শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
ইমরান খানের জ্বর বদলে দিয়েছিল ওয়াকার ইউনিসের জীবন রহস্যময় প্রেমিককে নিয়ে পার্টিতে হাজির মালাইকা, কে এই হর্ষ মেহতা আজ টিভিতে যা দেখবেন (৭ নভেম্বর ২০২৬) ১ লাখ ডলারের বেশি বিদেশি বিনিয়োগ পেল বাংলাদেশি ব্লু-টেক স্টার্টআপ সিকুয়া শাহরুখ খান: প্রেম নয়, পুরুষের চোখের জলও সুন্দর হতে পারে হাসান ইতিহাস গড়ার পর বাংলাদেশের ৩ উইকেট হারানোর অস্বস্তি তাসকিন-হাসানের ঝাঁজের পর তিন পেসার না খেলানোর আক্ষেপ বিয়ে ঘিরে ট্রল, রাশমিকাকে নিয়ে সুখে আছেন জানালেন বিজয় এআই প্রযুক্তির সুফল পেতে কিছু ঝুঁকি মেনে নেওয়া যায়: স্যাম অল্টম্যান রিয়ালকে জেতালেন ভালভার্দে, ফেনারবাচের কাছে হেরে গেল লিভারপুল

ইমরান খানের জ্বর বদলে দিয়েছিল ওয়াকার ইউনিসের জীবন

স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৩০:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
  • / 2
ইমরান খানের জ্বর বদলে দিয়েছিল ওয়াকার ইউনিসের জীবন

জ্বর হলে মানুষ সাধারণত কী করে? লেপ মুড়ে শুয়ে থাকে, গরম স্যুপ খায়, আর রিমোটটা হাতে নিয়ে চ্যানেল পাল্টাতে থাকে। ইমরান খানও হয়তো তা-ই করছিলেন। তবে তাঁর জ্বরের দিনের চ্যানেল-বদলে পাকিস্তান ক্রিকেটের পরের দুই দশক পাল্টে গিয়েছিল।টিভিতে তখন সুপার উইলস কাপের একটা ম্যাচ। যাতে খেলছে ভারত ও পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটের দুই চ্যাম্পিয়ন দিল্লি ও ইউনাইটেড ব্যাংক। ফার্স্ট ক্লাসে মাত্র ৫-৬টা ম্যাচ খেলা এক রোগা কিশোর বেশ জোরে বল করছে। ওয়াকার ইউনিস নিজেই বলছেন, সেই সুযোগটা তিনি পেয়েছিলেন হঠাৎ করে। বাড়িতে বসে স্পেলটা দেখলেন অসুস্থ ইমরান।পরদিন ইমরান নিজেই হাজির মাঠে। জ্বর সম্ভবত তখনো পুরো যায়নি, কিন্তু কৌতূহল গেছে বহুদূর। কিছুক্ষণ বোলিং দেখলেন। তারপর সেই গাম্ভীর্যমাখা গলায় বললেন, ‘তুমি পাকিস্তানের হয়ে খেলার জন্য শারজা যাচ্ছ।’ব্যস, এটুকুই। কোনো ট্রায়াল নেই, কোনো নির্বাচক কমিটি নেই। একজন অধিনায়কের জ্বরো চোখ আর একটা বাক্য। ওয়াকারের বয়স তখন ১৭-১৮। অবিশ্বাস্য ব্যাপারটা তিনি এখনো ভোলেননি।

খেলার মাঠের প্রেক্ষাপট ও মূল মুহূর্ত

কথাগুলো ওয়াকার বলেছেন জিনিউজ ও আজতকের সাবেক সাংবাদিক শুভঙ্কর মিশ্রের জনপ্রিয় এক পডকাস্টে। যেখানে দুজনের কথা হয়েছে ইমরানকে নিয়ে, ওয়াসিম আকরামের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে, বুমরাকে নিয়ে, জাভেদ মিয়াঁদাদের সেই ছক্কা নিয়ে। শেষে এসেছে একটা র‍্যাপিড ফায়ার, যেখানে ওয়াকার ঝটপট এমন কিছু উত্তর দিয়েছেন, যা নিয়ে ক্রিকেট-আড্ডায় আরও দুই ঘণ্টা তর্ক জমানো যায়।

নব্বই দশকে পাকিস্তানের দুই মানিকজোড়। ওয়াসিম আকরাম ও ওয়াকার ইউনিস ছিলেন প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের ত্রাস। ওয়াকার বলছেন, জুটি বেঁধে বোলিং করলেও তাঁদের নিজেদের মধ্যে একটা অদৃশ্য প্রতিযোগিতা চলত, ‘আমাদের দুজনেরই দল থেকে বাদ পড়ার কোনো ভয় ছিল না, আসল প্রতিযোগিতা ছিল একে অন্যের সঙ্গে। তিনি ৪ উইকেট নিলে আমি চেষ্টা করতাম ৫ উইকেট নিতে। এই সুস্থ প্রতিদ্বন্দ্বিতা আমাদের দুজনকেই সেরাটা দিতে বাধ্য করত আর পাকিস্তান ক্রিকেটও এগিয়ে যেত তাতে।’

তবে ওয়াকার একটা জায়গায় হিসাব পরিষ্কার রেখেছেন। শেষ ওভারে ৬ রান বাঁচাতে হলে অধিনায়ক ওয়াকার কাকে বেছে নেবেন? প্রশ্ন শুনে বলেছেন, ‘অধিনায়ক হিসেবে আমি চোখ বন্ধ করে ওয়াসিম আকরামের ওপরই ভরসা রাখতাম।’প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রতিদ্বন্দ্বিতাই, কিন্তু ভরসার জায়গায় কোনো ফাঁকি নেই।

ম্যাচের বিশ্লেষণ ও পরবর্তী প্রতিক্রিয়া

শুভঙ্কর জানতে চেয়েছিলেন, জসপ্রীত বুমরাকে কি ‘ডানহাতি ওয়াসিম আকরাম’ বলা চলে? এই প্রশ্নে অনেক কিংবদন্তি পিছলে যান। ওয়াকার পিছলাননি, আবার পুরো ফাঁদেও পা দেননি। প্রথমে বললেন, দুই ভিন্ন যুগের বোলারদের সরাসরি তুলনা সম্ভব নয়।

তারপর এটাও বললেন, ‘টি-টুয়েন্টি ও ওয়ানডের মতো সাদা বলের ক্রিকেটে বুমরার মতো ইমপ্যাক্ট বোলার বিশ্ব ক্রিকেটে আর কেউ নেই। ভারতীয় অধিনায়ক কঠিন পরিস্থিতিতে যখনই তাঁর হাতে বল তুলে দেন, বুমরা প্রতিবারই ব্রেক থ্রু এনে দিয়ে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন।’মানে তুলনা না করেও ওয়াকার যা বলার বলে দিয়েছেন।

 ১৯৮৬ সালের শারজা। শেষ বলে চার রান দরকার। বোলার চেতন শর্মা। ব্যাটসম্যান জাভেদ মিয়াঁদাদ। ওয়াকার তখন ১৪ বছরের কিশোর, থাকেন শারজাতেই। অর্থাৎ ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম বিখ্যাত ছক্কাটা তিনি দেখেছেন একদম বাড়ির উঠানের মতো দূরত্ব থেকে। ওয়াকারের ভাষ্য, ওই একটা ছক্কা পাকিস্তান ক্রিকেটের মানসিকতা রাতারাতি বদলে দিয়েছিল। বললেন, ‘শেষ বলে চার দরকার, আর ছক্কা মেরে ম্যাচ জেতা, এমন ঘটনা বিশ্ব ক্রিকেট আগে দেখেনি। শটটা পাকিস্তানে নতুন জোয়ার আর ক্রিকেটে হিরোইজমের জন্ম দিয়েছিল।’যে শারজায় একদিন কিশোর দর্শক হয়ে ছক্কাটা দেখেছিলেন, সেই শারজার টিকিটই কয়েক বছর পর ইমরান খান ধরিয়ে দিলেন তাঁর হাতে। ইতিহাস মাঝেমধ্যে বেশ গুছিয়ে চিত্রনাট্য লেখে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ইমরান খানের জ্বর বদলে দিয়েছিল ওয়াকার ইউনিসের জীবন

প্রকাশের সময় : ০৮:৩০:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

জ্বর হলে মানুষ সাধারণত কী করে? লেপ মুড়ে শুয়ে থাকে, গরম স্যুপ খায়, আর রিমোটটা হাতে নিয়ে চ্যানেল পাল্টাতে থাকে। ইমরান খানও হয়তো তা-ই করছিলেন। তবে তাঁর জ্বরের দিনের চ্যানেল-বদলে পাকিস্তান ক্রিকেটের পরের দুই দশক পাল্টে গিয়েছিল।টিভিতে তখন সুপার উইলস কাপের একটা ম্যাচ। যাতে খেলছে ভারত ও পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটের দুই চ্যাম্পিয়ন দিল্লি ও ইউনাইটেড ব্যাংক। ফার্স্ট ক্লাসে মাত্র ৫-৬টা ম্যাচ খেলা এক রোগা কিশোর বেশ জোরে বল করছে। ওয়াকার ইউনিস নিজেই বলছেন, সেই সুযোগটা তিনি পেয়েছিলেন হঠাৎ করে। বাড়িতে বসে স্পেলটা দেখলেন অসুস্থ ইমরান।পরদিন ইমরান নিজেই হাজির মাঠে। জ্বর সম্ভবত তখনো পুরো যায়নি, কিন্তু কৌতূহল গেছে বহুদূর। কিছুক্ষণ বোলিং দেখলেন। তারপর সেই গাম্ভীর্যমাখা গলায় বললেন, ‘তুমি পাকিস্তানের হয়ে খেলার জন্য শারজা যাচ্ছ।’ব্যস, এটুকুই। কোনো ট্রায়াল নেই, কোনো নির্বাচক কমিটি নেই। একজন অধিনায়কের জ্বরো চোখ আর একটা বাক্য। ওয়াকারের বয়স তখন ১৭-১৮। অবিশ্বাস্য ব্যাপারটা তিনি এখনো ভোলেননি।

খেলার মাঠের প্রেক্ষাপট ও মূল মুহূর্ত

কথাগুলো ওয়াকার বলেছেন জিনিউজ ও আজতকের সাবেক সাংবাদিক শুভঙ্কর মিশ্রের জনপ্রিয় এক পডকাস্টে। যেখানে দুজনের কথা হয়েছে ইমরানকে নিয়ে, ওয়াসিম আকরামের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে, বুমরাকে নিয়ে, জাভেদ মিয়াঁদাদের সেই ছক্কা নিয়ে। শেষে এসেছে একটা র‍্যাপিড ফায়ার, যেখানে ওয়াকার ঝটপট এমন কিছু উত্তর দিয়েছেন, যা নিয়ে ক্রিকেট-আড্ডায় আরও দুই ঘণ্টা তর্ক জমানো যায়।

নব্বই দশকে পাকিস্তানের দুই মানিকজোড়। ওয়াসিম আকরাম ও ওয়াকার ইউনিস ছিলেন প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের ত্রাস। ওয়াকার বলছেন, জুটি বেঁধে বোলিং করলেও তাঁদের নিজেদের মধ্যে একটা অদৃশ্য প্রতিযোগিতা চলত, ‘আমাদের দুজনেরই দল থেকে বাদ পড়ার কোনো ভয় ছিল না, আসল প্রতিযোগিতা ছিল একে অন্যের সঙ্গে। তিনি ৪ উইকেট নিলে আমি চেষ্টা করতাম ৫ উইকেট নিতে। এই সুস্থ প্রতিদ্বন্দ্বিতা আমাদের দুজনকেই সেরাটা দিতে বাধ্য করত আর পাকিস্তান ক্রিকেটও এগিয়ে যেত তাতে।’

তবে ওয়াকার একটা জায়গায় হিসাব পরিষ্কার রেখেছেন। শেষ ওভারে ৬ রান বাঁচাতে হলে অধিনায়ক ওয়াকার কাকে বেছে নেবেন? প্রশ্ন শুনে বলেছেন, ‘অধিনায়ক হিসেবে আমি চোখ বন্ধ করে ওয়াসিম আকরামের ওপরই ভরসা রাখতাম।’প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রতিদ্বন্দ্বিতাই, কিন্তু ভরসার জায়গায় কোনো ফাঁকি নেই।

ম্যাচের বিশ্লেষণ ও পরবর্তী প্রতিক্রিয়া

শুভঙ্কর জানতে চেয়েছিলেন, জসপ্রীত বুমরাকে কি ‘ডানহাতি ওয়াসিম আকরাম’ বলা চলে? এই প্রশ্নে অনেক কিংবদন্তি পিছলে যান। ওয়াকার পিছলাননি, আবার পুরো ফাঁদেও পা দেননি। প্রথমে বললেন, দুই ভিন্ন যুগের বোলারদের সরাসরি তুলনা সম্ভব নয়।

তারপর এটাও বললেন, ‘টি-টুয়েন্টি ও ওয়ানডের মতো সাদা বলের ক্রিকেটে বুমরার মতো ইমপ্যাক্ট বোলার বিশ্ব ক্রিকেটে আর কেউ নেই। ভারতীয় অধিনায়ক কঠিন পরিস্থিতিতে যখনই তাঁর হাতে বল তুলে দেন, বুমরা প্রতিবারই ব্রেক থ্রু এনে দিয়ে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন।’মানে তুলনা না করেও ওয়াকার যা বলার বলে দিয়েছেন।

 ১৯৮৬ সালের শারজা। শেষ বলে চার রান দরকার। বোলার চেতন শর্মা। ব্যাটসম্যান জাভেদ মিয়াঁদাদ। ওয়াকার তখন ১৪ বছরের কিশোর, থাকেন শারজাতেই। অর্থাৎ ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম বিখ্যাত ছক্কাটা তিনি দেখেছেন একদম বাড়ির উঠানের মতো দূরত্ব থেকে। ওয়াকারের ভাষ্য, ওই একটা ছক্কা পাকিস্তান ক্রিকেটের মানসিকতা রাতারাতি বদলে দিয়েছিল। বললেন, ‘শেষ বলে চার দরকার, আর ছক্কা মেরে ম্যাচ জেতা, এমন ঘটনা বিশ্ব ক্রিকেট আগে দেখেনি। শটটা পাকিস্তানে নতুন জোয়ার আর ক্রিকেটে হিরোইজমের জন্ম দিয়েছিল।’যে শারজায় একদিন কিশোর দর্শক হয়ে ছক্কাটা দেখেছিলেন, সেই শারজার টিকিটই কয়েক বছর পর ইমরান খান ধরিয়ে দিলেন তাঁর হাতে। ইতিহাস মাঝেমধ্যে বেশ গুছিয়ে চিত্রনাট্য লেখে।