বাংলাদেশসহ ২০ দেশ থেকে বিশেষায়িত ওষুধে শুল্ক ছাড় যুক্তরাষ্ট্রের
- প্রকাশের সময় : ০৮:৫১:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 4
বাংলাদেশসহ ২০টি দেশ ও অঞ্চল থেকে আমদানি করা নির্দিষ্ট বিশেষায়িত ওষুধ ও এর প্রয়োজনীয় উপাদানের ওপর মূল্যানুপাতিক বা ‘এড ভ্যালোরেম’ শুল্ক আরোপ করবে না যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়া এ শুল্ক ছাড়ের সুবিধাভোগী দেশ ও অঞ্চলের তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করেছে মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত ২ এপ্রিল পেটেন্টকৃত ওষুধ, বায়োলজিকস এবং এসবের কাঁচামাল বা উপাদানের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি করা সব ধরনের ওষুধ এ সুবিধার আওতায় পড়বে না। নির্দিষ্ট শ্রেণির বিশেষায়িত ওষুধ ও এর উপাদানের ক্ষেত্রেই কেবল শুল্ক ছাড় প্রযোজ্য হবে।
শুল্ক ছাড়ের আওতাভুক্ত পণ্যের মধ্যে রয়েছে দুর্লভ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ বা অরফান ড্রাগস, পারমাণবিক ওষুধ, প্লাজমা থেকে উৎপাদিত থেরাপি, প্রজনন ও বন্ধ্যত্ব চিকিৎসার ওষুধ, সেল ও জিন থেরাপি এবং অ্যান্টিবডি-ড্রাগ কনজুগেটস। এ ছাড়া রাসায়নিক, জৈবিক, তেজস্ক্রিয় ও পারমাণবিক হুমকির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত চিকিৎসাসামগ্রী এবং প্রাণিস্বাস্থ্যসংক্রান্ত পণ্যও এর আওতায় রয়েছে।
বাংলাদেশ ছাড়া সুবিধাপ্রাপ্ত অন্য দেশ ও অঞ্চলগুলো হলো আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, গুয়াতেমালা, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, জর্ডান, মালয়েশিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড ও লিচেনস্টাইন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য এবং ভিয়েতনাম।
মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমান বা ভবিষ্যতে বাণিজ্য ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত চুক্তি রয়েছে—এমন দেশ থেকে পণ্য সরবরাহ করা হলে, অথবা কোনো পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণে সক্ষম হলে এ শুল্ক ছাড় পাওয়া যাবে। জরুরি স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণে যোগ্য পণ্যের অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে পারবে।
বিশ্ব শুল্ক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ‘এড ভ্যালোরেম’ শুল্ক হলো আমদানিকৃত পণ্যের মোট মূল্যের নির্দিষ্ট শতাংশের ভিত্তিতে নির্ধারিত শুল্ক বা কর।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে, সাধারণ বা জেনেরিক ওষুধ এবং এর উপাদান যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেকশন ২৩২’-এর ফার্মাসিউটিক্যাল শুল্কের আওতায় পড়বে না। একই সঙ্গে মূল ঘোষণাপত্রের কিছু কারিগরি বিষয় সংশোধন করে জেনেরিক ওষুধের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। এর আওতায় পেটেন্টহীন প্রাণিস্বাস্থ্যসংক্রান্ত পণ্যও রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া ‘ফার্মাসিউটিক্যাল আর্টিক্যালস’ বা ওষুধসামগ্রীর সংজ্ঞায় চূড়ান্ত প্রস্তুত ওষুধ, এর সক্রিয় উপাদান বা এপিআই এবং এসব উপাদান তৈরির মূল প্রারম্ভিক কাঁচামাল বা ‘কি স্টার্টিং ম্যাটেরিয়ালস’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।





















