Dhaka ০৪:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
১১ মাসের কারাজীবনে বদলে গেছেন অভিনেতা সিদ্দিক গুলশানে মদ্যপ অবস্থায় ‘গণউপদ্রব’ সৃষ্টির অভিযোগে আটক ১৯ ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে দ্বন্দ্ব স্পষ্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সরানো হতে পারে? বদলগাছীতে ডিআইজি’র সফর, আইন-শৃঙ্খলা ও সেবার মান উন্নয়নে নির্দেশনা অং সান সুচি ৫ বছর পর কারামুক্ত, থাকবেন গৃহবন্দি যুদ্ধবিরতির সুযোগে লুকানো অস্ত্র বের করছে ইরান, সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র বৃষ্টির বাগড়ায় সরবরাহ কম, বেগুন-কাঁকরোলের দামে সেঞ্চুরি বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা প্রতিবেশী ১১ দেশের সঙ্গে সামরিক মহড়া করছে ভারত, তালিকায় নেই বাংলাদেশ ২২৬ পেরিয়ে যাব, বিজেপি টাকা দিয়ে বুথফেরত সমীক্ষা দেখিয়েছে : মমতা

যুদ্ধবিরতির সুযোগে লুকানো অস্ত্র বের করছে ইরান, সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০২:০৮:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
  • / 10

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে ইরান তাদের মাটির নিচে লুকানো এবং বিমান হামলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধারে জোর তৎপরতা শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, ট্রাম্প প্রশাসন যদি আবারও সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টা হামলা চালানোর জন্য ইরান দ্রুত তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে চাইছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিজের জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। হোয়াইট হাউজ সূত্রের খবর, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিষ্ক্রিয় করার সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপসহ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এই বৈঠকে প্রেসিডেন্টকে সামরিক বিকল্প ও ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত করবেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ট্রাম্প পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে জানা গেছে।

ট্রাম্পের আসন্ন চীন সফর এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলছে। মে মাসের মাঝামাঝি বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় এই সফরকে ‘অগ্রাধিকার’ দিচ্ছে হোয়াইট হাউজ। এর আগে যুদ্ধের কারণে একবার এই সফর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা দ্বিতীয়বার পেছাতে আগ্রহী নয় প্রশাসন।

গত ১৬ এপ্রিল পেন্টাগনে দেওয়া এক বক্তব্যে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, আপনারা যা করছেন আমরা সবই জানি। ধ্বংসস্তূপ থেকে আপনারা অবশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র আর লঞ্চারগুলো খুঁড়ে বের করছেন, কিন্তু এগুলো প্রতিস্থাপনের কোনো ক্ষমতা আপনাদের নেই। আপনারা যখন গর্ত খুঁড়ছেন, আমরা তখন আরও শক্তিশালী হচ্ছি।

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অ্যানা কেলি এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ট্রাম্পের সব লক্ষ্য অর্জন করেছে। তিনি বলেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে, তাদের উৎপাদন কেন্দ্রগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের নৌবাহিনী এখন পানির নিচে।

তবে হোয়াইট হাউজের এই দাবির সঙ্গে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের কিছুটা অমিল পাওয়া যাচ্ছে। এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের আগে ইরান তাদের অনেক অস্ত্র সরিয়ে ফেলেছিল বা ছদ্মবেশে লুকিয়ে রেখেছিল। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরানের বিমানবাহিনীর অর্ধেকের বেশি বিমান এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ-সরঞ্জামের একটি বড় অংশ এখনো অক্ষত আছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে নৌ অবরোধ আরোপ করে। পরে ৮ এপ্রিল অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও আলোচনায় এখনো কোনো চূড়ান্ত অগ্রগতি হয়নি।

 

 

 

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

যুদ্ধবিরতির সুযোগে লুকানো অস্ত্র বের করছে ইরান, সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশের সময় : ০২:০৮:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে ইরান তাদের মাটির নিচে লুকানো এবং বিমান হামলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধারে জোর তৎপরতা শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, ট্রাম্প প্রশাসন যদি আবারও সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টা হামলা চালানোর জন্য ইরান দ্রুত তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে চাইছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিজের জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। হোয়াইট হাউজ সূত্রের খবর, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিষ্ক্রিয় করার সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপসহ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এই বৈঠকে প্রেসিডেন্টকে সামরিক বিকল্প ও ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত করবেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ট্রাম্প পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে জানা গেছে।

ট্রাম্পের আসন্ন চীন সফর এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলছে। মে মাসের মাঝামাঝি বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় এই সফরকে ‘অগ্রাধিকার’ দিচ্ছে হোয়াইট হাউজ। এর আগে যুদ্ধের কারণে একবার এই সফর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা দ্বিতীয়বার পেছাতে আগ্রহী নয় প্রশাসন।

গত ১৬ এপ্রিল পেন্টাগনে দেওয়া এক বক্তব্যে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, আপনারা যা করছেন আমরা সবই জানি। ধ্বংসস্তূপ থেকে আপনারা অবশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র আর লঞ্চারগুলো খুঁড়ে বের করছেন, কিন্তু এগুলো প্রতিস্থাপনের কোনো ক্ষমতা আপনাদের নেই। আপনারা যখন গর্ত খুঁড়ছেন, আমরা তখন আরও শক্তিশালী হচ্ছি।

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অ্যানা কেলি এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ট্রাম্পের সব লক্ষ্য অর্জন করেছে। তিনি বলেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে, তাদের উৎপাদন কেন্দ্রগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের নৌবাহিনী এখন পানির নিচে।

তবে হোয়াইট হাউজের এই দাবির সঙ্গে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের কিছুটা অমিল পাওয়া যাচ্ছে। এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের আগে ইরান তাদের অনেক অস্ত্র সরিয়ে ফেলেছিল বা ছদ্মবেশে লুকিয়ে রেখেছিল। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরানের বিমানবাহিনীর অর্ধেকের বেশি বিমান এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ-সরঞ্জামের একটি বড় অংশ এখনো অক্ষত আছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে নৌ অবরোধ আরোপ করে। পরে ৮ এপ্রিল অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও আলোচনায় এখনো কোনো চূড়ান্ত অগ্রগতি হয়নি।