Dhaka ০৩:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
হাম উপসর্গে একদিনে আরো ৯ জনের মৃত্যু শার্শায় এক সপ্তাহে শিশুসহ ২২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত কোটালীপাড়ায় ঐতিহ্যবাহী ভট্টেরবাগান মন্দির কমিটি গঠন এরশাদ শিকদারের সহযোগী ২৭ বছর পর গ্রেপ্তার সালমান মুক্তাদিরের ঢালাও অভিযোগের কোনো মানে নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা-লুট: ৯ জন গ্রেফতার, উদ্ধার দুই ট্রাক মালামাল গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলের হাতে ২৬২ ফিলিস্তিনি সাংবাদিক নিহত নিয়োগপত্রের দাবিতে শাহবাগে প্রাথমিকের নিয়োগবঞ্চিতদের অবস্থান জাতিসংঘকে ‘রাজনৈতিক হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার বন্ধের আহ্বান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঠাকুরগাঁও-১ উপ-নির্বাচনের ভোট সুষ্ঠু করতে সব ধরনের ব্যবস্থা : সিইসি

জমির মালিকানা নিয়ে দু’পক্ষের বিরোধের বলি সালমানের স্টুডিও : দাবি পুলিশের

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০১:৫৮:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 5

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় নতুন তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের মধ্যে পড়ে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের ক্যান্টনমেন্ট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার নাজমুল হক। হামলাকারীরা স্টুডিওটি সালমান মুক্তাদিরের এ বিষয়টি জানত না বলেও দাবি করেন তিনি।

শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান নাজমুল হক।

তিনি বলেন, নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের সঙ্গে পাশের জমির মালিকের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। এখানে চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটেনি। সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও টার্গেট ছিল না।

তিনি আরও বলেন, এই দুই পক্ষের ঝামেলার মধ্যে পড়ে গেছে সালমান মুক্তাদি সাহেবের এই স্টুডিও। উনারাও হয়তো জানে না, ওনার স্টুডিও এটা। তারা ওই লোকজন নিয়ে এসে ভাঙচুর করছে।”

তিনি বলেন, এ ঘটনা মিডিয়াতে অন্যভাবে চলে আসছে। যেটা হয়েছে সেটা অনাকাঙ্ক্ষিত। ওইটা নিয়ে আমরা কাজ করছি।

হামলার ঘটনায় কেউ আটক আছে কি না জানতে চাইলে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, “আমরা ওইখান থেকে অপারেশন করে এখন পর্যন্ত তিনজনকে পেয়েছি। দেশি অস্ত্রসহ তাদের আটক করা হয়েছে।”

এর আগে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সালমান মুক্তাদিরের অভিযোগ, ‘বিএনপির লোকজন তার কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রতিশোধ হিসেবে তার স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।’

এদিকে ঘটনার সময় ঢাকায় ছিলেন না সালমান মুক্তাদির। খবর পেয়ে ফ্লাইটে দ্রুত ঢাকায় ছুটে আসেন তিনি। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্টুডিওর ক্ষয়ক্ষতি দেখেন এবং ফেসবুক লাইভে বিষয়টি তুলে ধরেন।

সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘আমাদের স্টুডিও ধ্বংস হয়ে গেছে’।

তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে সৃজনশীল কাজ ও শিল্প-সংস্কৃতির জন্য এমন স্টুডিও খুব কমই ছিল এবং হামলায় সেটি ধ্বংস করা হয়েছে।

স্টুডিওর এক কর্মকর্তা জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রায় এক থেকে দেড়শ লোক হঠাৎ স্টুডিওতে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে। এ সময় তাদের কয়েকজনের হাতে চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে দাবি করেন তিনি। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক দেখে স্টুডিওতে থাকা কর্মকর্তারা টয়লেটে গিয়ে আত্মগোপন করেন। হামলাকারীরা সেখানেও গিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

হামলার ঘটনায় বিএনপির লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ করে সালমান মুক্তাদির বলেন, “বিএনপির লোকজন যারা করছে, এটা তোমাদের চাঁদাবাজি। কেন তোমরা আমার ড্রিমটা নষ্ট করছো?” তবে তার এই অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ফেসবুক লাইভে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের উদ্দেশ্যে সালমান মুক্তাদিরকে বলতে শোনা যায়, তোমরা রিলাক্স। এটা কিছুই না। আমরা এখানেই কাজ করব।

তিনি বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে তার সঙ্গে কাজ করা অনেক তরুণ-তরুণীকে তিনি ভাই-বোনের মতো পেয়েছেন। স্টুডিওটি তাদের কর্মসংস্থান ও সৃজনশীল কাজের জায়গা হয়ে উঠেছিল। হামলার পরও কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানান তিনি।

সালমান মুক্তাদির বলেন, আমি থেমে থাকব না। আমি আমার প্যাশন চালিয়ে যাব। দেশ থেকে না হলে দেশের বাইরে থেকে চালিয়ে যাব।

হামলার ঘটনায় নিজের স্ত্রী, সহকর্মী ও স্টুডিও নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, স্টুডিওটি নির্মাণের সময় তার স্ত্রী প্রতিদিন সেখানে এসে কাজ তদারকি করতেন। সহকর্মীদের অনেকে রাত জেগে নিরাপত্তার কাজও করেছেন।

সালমান মুক্তাদির আরও বলেন, এই ঘটনায় তিনি ভয় পেয়ে সৃজনশীল কাজ বন্ধ করবেন না। তার ভাষায়, “আমি এর থেকে বড় কিছু করব।” তিনি কর্মীদেরও স্বাভাবিক হয়ে আবার কাজে ফেরার আহ্বান জানান।

ফেসবুক লাইভে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে উদ্দেশ করে সালমান মুক্তাদির বলেন, এই ভিডিওটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য বানাচ্ছি। বাংলাদেশে এটা খুবই স্বাভাবিক। এ দেশে কেউ কোনো দলের তোষামোদি না করলে তার নিরাপত্তা অনিশ্চিত।

আরেক ভিডিওতে বিএনপির কর্মীদের উদ্দেশ্যে তাকে বলতে শোনা যায়, চাঁদাবাজি করো আর যাই করো, তোমাদের অবস্থান এটুকুই থাকবে। এর চেয়ে বেশি কিছু করার সাধ্য তোমাদের নাই।

হামলার ঘটনায় মামলা করার কথাও জানিয়েছেন সালমান মুক্তাদির। তবে মামলার ধরন, ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এবং হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

জমির মালিকানা নিয়ে দু’পক্ষের বিরোধের বলি সালমানের স্টুডিও : দাবি পুলিশের

প্রকাশের সময় : ০১:৫৮:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় নতুন তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের মধ্যে পড়ে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের ক্যান্টনমেন্ট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার নাজমুল হক। হামলাকারীরা স্টুডিওটি সালমান মুক্তাদিরের এ বিষয়টি জানত না বলেও দাবি করেন তিনি।

শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান নাজমুল হক।

তিনি বলেন, নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের সঙ্গে পাশের জমির মালিকের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। এখানে চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটেনি। সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও টার্গেট ছিল না।

তিনি আরও বলেন, এই দুই পক্ষের ঝামেলার মধ্যে পড়ে গেছে সালমান মুক্তাদি সাহেবের এই স্টুডিও। উনারাও হয়তো জানে না, ওনার স্টুডিও এটা। তারা ওই লোকজন নিয়ে এসে ভাঙচুর করছে।”

তিনি বলেন, এ ঘটনা মিডিয়াতে অন্যভাবে চলে আসছে। যেটা হয়েছে সেটা অনাকাঙ্ক্ষিত। ওইটা নিয়ে আমরা কাজ করছি।

হামলার ঘটনায় কেউ আটক আছে কি না জানতে চাইলে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, “আমরা ওইখান থেকে অপারেশন করে এখন পর্যন্ত তিনজনকে পেয়েছি। দেশি অস্ত্রসহ তাদের আটক করা হয়েছে।”

এর আগে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সালমান মুক্তাদিরের অভিযোগ, ‘বিএনপির লোকজন তার কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রতিশোধ হিসেবে তার স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।’

এদিকে ঘটনার সময় ঢাকায় ছিলেন না সালমান মুক্তাদির। খবর পেয়ে ফ্লাইটে দ্রুত ঢাকায় ছুটে আসেন তিনি। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্টুডিওর ক্ষয়ক্ষতি দেখেন এবং ফেসবুক লাইভে বিষয়টি তুলে ধরেন।

সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘আমাদের স্টুডিও ধ্বংস হয়ে গেছে’।

তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে সৃজনশীল কাজ ও শিল্প-সংস্কৃতির জন্য এমন স্টুডিও খুব কমই ছিল এবং হামলায় সেটি ধ্বংস করা হয়েছে।

স্টুডিওর এক কর্মকর্তা জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রায় এক থেকে দেড়শ লোক হঠাৎ স্টুডিওতে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে। এ সময় তাদের কয়েকজনের হাতে চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে দাবি করেন তিনি। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক দেখে স্টুডিওতে থাকা কর্মকর্তারা টয়লেটে গিয়ে আত্মগোপন করেন। হামলাকারীরা সেখানেও গিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

হামলার ঘটনায় বিএনপির লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ করে সালমান মুক্তাদির বলেন, “বিএনপির লোকজন যারা করছে, এটা তোমাদের চাঁদাবাজি। কেন তোমরা আমার ড্রিমটা নষ্ট করছো?” তবে তার এই অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ফেসবুক লাইভে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের উদ্দেশ্যে সালমান মুক্তাদিরকে বলতে শোনা যায়, তোমরা রিলাক্স। এটা কিছুই না। আমরা এখানেই কাজ করব।

তিনি বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে তার সঙ্গে কাজ করা অনেক তরুণ-তরুণীকে তিনি ভাই-বোনের মতো পেয়েছেন। স্টুডিওটি তাদের কর্মসংস্থান ও সৃজনশীল কাজের জায়গা হয়ে উঠেছিল। হামলার পরও কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানান তিনি।

সালমান মুক্তাদির বলেন, আমি থেমে থাকব না। আমি আমার প্যাশন চালিয়ে যাব। দেশ থেকে না হলে দেশের বাইরে থেকে চালিয়ে যাব।

হামলার ঘটনায় নিজের স্ত্রী, সহকর্মী ও স্টুডিও নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, স্টুডিওটি নির্মাণের সময় তার স্ত্রী প্রতিদিন সেখানে এসে কাজ তদারকি করতেন। সহকর্মীদের অনেকে রাত জেগে নিরাপত্তার কাজও করেছেন।

সালমান মুক্তাদির আরও বলেন, এই ঘটনায় তিনি ভয় পেয়ে সৃজনশীল কাজ বন্ধ করবেন না। তার ভাষায়, “আমি এর থেকে বড় কিছু করব।” তিনি কর্মীদেরও স্বাভাবিক হয়ে আবার কাজে ফেরার আহ্বান জানান।

ফেসবুক লাইভে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে উদ্দেশ করে সালমান মুক্তাদির বলেন, এই ভিডিওটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য বানাচ্ছি। বাংলাদেশে এটা খুবই স্বাভাবিক। এ দেশে কেউ কোনো দলের তোষামোদি না করলে তার নিরাপত্তা অনিশ্চিত।

আরেক ভিডিওতে বিএনপির কর্মীদের উদ্দেশ্যে তাকে বলতে শোনা যায়, চাঁদাবাজি করো আর যাই করো, তোমাদের অবস্থান এটুকুই থাকবে। এর চেয়ে বেশি কিছু করার সাধ্য তোমাদের নাই।

হামলার ঘটনায় মামলা করার কথাও জানিয়েছেন সালমান মুক্তাদির। তবে মামলার ধরন, ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এবং হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।