Dhaka ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জবিতে ভর্তি পরীক্ষা দিলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব তৌহিদুর রহমান

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১০:৫০:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / 138

বয়স প্রায় পঞ্চাশের বেশি। চুল দাঁড়ি পাকা কিন্তু নিজ স্বপ্নে বিভোর তিনি। নওগাঁ থেকে এসেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কলা অনুষদে পরীক্ষা দিতে। স্বপ্ন দেখছেন অন্য সবার মতো তিনিও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবেন। স্বপ্ন পূরণে এ বয়সেও শারীরিক অসুস্থতা দমাতে পারেনি তাকে। অদম্য হার না মানা ভর্তিচ্ছু এই পরীক্ষার্থীর নাম তৌহিদুর রহমান তকু।

আজ শনিবার দুপুরে জবির ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে কলা অনুষদভুক্ত ‘বি’ ইউনিটের প্রথম শিফটের পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। দীর্ঘদিন অসুস্থতার পর সুস্থ হয়ে ফের পরীক্ষায় বসেছেন পঞ্চাশোর্ধ্ব এই ব্যক্তি।

পরীক্ষা শেষ হবার পরে নিজের স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন তৌহিদুর রহমান তকু। তিনি বলেন, নওগাঁ জেলার সরকারি কে. ডি স্কুলে মাধ্যমিক পড়াশোনা করেছেন। অসুস্থতার পরে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে জেডিসি পরীক্ষা দেন। এরপর স্থানীয় মাদ্রাসা থেকে দাখিল এবং এ বছরে আলিম পাস করেন। পরবর্তীতে তিনি ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার জন্য আবেদন করেন।

তৌহিদুর রহমান বলেন, এনায়েতপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২০২২ সালে দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ ৪ দশমিক ৬৩ এবং ২০২৪ সালে গয়ড়া তেঁতুলিয়া ডি. এম ফাজিল মাদ্রাসা থেকে জিপিএ ৪ দশমিক ৬৪ পেয়ে আলিম পাস করেন।

তিনি আরও বলেন, আমি ১৯৮৯ সালে অসুস্থ হয়ে পড়ি। ২০১৪-১৫ সালে সুস্থ হয়ে পড়াশোনা শুরু করি। ২০১৬ সালে পরীক্ষা দিতে চাইলেও আবারও মাদকাসক্ত সেন্টারে পাঠানো হয়। ২০১৯ সালে পুনরায় পড়াশোনা শুরু করি। এরপর থেকে কন্টিনিউ করে আসছি। আমার ইংরেজি প্রস্তুতি তেমন ভালো না। তারপরও চেষ্টা করব। যদি এ বছর জগন্নাথে চান্স না হয় তাহলে আগামী বছর রাবি, জাবিতে পরীক্ষা দিয়ে চান্স নিবোই ইনশাআল্লাহ।’

তবে তৌহিদুরের দাখিল ও আলিম পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন কার্ডে দেখা যায় তার জন্ম তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০০৫। কিন্তু আসলেই তার সঠিক বয়স কত তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম সাংবাদিকদের বলেন, পরীক্ষা দিতে তার আইনগতভাবে কোনো বাধা নেই, তবে তিনি কোনো অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছেন কি না সেটা পরবর্তীতে খতিয়ে দেখা হবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

জবিতে ভর্তি পরীক্ষা দিলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব তৌহিদুর রহমান

প্রকাশের সময় : ১০:৫০:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

বয়স প্রায় পঞ্চাশের বেশি। চুল দাঁড়ি পাকা কিন্তু নিজ স্বপ্নে বিভোর তিনি। নওগাঁ থেকে এসেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কলা অনুষদে পরীক্ষা দিতে। স্বপ্ন দেখছেন অন্য সবার মতো তিনিও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবেন। স্বপ্ন পূরণে এ বয়সেও শারীরিক অসুস্থতা দমাতে পারেনি তাকে। অদম্য হার না মানা ভর্তিচ্ছু এই পরীক্ষার্থীর নাম তৌহিদুর রহমান তকু।

আজ শনিবার দুপুরে জবির ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে কলা অনুষদভুক্ত ‘বি’ ইউনিটের প্রথম শিফটের পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। দীর্ঘদিন অসুস্থতার পর সুস্থ হয়ে ফের পরীক্ষায় বসেছেন পঞ্চাশোর্ধ্ব এই ব্যক্তি।

পরীক্ষা শেষ হবার পরে নিজের স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন তৌহিদুর রহমান তকু। তিনি বলেন, নওগাঁ জেলার সরকারি কে. ডি স্কুলে মাধ্যমিক পড়াশোনা করেছেন। অসুস্থতার পরে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে জেডিসি পরীক্ষা দেন। এরপর স্থানীয় মাদ্রাসা থেকে দাখিল এবং এ বছরে আলিম পাস করেন। পরবর্তীতে তিনি ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার জন্য আবেদন করেন।

তৌহিদুর রহমান বলেন, এনায়েতপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২০২২ সালে দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ ৪ দশমিক ৬৩ এবং ২০২৪ সালে গয়ড়া তেঁতুলিয়া ডি. এম ফাজিল মাদ্রাসা থেকে জিপিএ ৪ দশমিক ৬৪ পেয়ে আলিম পাস করেন।

তিনি আরও বলেন, আমি ১৯৮৯ সালে অসুস্থ হয়ে পড়ি। ২০১৪-১৫ সালে সুস্থ হয়ে পড়াশোনা শুরু করি। ২০১৬ সালে পরীক্ষা দিতে চাইলেও আবারও মাদকাসক্ত সেন্টারে পাঠানো হয়। ২০১৯ সালে পুনরায় পড়াশোনা শুরু করি। এরপর থেকে কন্টিনিউ করে আসছি। আমার ইংরেজি প্রস্তুতি তেমন ভালো না। তারপরও চেষ্টা করব। যদি এ বছর জগন্নাথে চান্স না হয় তাহলে আগামী বছর রাবি, জাবিতে পরীক্ষা দিয়ে চান্স নিবোই ইনশাআল্লাহ।’

তবে তৌহিদুরের দাখিল ও আলিম পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন কার্ডে দেখা যায় তার জন্ম তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০০৫। কিন্তু আসলেই তার সঠিক বয়স কত তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম সাংবাদিকদের বলেন, পরীক্ষা দিতে তার আইনগতভাবে কোনো বাধা নেই, তবে তিনি কোনো অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছেন কি না সেটা পরবর্তীতে খতিয়ে দেখা হবে।