শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:

জিম্বাবুয়ের হয়ে টেস্ট অভিষিক্ত ‘পাকিস্তানি পাইলট’ নাকভি

স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৩০:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • / 7
জিম্বাবুয়ের হয়ে টেস্ট অভিষিক্ত ‘পাকিস্তানি পাইলট’ নাকভি

জন্ম বেলজিয়ামে, বেড়ে ওঠা অস্ট্রেলিয়ায়, আর পারিবারিক শিকড় বিস্তৃত ভারত ও পাকিস্তানে। জীবনের পথে একেক সময় হেঁটেছেন একেক স্বপ্নের পেছনে—একসময় অর্জন করেছিলেন বাণিজ্যিক বিমান চালনার লাইসেন্সও। সেই বহুমুখী পরিচয়ের ক্রিকেটার আন্তুম নাকভি অবশেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আকাশে ডানা মেলতে যাচ্ছেন। সব আইনি ও নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে জিম্বাবুয়ের জাতীয় টেস্ট দলে স্থান করে নিয়েছেন এই ২৭ বছর বয়সী অলরাউন্ডার।

খেলার মাঠের প্রেক্ষাপট ও মূল মুহূর্ত

শারজাহতে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথমটির একাদশে জায়গা পেয়েছেন নাকভি। বেলজিয়ামে জন্ম নেওয়া প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে বড় সংস্করণের ক্রিকেটে ইতিহাস গড়েছেন তিনি।

এরপর ২০২৫ সালের অক্টোবরে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্ট দলেও তাকে রাখা হয়েছিল, কিন্তু প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের অভাবে সেবারও অপেক্ষা বাড়ে। এমনকি ২০২৬ সালের জুন মাসেও জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট (জেডসি) তার চূড়ান্ত অনুমতি পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল। বুধবার জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট নিশ্চিত করেছে, আইসিসির যোগ্যতার সব মানদণ্ড পূরণ করায় নাকভির খেলার বিষয়ে আর কোনো আইনি বাধা নেই।

ঘরোয়া ক্রিকেটে রান ও উইকেটের পাহাড় গড়েই জাতীয় দলের দরজা খুলেছেন নাকভি। ২০২৪ সালে মিড-ওয়েস্ট রাইনাসের হয়ে তাসকার্সের বিরুদ্ধে অপরাজিত ৩০০ রানের অসাধারণ একটি ইনিংস খেলেন তিনি, যা জিম্বাবুয়ের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরির রেকর্ড। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২৪টি ম্যাচে তার ব্যাটিং গড় ৬০.৩৫, যেখানে রয়েছে ৬টি শতক ও ৮টি অর্ধশতক। পাশাপাশি অফ স্পিনে ঝুলিতে পুরেছেন ৬২টি উইকেট। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটেও তার রেকর্ড উজ্জ্বল—২৮ ম্যাচে ৫৩.৪০ গড়ে রান করার পাশাপাশি তুলে নিয়েছেন ৩৪টি উইকেট। আর টি-টোয়েন্টিতে ২০ ম্যাচে তার ব্যাটিং গড় ৩২.৩৫ ও উইকেট সংখ্যা ২০টি।

ম্যাচের বিশ্লেষণ ও পরবর্তী প্রতিক্রিয়া

বাণিজ্যিক বিমান চালকের লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও নাকভি শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন। অস্ট্রেলিয়ায় থাকাকালীন ক্রিকেট ও বিমান চালনার তাল মেলানো কঠিন হয়ে পড়লে জিম্বাবুয়ে জাতীয় দলের সাবেক অলরাউন্ডার সলোমন মিরের পরামর্শে ২০২৩ সালে জিম্বাবুয়ের ঘরোয়া ক্রিকেটে পা রাখেন তিনি। নাকভির এই সাফল্য অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে তার চার বছরের ছোট ভাই আওয়াদ নাকভিকেও, যিনি ইতোমধ্যে জিম্বাবুয়ের ঘরোয়া ক্রিকেটে ১৬ ম্যাচে ৪২.১৫ গড়ে রান করে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

জিম্বাবুয়ের হয়ে টেস্ট অভিষিক্ত ‘পাকিস্তানি পাইলট’ নাকভি

প্রকাশের সময় : ০৯:৩০:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

জন্ম বেলজিয়ামে, বেড়ে ওঠা অস্ট্রেলিয়ায়, আর পারিবারিক শিকড় বিস্তৃত ভারত ও পাকিস্তানে। জীবনের পথে একেক সময় হেঁটেছেন একেক স্বপ্নের পেছনে—একসময় অর্জন করেছিলেন বাণিজ্যিক বিমান চালনার লাইসেন্সও। সেই বহুমুখী পরিচয়ের ক্রিকেটার আন্তুম নাকভি অবশেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আকাশে ডানা মেলতে যাচ্ছেন। সব আইনি ও নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে জিম্বাবুয়ের জাতীয় টেস্ট দলে স্থান করে নিয়েছেন এই ২৭ বছর বয়সী অলরাউন্ডার।

খেলার মাঠের প্রেক্ষাপট ও মূল মুহূর্ত

শারজাহতে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথমটির একাদশে জায়গা পেয়েছেন নাকভি। বেলজিয়ামে জন্ম নেওয়া প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে বড় সংস্করণের ক্রিকেটে ইতিহাস গড়েছেন তিনি।

এরপর ২০২৫ সালের অক্টোবরে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্ট দলেও তাকে রাখা হয়েছিল, কিন্তু প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের অভাবে সেবারও অপেক্ষা বাড়ে। এমনকি ২০২৬ সালের জুন মাসেও জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট (জেডসি) তার চূড়ান্ত অনুমতি পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল। বুধবার জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট নিশ্চিত করেছে, আইসিসির যোগ্যতার সব মানদণ্ড পূরণ করায় নাকভির খেলার বিষয়ে আর কোনো আইনি বাধা নেই।

ঘরোয়া ক্রিকেটে রান ও উইকেটের পাহাড় গড়েই জাতীয় দলের দরজা খুলেছেন নাকভি। ২০২৪ সালে মিড-ওয়েস্ট রাইনাসের হয়ে তাসকার্সের বিরুদ্ধে অপরাজিত ৩০০ রানের অসাধারণ একটি ইনিংস খেলেন তিনি, যা জিম্বাবুয়ের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরির রেকর্ড। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২৪টি ম্যাচে তার ব্যাটিং গড় ৬০.৩৫, যেখানে রয়েছে ৬টি শতক ও ৮টি অর্ধশতক। পাশাপাশি অফ স্পিনে ঝুলিতে পুরেছেন ৬২টি উইকেট। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটেও তার রেকর্ড উজ্জ্বল—২৮ ম্যাচে ৫৩.৪০ গড়ে রান করার পাশাপাশি তুলে নিয়েছেন ৩৪টি উইকেট। আর টি-টোয়েন্টিতে ২০ ম্যাচে তার ব্যাটিং গড় ৩২.৩৫ ও উইকেট সংখ্যা ২০টি।

ম্যাচের বিশ্লেষণ ও পরবর্তী প্রতিক্রিয়া

বাণিজ্যিক বিমান চালকের লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও নাকভি শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন। অস্ট্রেলিয়ায় থাকাকালীন ক্রিকেট ও বিমান চালনার তাল মেলানো কঠিন হয়ে পড়লে জিম্বাবুয়ে জাতীয় দলের সাবেক অলরাউন্ডার সলোমন মিরের পরামর্শে ২০২৩ সালে জিম্বাবুয়ের ঘরোয়া ক্রিকেটে পা রাখেন তিনি। নাকভির এই সাফল্য অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে তার চার বছরের ছোট ভাই আওয়াদ নাকভিকেও, যিনি ইতোমধ্যে জিম্বাবুয়ের ঘরোয়া ক্রিকেটে ১৬ ম্যাচে ৪২.১৫ গড়ে রান করে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন।