Dhaka ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
রানীনগরে কমিউনিটি পুলিশিং ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হেরে গেলেন ট্রাম্প, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রাখলো মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ১৫৯ বছরের পুরোনো আইন বাতিল, সংসদে জুয়া প্রতিরোধ আইন পাস জাবিতে ‘পলাশী থেকে বাংলাদেশ: ইতিহাসের শিক্ষা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ‘আর্জেন্টিনাকে বিদায় করবে কেপ ভার্দে’, ঘানার সেই তান্ত্রিকের ভবিষ্যদ্বাণী র‍্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি বাংলাদেশের মারুফা-নাহিদাদের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে জবি ছাত্রশিবিরের তিন দিনব্যাপী নবীনবরণ সম্পন্ন ঢাকাকে বাঁচাতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই : ডিসি ফরিদা গণমাধ্যমে প্রচার করা যাবে না তামাকপণ্যের বিজ্ঞাপন লেবানন থেকে দেশে ফেরার সুযোগ; আরও ১৭০ বাংলাদেশির এক্সিট ভিসা অনুমোদন

ঢাকাকে বাঁচাতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই : ডিসি ফরিদা

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৯:২২:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • / 6

ঢাকাকে আরও বাসযোগ্য, পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু সহনশীল নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানম।

তিনি বলেন, ঢাকাকে বাঁচাতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। একটি গাছ শুধু পরিবেশকে সবুজ করে না, এটি বিশুদ্ধ বাতাস, জীববৈচিত্র্য ও আগামী প্রজন্মের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করে।

মঙ্গলবার খাবারের বিরুলিয়ার খাগান এলাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে হল রুমে প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল সবুজ ঢাকার অঙ্গীকার, আজকের বৃক্ষ আগামীর নিশ্বাস।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফরিদা খানম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বায়ুদূষণ ও পরিবেশগত ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিককে বৃক্ষরোপণকে সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ হয় না। রোপণ করা প্রতিটি গাছের পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। একটি গাছ বাঁচানো মানে একটি জীবন, একটি পরিবার ও একটি সুস্থ পরিবেশকে বাঁচিয়ে রাখা।

ফরিদা খানম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, আবাসিক এলাকা এবং খালি জায়গাগুলোতে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করতে হবে। পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, একটি গবেষণায় দেখা গেছে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫৫০ লিটার অক্সিজেন গ্রহণ করেন। গড় আয়ু ৭০ বছর ধরা হলে, একজন মানুষের সারা জীবনে প্রয়োজন হয় প্রায় ১৪ লাখ লিটার অক্সিজেন। অন্যদিকে একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ বছরে গড়ে ৮২ হাজার ৬০০ লিটার অক্সিজেন উৎপাদন করে। সেই হিসেবে একজন মানুষের জীবনভর অক্সিজেনের চাহিদা পূরণে প্রয়োজন হয় প্রায় ১৭টি পূর্ণবয়স্ক গাছ।

তবে বাস্তবতা হলো, রোপণ করা সব গাছ পরিণত বয়সে পৌঁছায় না। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত জীবনে অন্তত ১০০টি গাছ রোপণ করা, যাতে অন্তত ১৭টি গাছ পূর্ণবয়স্ক হয়ে মানুষ ও পরিবেশের কল্যাণে অবদান রাখতে পারে।

ফরিদা খানম বলেন, বাংলাদেশে একটি আইসিইউ বেডে অক্সিজেন ও অন্যান্য চিকিৎসাসহ প্রতিদিনের ব্যয় প্রায় ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা, কখনো কখনো এরও বেশি। অথচ আমরা সুস্থ অবস্থায় প্রতিদিন যে বিপুল পরিমাণ অক্সিজেন গ্রহণ করি, তার বিশাল অংশের যোগান প্রকৃতি এবং আমাদের চারপাশের গাছপালা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দিয়ে থাকে।

তিনি আরও বলেন, অর্থ দিয়ে আইসিইউর অক্সিজেন কেনা সম্ভব। কিন্তু একটি পরিণত গাছ যে অক্সিজেন, ছায়া, শীতলতা, জীববৈচিত্র্যের আশ্রয় এবং পরিবেশগত সুরক্ষা প্রদান করে, তার প্রকৃত মূল্য কোনো অর্থেই নির্ধারণ করা যায় না।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ঢাকাকে বাঁচাতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই : ডিসি ফরিদা

প্রকাশের সময় : ০৯:২২:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

ঢাকাকে আরও বাসযোগ্য, পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু সহনশীল নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানম।

তিনি বলেন, ঢাকাকে বাঁচাতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। একটি গাছ শুধু পরিবেশকে সবুজ করে না, এটি বিশুদ্ধ বাতাস, জীববৈচিত্র্য ও আগামী প্রজন্মের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করে।

মঙ্গলবার খাবারের বিরুলিয়ার খাগান এলাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে হল রুমে প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল সবুজ ঢাকার অঙ্গীকার, আজকের বৃক্ষ আগামীর নিশ্বাস।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফরিদা খানম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বায়ুদূষণ ও পরিবেশগত ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিককে বৃক্ষরোপণকে সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ হয় না। রোপণ করা প্রতিটি গাছের পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। একটি গাছ বাঁচানো মানে একটি জীবন, একটি পরিবার ও একটি সুস্থ পরিবেশকে বাঁচিয়ে রাখা।

ফরিদা খানম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, আবাসিক এলাকা এবং খালি জায়গাগুলোতে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করতে হবে। পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, একটি গবেষণায় দেখা গেছে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫৫০ লিটার অক্সিজেন গ্রহণ করেন। গড় আয়ু ৭০ বছর ধরা হলে, একজন মানুষের সারা জীবনে প্রয়োজন হয় প্রায় ১৪ লাখ লিটার অক্সিজেন। অন্যদিকে একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ বছরে গড়ে ৮২ হাজার ৬০০ লিটার অক্সিজেন উৎপাদন করে। সেই হিসেবে একজন মানুষের জীবনভর অক্সিজেনের চাহিদা পূরণে প্রয়োজন হয় প্রায় ১৭টি পূর্ণবয়স্ক গাছ।

তবে বাস্তবতা হলো, রোপণ করা সব গাছ পরিণত বয়সে পৌঁছায় না। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত জীবনে অন্তত ১০০টি গাছ রোপণ করা, যাতে অন্তত ১৭টি গাছ পূর্ণবয়স্ক হয়ে মানুষ ও পরিবেশের কল্যাণে অবদান রাখতে পারে।

ফরিদা খানম বলেন, বাংলাদেশে একটি আইসিইউ বেডে অক্সিজেন ও অন্যান্য চিকিৎসাসহ প্রতিদিনের ব্যয় প্রায় ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা, কখনো কখনো এরও বেশি। অথচ আমরা সুস্থ অবস্থায় প্রতিদিন যে বিপুল পরিমাণ অক্সিজেন গ্রহণ করি, তার বিশাল অংশের যোগান প্রকৃতি এবং আমাদের চারপাশের গাছপালা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দিয়ে থাকে।

তিনি আরও বলেন, অর্থ দিয়ে আইসিইউর অক্সিজেন কেনা সম্ভব। কিন্তু একটি পরিণত গাছ যে অক্সিজেন, ছায়া, শীতলতা, জীববৈচিত্র্যের আশ্রয় এবং পরিবেশগত সুরক্ষা প্রদান করে, তার প্রকৃত মূল্য কোনো অর্থেই নির্ধারণ করা যায় না।