ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে দ্বন্দ্ব স্পষ্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সরানো হতে পারে?
- প্রকাশের সময় : ০৪:১৩:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
- / 5
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনা অচল হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ভেতরে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে অপসারণের কথা ভাবছেন বলে একাধিক সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে।
ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ অভিযোগ করেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি নিজ দপ্তরকে পাশ কাটিয়ে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর নির্দেশনা অনুসরণ করছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পারমাণবিক ও যুদ্ধবিরতি–সংক্রান্ত আলোচনায় তিনি প্রেসিডেন্টকে না জানিয়ে আইআরজিসি নেতৃত্বের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রগুলোর দাবি, গত দুই সপ্তাহে আরাগচি কার্যত সরকারের পররাষ্ট্র নীতি বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং আইআরজিসি কমান্ডার আহমদ ভাহিদির একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীর মতো ভূমিকা পালন করেছেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান নাকি ঘনিষ্ঠদের জানিয়েছেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে তিনি আরাগচিকে বরখাস্ত করবেন।
তবে এ বিষয়ে এখনো ইরান সরকার আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি এবং স্বাধীনভাবে এসব অভিযোগ যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এনডিটিভি জানিয়েছে, তারা এই দাবির সত্যতা আলাদাভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার স্থবিরতার একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি ১৫ এপ্রিল ইসরায়েলি দৈনিক ইসরায়েল হায়োম জানায়, ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানি প্রতিনিধিদলের পূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা না থাকায় মার্কিন কর্মকর্তারা হতাশ হন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আলোচনায় ফেরার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের একটি শর্ত ছিল—ইরানি প্রতিনিধিদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা থাকতে হবে। কিন্তু দুই শীর্ষ বিপ্লবী গার্ড কর্মকর্তা রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত দিতে বাধা দেন।
এই পরিস্থিতিতে পেজেশকিয়ান নাকি গালিবাফকে নেতৃত্বের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলে দেশকে ‘সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক বিপর্যয়’ থেকে রক্ষার উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের এই রাজনৈতিক–সামরিক টানাপোড়েন এখন দেশের কূটনৈতিক ভবিষ্যতকেই অনিশ্চিত করে তুলছে।


















