুযোগ পাবেন বলে মনে করেন।

টিউলিপ বলেন, তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিক, লন্ডনে জন্মেছেন এবং গত এক দশক ধরে হ্যাম্পস্টেড ও হাইগেটের মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশ তার হৃদয়ের খুব কাছের হলেও, তার জীবন গড়ে উঠেছে যুক্তরাজ্যে।

তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ তার আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ না করে এলোমেলো একটি ঠিকানায় নোটিশ পাঠাচ্ছে এবং গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ ফাঁস করছে। এমনকি প্রতিটি পদক্ষেপ আগে মিডিয়ায় প্রকাশ পাচ্ছে, অথচ তার আইনজীবীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হচ্ছে না।

টিউলিপের দাবি, তিনি বাংলাদেশের কোনো আদালত থেকে হাজিরার নির্দেশ বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়ে জানেন না। অথচ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হচ্ছে, যা তিনি একটি ‘কল্পিত তদন্ত’ বলেই মনে করছেন।

এদিকে, টিউলিপের খালা ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন আত্মীয়ের বিরুদ্ধেও বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত চলছে।

এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ছড়ানো অপপ্রচার হিসেবে বর্ণনা করে টিউলিপ জানান, এসব বিতর্ক যাতে ব্রিটিশ সরকারে বা সংসদীয় দায়িত্বে প্রভাব না ফেলে, সে চিন্তা থেকে তিনি নিজেই স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য, ড. মুহাম্মদ ইউনূস ৯ জুন লন্ডন সফরে যাচ্ছেন। এ সফরে তিনি রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছ থেকে ‘কিং চার্লস হারমনি অ্যাওয়ার্ড–২০২৫’ গ্রহণ করবেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক থিংক ট্যাংক চ্যাথাম হাউসে অংশ নেওয়া এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে তার।