রাজবাড়ীতে সত্যেন সেনের জন্মদিন উদযাপন
- প্রকাশের সময় : ০৭:৪৪:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
- / 21
রাজবাড়ীতে “মানুষের কাছে পেয়েছি যে বাণী, তাই দিয়ে রচি গান, মানুষের লাগি ঢেলে দিয়ে যাবো, মানুষের দেয়া প্রাণ” এই স্লোগান সামনে রেখে সত্যেন সেনের ১১৯তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন করা হয়েছে।
জন্মদিন উপলক্ষে বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে শহরের আজাদী ময়দান সংলগ্ন সংগঠনের মিলনায়তনে গান, কবিতা ও স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। শুরুতে সত্যেন সেনের প্রতিকৃতিতে পুস্পমাল্য অর্পণ করা হয়। জাতীয় ও দলীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু করা হয়। পদ্মা নদীতে বাস ডুবির ঘটনায় নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, জেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সহ সভাপতি আজিজুল হাসান খোকা। সাধারণ সম্পাদক এজাজ আহম্মেদের সঞ্চালনায় স্মৃতিচারণ মূলক বক্তব্য দেন জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি কমরেড আব্দুস সামাদ মিয়া, সাধারণ সম্পাদক ধীরেন্দ্র নাথ দাস, রাজবাড়ী নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফকীর শাহাদত হোসেন, জেলা কৃষক সমিতির সভাপতি আব্দুস সাত্তার মন্ডল, রাজা সূর্য কুমার ইন্সটিটিউটের সহকারী প্রধান শিক্ষক চায়না সাহা, জনতার আদালত পাঠক ফোরামের সদস্য সচিব এস এম শামসুন্নবী জুয়েল প্রমুখ।
সংগীত পরিবেশন করেন আব্দুল জব্বার, সাজীনা ইমাম শাম্মী, মলিনা আক্তার, কনিকা সরকার, আওয়াল মোল্লা, গৌতম কুমার বসু, শামীম আহমেদ।
কবিতা আবৃত্তি করেন প্রভাষক ফারহানা জামান রিমি, সহকারী শিক্ষক ফাহমিদা সুলতানা, রাধ্যেশ্যাম চক্রবর্তী।
বক্তারা বলেন, সত্যেন সেন ছিলেন এই ভূখন্ডের নিপীড়িত ও শোষিত মানুষের পক্ষে কথা বলার অকুতোভয় কণ্ঠস্বর। সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলার জন্য তাকে বার বার জেলে যেতে হয়েছে। জেলে বসেও তিনি সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলার চেষ্টা করছেন তার লেখনীর মাধ্যমে। তিনি অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন গানের মাধ্যমে। এজন্য তিনি উদীচী প্রতিষ্ঠা করেন।
উল্লেখ্য, সত্যেন সেন ১৯০৭ সালের ২৮ মার্চ মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ি উপজেলার সোনারঙ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সত্যেন সেন ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের কিংবদন্তি বিপ্লবী, সাহিত্যিক এবং শ্রমিক-সংগঠক। তিনি ১৯৬৯ সালে সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীর প্রতিষ্ঠাতা করেন। ১৯৮১ সালের ৫ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

















