নামাজে ভিন্ন চিন্তা আসলে সাহু সিজদা দিতে হবে?
- প্রকাশের সময় : ০৯:৪৫:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
- / 2
সালাত বা নামাজ অন্যতম ফরজ ইবাদত। পবিত্র কুরআনে ৮২ বার নামাজের কথা এসেছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই সালাত মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১০৩)।
অন্যদিকে হাদিসেও একাধিকবার নামাজ আদায়ের কথা এসেছে। সেই সঙ্গে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে ওয়াক্তমতো নামাজ আদায়ের ওপরও। এমনকি খোদ মহান আল্লাহর কাছে যথাসময়ে সালাত আদায় করা অধিক প্রিয় একটি আমল।
আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, একবার আমি রাসুল (সা.) কে জিজ্ঞাসা করলাম, কোন আমল আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়? তিনি (নবীজি সা.) বললেন, যথাসময়ে সালাত আদায় করা। ইবনু মাসঊদ (রা.) পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, এরপর কোনটি? নবীজি (সা.) বললেন, এরপর পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার। ইবনু মাসঊদ (রা.) আবারও জিজ্ঞাসা করলেন, এরপর কোনটি? রাসুল (সা.) বললেন, এরপর আল্লাহর পথে জিহাদ বা জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ্। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০২)
তবে সালাত শুদ্ধ হওয়ার জন্য এর মধ্যে থাকা রোকনগুলো সঠিকভাবে আদায় করা জরুরি। কেননা, উবাদাহ্ ইবনুস্ সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে- রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ৫ ওয়াক্ত সালাত আল্লাহ তা’য়ালা (বান্দার জন্য) ফরজ করেছেন। যে ব্যক্তি এ সালাতের জন্য ভালোভাবে অজু করবে, সঠিক সময়ে আদায় করবে এবং এর রুকু ও খুশুকে পরিপূর্ণরূপে করবে, তার জন্য আল্লাহর ওয়াদা রয়েছে যে, তিনি তাকে ক্ষমা করে দেবেন। আর যে তা না করবে, তার জন্য আল্লাহর ওয়াদা নেই। ইচ্ছা করলে তিনি ক্ষমা করে দিতে পারেন, আর ইচ্ছা করলে শাস্তিও দিতে পারেন। (মেশকাত, হাদিস: ৫৭০)
এ ক্ষেত্রে নামাজে কোনো ওয়াজিব ছুটে গেলে সাহু সিজদা দিতে হয়। সাহু সিজদা আদায়ের নিয়ম হলো- শেষ বৈঠকে ‘আত্তাহিয়্যাতু’ পড়ে ডান দিকে সালাম ফেরানোর পর আবারও দু’টি সিজদা করতে হবে। পাশাপাশি দ্বিতীয় সিজদা সম্পন্ন হওয়ার পর আবারও বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু, দরুদ এবং দোয়ায় মাসুরা পড়ে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হবে। তবে প্রশ্ন হলো- নামাজের মধ্যে অমনযোগী হলে বা ভিন্ন চিন্তা আসলে সাহু সিজদা দিতে হবে কি?
ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, নামাজের মধ্যে অনেক সময় অমনযোগী হয়ে ভিন্ন চিন্তা আসায় কেউ কেউ ভুলে যান কত রাকাত সালাত আদায় হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সাহু সিজদা দিতে হবে। এজন্য যত রাকাতের ব্যাপারে প্রবণ ধারণা হবে, সেটি ধরে নিয়ে পুরো নামাজ সাহু সিজদাসহ আদায় করতে হবে।
উদাহরণস্বরূপ, ৪ রাকাত নামাজে ভিন্ন চিন্তা আসার পর কেউ যদি কত রাকাত পড়া হলো সেটি ভুলে যান, তাহলে যদি ৩ রাকাত পড়া হয়েছে এমন প্রবল ধারণা হয়, তবে এটি ধরে নিয়েই বাকি নামাজ আদায় করতে হবে এবং শেষে সাহু সিজদা দিতে হবে। আর যদি দ্বিধা থাকে যে ৩ রাকাতও আদায় হতে পারে, ২ রাকাতও হতে পারে, সে ক্ষেত্রে কমটি ধরে নিয়ে বাকি নামাজ আদায় করে সাহু সিজদা দিয়ে নামাজ শেষ করতে হবে। অর্থাৎ, ৩ রাকাত বা ২ রাকাত নিয়ে দুটোর দিকেই সমান সন্দেহ হলে, কম হিসেবে ২ রাকাত ধরে নিয়ে বাকি নামাজ আদায় করে সাহু সিজদা দিতে হবে।
হাদিসেও এমনটাই এসেছে। যায়েদ ইবন আসলাম (রহ.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যদি তোমাদের কেউ নামাজের মধ্যে সন্দেহে পতিত হয় এবং সে এরূপ দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করে যে, সে ৩ রাকাত আদায় করেছে, তখন সে যেন চতুর্থ রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে তা সিজদা সহকারে আদায় করে তাশাহহুদ পাঠের নিমিত্তে বসবে। এরপর তাশাহহুদ পাঠের পর বসা অবস্থায় দু’টি সিজদা দেবে এবং সবশেষে সালাম ফিরাবে (অর্থাৎ, সাহু সিজদা দেবে)। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ১০২৭)























