Dhaka ০১:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
দীর্ঘদিনের প্রেমিকাকে বিয়ে করলেন মার্ভেল তারকা সিমু লিউ পুলিশ সদর দফতরের মিডিয়া বিভাগের নতুন এআইজি মুনিরা বাংলাদেশে গাড়ি তৈরির কারখানা স্থাপন করবে বিশ্বখ্যাত কোম্পানি টয়োটা ভবিষ্যতে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা সরাতে গণভোট লাগবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে ৮০ লাখ টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ বেসরকারি খাত ও সরকারের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব জরুরি: অর্থমন্ত্রী জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ মাধ্যমিক শিক্ষক মধুখালীর মনিরুল ইসলাম মালয়েশিয়ায় ‘যেমনে-তেমনে’ কর্মী পাঠানো যাবে না: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষা বিষয়ক কর্মশালা কোটালীপাড়ায় শিশু কল্যাণ বোর্ডের অর্ধবার্ষিক সভা

রোহিঙ্গা সংকট : যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার ১১ দেশের

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৩৬:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫
  • / 258

যুক্তরাজ্য-ফ্রান্সসহ পশ্চিমা বিশ্বের ১১টি দেশ রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি জানিয়েছে। বাকি দেশগুলো হলো—অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, কানাডা, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, ডেনমার্ক, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও ফিনল্যান্ড।

আজ সোমবার সকালে ঢাকায় ফ্রান্স দূতাবাসের এক্স হ্যান্ডেল ও ফেসবুক পেজে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের আট বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ অঙ্গীকার জানানো হয়।

রোহিঙ্গা সংকট জটিল হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের পরিস্থিতি ও বাংলাদেশের চলমান মানবিক সংকটের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখতে সরকারের সঙ্গে কাজ করে যাবে বলে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আট বছর পেরোনোর পর আমরা মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সেই কর্মকাণ্ড স্মরণ করছি, যার ফলে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হয়েছিল। বর্তমানে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে। এখনো আশ্রয়শিবিরে নতুন শরণার্থী আসছেন।’

দেশগুলো রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিনের সহনশীলতার প্রশংসা করে জানায়, তারা রাখাইনের অবনতিশীল নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতির মধ্যেও দৃঢ়তা দেখিয়ে চলেছে। একই সঙ্গে তারা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ও সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, যারা নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদেরও আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের নিজভূমিতে ফেরার ইচ্ছার কথা উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রত্যাবাসনের পথ খুঁজে বের করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও সম্মানের সঙ্গে ফিরে যাওয়ার মতো নয়। এ শর্ত পূরণে মূল কারণগুলো সমাধান করে শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল মিয়ানমার গড়ে তোলা জরুরি।

বিবৃতিতে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা জানানো হয়। সহিংসতা বন্ধ, মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং অন্যায়ভাবে আটক ব্যক্তিদের মুক্তির আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও দেশগুলো দিয়েছে।

এ ছাড়া বিবৃতিতে তারা রোহিঙ্গাদের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান এবং ভবিষ্যৎ প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে। কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণকেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেয়।

যৌথ বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়, যাতে তারা বাংলাদেশে অবস্থানকালে নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনযাপন করতে পারে। দেশগুলো জানায়, আট বছর পরও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে দৃঢ়ভাবে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশের পাশে আছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

রোহিঙ্গা সংকট : যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার ১১ দেশের

প্রকাশের সময় : ০৯:৩৬:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫

যুক্তরাজ্য-ফ্রান্সসহ পশ্চিমা বিশ্বের ১১টি দেশ রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি জানিয়েছে। বাকি দেশগুলো হলো—অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, কানাডা, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, ডেনমার্ক, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও ফিনল্যান্ড।

আজ সোমবার সকালে ঢাকায় ফ্রান্স দূতাবাসের এক্স হ্যান্ডেল ও ফেসবুক পেজে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের আট বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ অঙ্গীকার জানানো হয়।

রোহিঙ্গা সংকট জটিল হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের পরিস্থিতি ও বাংলাদেশের চলমান মানবিক সংকটের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখতে সরকারের সঙ্গে কাজ করে যাবে বলে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আট বছর পেরোনোর পর আমরা মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সেই কর্মকাণ্ড স্মরণ করছি, যার ফলে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হয়েছিল। বর্তমানে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে। এখনো আশ্রয়শিবিরে নতুন শরণার্থী আসছেন।’

দেশগুলো রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিনের সহনশীলতার প্রশংসা করে জানায়, তারা রাখাইনের অবনতিশীল নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতির মধ্যেও দৃঢ়তা দেখিয়ে চলেছে। একই সঙ্গে তারা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ও সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, যারা নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদেরও আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের নিজভূমিতে ফেরার ইচ্ছার কথা উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রত্যাবাসনের পথ খুঁজে বের করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও সম্মানের সঙ্গে ফিরে যাওয়ার মতো নয়। এ শর্ত পূরণে মূল কারণগুলো সমাধান করে শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল মিয়ানমার গড়ে তোলা জরুরি।

বিবৃতিতে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা জানানো হয়। সহিংসতা বন্ধ, মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং অন্যায়ভাবে আটক ব্যক্তিদের মুক্তির আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও দেশগুলো দিয়েছে।

এ ছাড়া বিবৃতিতে তারা রোহিঙ্গাদের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান এবং ভবিষ্যৎ প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে। কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণকেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেয়।

যৌথ বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়, যাতে তারা বাংলাদেশে অবস্থানকালে নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনযাপন করতে পারে। দেশগুলো জানায়, আট বছর পরও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে দৃঢ়ভাবে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশের পাশে আছে।