Dhaka ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
সংসদের অধিবেশন বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মুলতবি লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত পাংশা : চাহিদার তুলনায় মিলছে অর্ধেকেরও বিদ্যুৎ সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়ায় নেয়া হলো মির্জা আব্বাসকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কড়াইলে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ রাতে চীন সফরে যাচ্ছে বিএনপির প্রতিনিধিদল, ১৯ এপ্রিল যাবেন মির্জা ফখরুল তেহরানে পাকিস্তানি সেনাপ্রধান : ওয়াশিংটনের বার্তা হাতে পরবর্তী আলোচনার ভাগ্য নির্ধারণে ইরান আবারো সক্রিয় তেহরান-ওয়াশিংটন বার্তা বিনিময় : নেপথ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা সেনাপ্রধানের সাথে তুরস্কের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ টাইমের ২০২৬ সালের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় তারেক রহমান বনানীতে বহুতল ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে

যমুনার পথে শিক্ষকদের মিছিলে পুলিশের জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৭:০২:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 76

জাতীয়করণ বঞ্চিত পাঁচ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের দাবিতে যমুনার উদ্দেশ্যে মিছিল নিয়ে যাচ্ছিলেন শিক্ষকরা। কিন্তু পুলিশ জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় যাত্রা করা মিছিলটি প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে গেলে হাইকোর্টের কাছে কদম ফোয়ারা এলাকায় পুলিশের বাধার সম্মুখীন হয়। একপর্যায়ে শিক্ষক নেতাদের ওপর জলকামানের পানি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়া হয়। পরে পুলিশ হুইসেল বাজিয়ে তাদের পল্টনের দিকে সরিয়ে দেয়। এতে কয়েকজন শিক্ষক আহত হন।

এর আগে সকাল ১০টা থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সাধারণ শিক্ষক ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে আন্দোলন কর্মসূচি চলছিল।

শিক্ষকরা জানান, ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি তৎকালীন সরকার সব বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দিলেও রাজনৈতিক কারণে কিছু বিদ্যালয় বাদ পড়ে যায়। তখন ৩০ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান থাকলেও কেবল ২৬,১৯৩টি বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়।

তাদের দাবি, ২০১৬ সালের ২৮ জুলাই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয় শাখা থেকে উপ-সচিব গোপাল চন্দ্র দাসের সই করা একটি চিঠি ইস্যু করা হয়। স্মারক নং ৩৪৩৬/৯-এখানে বলা হয়েছে, তৃতীয় ধাপে জাতীয়করণযোগ্য বিদ্যালয়সমূহ জেলা যাচাই-বাছাই করে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে অবশ্যই প্রেরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

পরে ২০১৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের জন্য একটি চিঠি ইস্যু করা হয়, যার স্মারক নং ০৩.০৭৪.৩৮.০৪৮.০০.০০১.২০১৮-৬৭। এখানে বলা হয়েছে ২৬,১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ তালিকা বহির্ভূত বিদ্যালয়সমূহ/আবেদনসমূহের একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ প্রেরণের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়।

শিক্ষকরা আরও জানান, চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চিঠি পাঠানো হলেও তা এখনো কার্যকর হয়নি।

তাদের অভিযোগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কনসালটেশন কমিটি ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয়করণ বঞ্চিত অনধিক পাঁচ হাজার বিদ্যালয় জাতীয়করণের সুপারিশ করলেও অগ্রগতি নেই।

সাধারণ শিক্ষক ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মো. নওশাদ আহমেদ বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা-বান্ধব সরকার। শত প্রতিকূলতার মাঝেও বিশ্ব দরবারে আজ বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের চিঠি ও কনসালটেশন কমিটির সুপারিশকৃত অনধিক পাঁচ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের জোর দাবি জানাই।

অন্যদিকে সংগঠনের সমন্বয়ক মাহবুবা মালা অভিযোগ করেন, জাতীয়করণ না হওয়ায় শিক্ষকরা দারিদ্র্যসঙ্কুল জীবনযাপন করছেন। তিনি বলেন, “আমরা অন্যের সন্তানকে শিক্ষা দিই, অথচ আমাদের জীবনে কোনো উন্নয়ন ঘটেনি।”

শিক্ষকরা এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টার সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

যমুনার পথে শিক্ষকদের মিছিলে পুলিশের জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড

প্রকাশের সময় : ০৭:০২:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

জাতীয়করণ বঞ্চিত পাঁচ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের দাবিতে যমুনার উদ্দেশ্যে মিছিল নিয়ে যাচ্ছিলেন শিক্ষকরা। কিন্তু পুলিশ জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় যাত্রা করা মিছিলটি প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে গেলে হাইকোর্টের কাছে কদম ফোয়ারা এলাকায় পুলিশের বাধার সম্মুখীন হয়। একপর্যায়ে শিক্ষক নেতাদের ওপর জলকামানের পানি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়া হয়। পরে পুলিশ হুইসেল বাজিয়ে তাদের পল্টনের দিকে সরিয়ে দেয়। এতে কয়েকজন শিক্ষক আহত হন।

এর আগে সকাল ১০টা থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সাধারণ শিক্ষক ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে আন্দোলন কর্মসূচি চলছিল।

শিক্ষকরা জানান, ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি তৎকালীন সরকার সব বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দিলেও রাজনৈতিক কারণে কিছু বিদ্যালয় বাদ পড়ে যায়। তখন ৩০ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান থাকলেও কেবল ২৬,১৯৩টি বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়।

তাদের দাবি, ২০১৬ সালের ২৮ জুলাই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয় শাখা থেকে উপ-সচিব গোপাল চন্দ্র দাসের সই করা একটি চিঠি ইস্যু করা হয়। স্মারক নং ৩৪৩৬/৯-এখানে বলা হয়েছে, তৃতীয় ধাপে জাতীয়করণযোগ্য বিদ্যালয়সমূহ জেলা যাচাই-বাছাই করে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে অবশ্যই প্রেরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

পরে ২০১৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের জন্য একটি চিঠি ইস্যু করা হয়, যার স্মারক নং ০৩.০৭৪.৩৮.০৪৮.০০.০০১.২০১৮-৬৭। এখানে বলা হয়েছে ২৬,১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ তালিকা বহির্ভূত বিদ্যালয়সমূহ/আবেদনসমূহের একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ প্রেরণের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়।

শিক্ষকরা আরও জানান, চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চিঠি পাঠানো হলেও তা এখনো কার্যকর হয়নি।

তাদের অভিযোগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কনসালটেশন কমিটি ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয়করণ বঞ্চিত অনধিক পাঁচ হাজার বিদ্যালয় জাতীয়করণের সুপারিশ করলেও অগ্রগতি নেই।

সাধারণ শিক্ষক ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মো. নওশাদ আহমেদ বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা-বান্ধব সরকার। শত প্রতিকূলতার মাঝেও বিশ্ব দরবারে আজ বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের চিঠি ও কনসালটেশন কমিটির সুপারিশকৃত অনধিক পাঁচ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের জোর দাবি জানাই।

অন্যদিকে সংগঠনের সমন্বয়ক মাহবুবা মালা অভিযোগ করেন, জাতীয়করণ না হওয়ায় শিক্ষকরা দারিদ্র্যসঙ্কুল জীবনযাপন করছেন। তিনি বলেন, “আমরা অন্যের সন্তানকে শিক্ষা দিই, অথচ আমাদের জীবনে কোনো উন্নয়ন ঘটেনি।”

শিক্ষকরা এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টার সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।