Dhaka ০৮:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
২২ দিনে হাম সন্দেহে মৃত্যু ১১৩, আক্রান্ত ৭৬১০ জন : স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর, সংসদে বিল পাস মালয়েশিয়ায় নির্দিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠাবে না সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো গোপন চুক্তি নেই : পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্বালানি নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনা দোকানপাট-শপিংমল খোলা থাকবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত : প্রতিমন্ত্রী রাজশাহীতে হামের উপসর্গ নিয়ে ৫ শিশুর মৃত্যু র‍্যাব থাকবে কিনা সিদ্ধান্ত সরকারের, তবে প্রয়োজন আছে : র‌্যাব মহাপরিচালক নিয়ামতপুরে নবাগত ওসির সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আমলে নিয়েই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন: বিএনপি

গ্রিন কার্ড বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্রে কাসেম সোলেমানির স্বজনদের গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১০:৫০:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • / 20

 

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রয়াত নেতা মেজর জেনারেল কাসেম সোলেমানির ভাতিজি হামিদেহ সোলেমানি আফসার এবং তার মেয়েকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল পুলিশ।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাদের গ্রিন কার্ড (যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি) বাতিল করার পর শুক্রবার তাদের আটক করার কথা শনিবার জানায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, হামিদেহ সোলেমানি আফসার এবং তার মেয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) হেফাজতে রয়েছেন। তাদের কোথা থেকে গ্রেপ্তার কোথায় হয়েছে, তা বলেনি স্টেট ডিপার্টমেন্ট।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামিদেহ সোলেমানি আফসার লস অ্যাঞ্জেলেসে ‘বিলাসবহুল জীবনযাপন’ করছিলেন, যার প্রমাণ সম্প্রতি মুছে ফেলা তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পাওয়া গেছে।

“গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও হামিদেহ সোলেমানি আফসার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি ইরানের কর্তৃত্ববাদী ও সন্ত্রাসী শাসনের একজন প্রকাশ্য সমর্থক।

“যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সময় তিনি ইরানি শাসকগোষ্ঠীর পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার প্রশংসা করেছেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে সমর্থন জানিয়েছেন, আমেরিকাকে ‘মহা শয়তান’ আখ্যা দিয়েছেন এবং আইআরজিসি, যা একটি ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন, সেই সংগঠনের প্রতি তার অটল সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।

হামিদেহ সোলেমানি আফসার ও তার মেয়ের গ্রিন কার্ড বাতিলের পাশাপাশি তার স্বামীর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইরাকের বাগদাদ এয়ারপোর্টের কাছে ড্রোন হামলা চালিয়ে সোলেমানিকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র। তখনও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এদিকে শনিবার সোলেমানির মেয়ে নারজেস সোলেমানির বরাত দিয়ে ইরানের সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, তার পরিবারের কেউ কখনও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেননি এবং তার বাবার ভাতিজি নয়, দুই ভাতিজা ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী রুবিও গত সপ্তাহেই জানান, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সাবেক সেক্রেটারি আলী লারিজানির মেয়ে আর্দেশির লারিজানি এবং তার স্বামী সাঈদ কালান্তর মোতামেদির গ্রিনকার্ডসহ অভিবাসনের সকল মর্যাদা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে রয়েছেন এবং আর কখনোই ফিরতে পারবেন না।

ইরানের নিরাপত্তা নীতির অন্যতম রূপকার লারিজানি গত ১৭ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, যারা ‘আমেরিকা-বিরোধী সন্ত্রাসী শাসকের সমর্থক’ এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্যে ‘হুমকিস্বরূপ’, তাদেরকে ট্রাম্প প্রশাসন কখনোই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অনুমতি দেবে না।

দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেন। তার ভাষায় এই অভিবাসীরা আমেরিকার নিরাপত্তার জন্য ‘হুমকি’।

সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

গ্রিন কার্ড বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্রে কাসেম সোলেমানির স্বজনদের গ্রেপ্তার

প্রকাশের সময় : ১০:৫০:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

 

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রয়াত নেতা মেজর জেনারেল কাসেম সোলেমানির ভাতিজি হামিদেহ সোলেমানি আফসার এবং তার মেয়েকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল পুলিশ।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাদের গ্রিন কার্ড (যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি) বাতিল করার পর শুক্রবার তাদের আটক করার কথা শনিবার জানায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, হামিদেহ সোলেমানি আফসার এবং তার মেয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) হেফাজতে রয়েছেন। তাদের কোথা থেকে গ্রেপ্তার কোথায় হয়েছে, তা বলেনি স্টেট ডিপার্টমেন্ট।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামিদেহ সোলেমানি আফসার লস অ্যাঞ্জেলেসে ‘বিলাসবহুল জীবনযাপন’ করছিলেন, যার প্রমাণ সম্প্রতি মুছে ফেলা তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পাওয়া গেছে।

“গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও হামিদেহ সোলেমানি আফসার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি ইরানের কর্তৃত্ববাদী ও সন্ত্রাসী শাসনের একজন প্রকাশ্য সমর্থক।

“যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সময় তিনি ইরানি শাসকগোষ্ঠীর পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার প্রশংসা করেছেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে সমর্থন জানিয়েছেন, আমেরিকাকে ‘মহা শয়তান’ আখ্যা দিয়েছেন এবং আইআরজিসি, যা একটি ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন, সেই সংগঠনের প্রতি তার অটল সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।

হামিদেহ সোলেমানি আফসার ও তার মেয়ের গ্রিন কার্ড বাতিলের পাশাপাশি তার স্বামীর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইরাকের বাগদাদ এয়ারপোর্টের কাছে ড্রোন হামলা চালিয়ে সোলেমানিকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র। তখনও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এদিকে শনিবার সোলেমানির মেয়ে নারজেস সোলেমানির বরাত দিয়ে ইরানের সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, তার পরিবারের কেউ কখনও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেননি এবং তার বাবার ভাতিজি নয়, দুই ভাতিজা ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী রুবিও গত সপ্তাহেই জানান, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সাবেক সেক্রেটারি আলী লারিজানির মেয়ে আর্দেশির লারিজানি এবং তার স্বামী সাঈদ কালান্তর মোতামেদির গ্রিনকার্ডসহ অভিবাসনের সকল মর্যাদা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে রয়েছেন এবং আর কখনোই ফিরতে পারবেন না।

ইরানের নিরাপত্তা নীতির অন্যতম রূপকার লারিজানি গত ১৭ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, যারা ‘আমেরিকা-বিরোধী সন্ত্রাসী শাসকের সমর্থক’ এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্যে ‘হুমকিস্বরূপ’, তাদেরকে ট্রাম্প প্রশাসন কখনোই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অনুমতি দেবে না।

দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেন। তার ভাষায় এই অভিবাসীরা আমেরিকার নিরাপত্তার জন্য ‘হুমকি’।

সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান