Dhaka ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৃতের ওয়ারিশদের মধ্যে ফারায়েজ অনুযায়ী পেনশন বণ্টন প্রশ্নে রুল

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৩৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ মে ২০২৫
  • / 113

নমিনি নয়, মৃতের আইনগত বৈধ ওয়ারিশদের মধ্যে মুসলিম ফারায়েজ অনুযায়ী এককালীন পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও চাকরিজনিত অন্যান্য সুবিধা বণ্টন কেন করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মুবিনা আসাফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আদালত আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. হুমায়ুন কবির পল্লব। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট বায়েজীদ হোসাইন ও নাঈম সরদার। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মো. শফিকুর রহমান। তাকে সহায়তা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহফুজ বিন ইউসুফ, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল একরামুল কবির ও অ্যাডভোকেট মো. ঈসা।

ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব জানান, রিট আবেদনকারীরা এক সরকারি কর্মচারীর প্রথম স্ত্রীর সন্তান। তাদের বাবা চাকরিরত অবস্থায় মারা যান। প্রথম স্ত্রী মৃত্যুবরণ করার পর ওই ব্যক্তি দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং দ্বিতীয় স্ত্রীকে নমিনি করে যান।

পরে রিট আবেদনকারীরা জানতে পারেন, তাদের সৎ মা এককভাবে মৃত বাবার পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও অন্যান্য চাকরিজনিত সুবিধা ভোগ করতে চাইছেন। অথচ আবেদনকারীদের দাবি, মুসলিম শরিয়ত মোতাবেক (ফারায়েজ অনুযায়ী) ওই সম্পদ মৃতের সকল বৈধ ওয়ারিশদের মধ্যে নির্ধারিত অনুপাতে বণ্টন হওয়া উচিত।

এ বিষয়ে আবেদনকারীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে তারা হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।

ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব আরও বলেন, “নমিনি কেবল একজন ট্রাস্টি—তিনি সম্পদের মালিক নন। আইন অনুযায়ী মৃত ব্যক্তি যদি মুসলমান হন, তবে তার সম্পত্তি ফারায়েজ মোতাবেক বণ্টন হওয়াই যুক্তিযুক্ত। আদালত এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে রুল জারি করেছেন। আশা করি সংশ্লিষ্টরা এখন বিষয়টি যথাযথভাবে দেখবেন।”

 

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

মৃতের ওয়ারিশদের মধ্যে ফারায়েজ অনুযায়ী পেনশন বণ্টন প্রশ্নে রুল

প্রকাশের সময় : ০৮:৩৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ মে ২০২৫

নমিনি নয়, মৃতের আইনগত বৈধ ওয়ারিশদের মধ্যে মুসলিম ফারায়েজ অনুযায়ী এককালীন পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও চাকরিজনিত অন্যান্য সুবিধা বণ্টন কেন করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মুবিনা আসাফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আদালত আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. হুমায়ুন কবির পল্লব। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট বায়েজীদ হোসাইন ও নাঈম সরদার। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মো. শফিকুর রহমান। তাকে সহায়তা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহফুজ বিন ইউসুফ, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল একরামুল কবির ও অ্যাডভোকেট মো. ঈসা।

ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব জানান, রিট আবেদনকারীরা এক সরকারি কর্মচারীর প্রথম স্ত্রীর সন্তান। তাদের বাবা চাকরিরত অবস্থায় মারা যান। প্রথম স্ত্রী মৃত্যুবরণ করার পর ওই ব্যক্তি দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং দ্বিতীয় স্ত্রীকে নমিনি করে যান।

পরে রিট আবেদনকারীরা জানতে পারেন, তাদের সৎ মা এককভাবে মৃত বাবার পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও অন্যান্য চাকরিজনিত সুবিধা ভোগ করতে চাইছেন। অথচ আবেদনকারীদের দাবি, মুসলিম শরিয়ত মোতাবেক (ফারায়েজ অনুযায়ী) ওই সম্পদ মৃতের সকল বৈধ ওয়ারিশদের মধ্যে নির্ধারিত অনুপাতে বণ্টন হওয়া উচিত।

এ বিষয়ে আবেদনকারীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে তারা হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।

ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব আরও বলেন, “নমিনি কেবল একজন ট্রাস্টি—তিনি সম্পদের মালিক নন। আইন অনুযায়ী মৃত ব্যক্তি যদি মুসলমান হন, তবে তার সম্পত্তি ফারায়েজ মোতাবেক বণ্টন হওয়াই যুক্তিযুক্ত। আদালত এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে রুল জারি করেছেন। আশা করি সংশ্লিষ্টরা এখন বিষয়টি যথাযথভাবে দেখবেন।”