Dhaka ০৯:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণে ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গুণী শিক্ষক হিসেবে সংবর্ধনা পাচ্ছেন আব্দুর রাজ্জাক একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাবার আহাজারি, ‘আমার বাচ্চা ফেরত দেন, আর কিছু চাই না’ এলপিজির দাম বাড়ল সাতদিন ধরে চলে ‘বরের মেলা’: সেজেগুজে থাকেন পাত্ররা, পছন্দ করে কিনে নেন কনেরা! জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘাতের প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশ সীমান্তে পড়ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আত্রাইয়ে মাদক, বাল্যবিবাহ ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় আখতারুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে শীর্ষ ৩০ অর্থনীতির একটি হতে পারে বাংলাদেশ: ইইউ রাষ্ট্রদূত কোটালীপাড়ায় শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্তের অভিযোগে যুবককে মারধর

আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার পাঁচ পুরস্কার

আবদুর রহমান তাশরীফ
  • প্রকাশের সময় : ০২:৩৬:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৫
  • / 148

আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে বন্ধন সুদৃঢ় করতে উৎসাহিত করে ইসলাম। ইসলাম আত্মীয়- স্বজনের সঙ্গে সদাচারের নির্দেশ দিয়েছে। এটি ইসলামের সামাজিক শিক্ষার একটি মৌলিক দিক। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেছেন, ‘আর তোমরা নিকটাত্মীয়, মিসকিন ও মুসাফিরদের হক আদায় কোরো এবং অপচয় কোরো না।’

(সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ২৬)

নবীজি (সা.) বলেন যে, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখে সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে।

(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬১৩৬)

কোরআন ও হাদিসে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার একাধিক প্রতিদান ও সুফলের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি সুফল হলো :

১. রিজিক বৃদ্ধি : আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে আন্তরিক হৃদ্যতা মুমিনের রিজিক বৃদ্ধি করে। নবীজি (সা.) বলেন, যে আকাঙ্ক্ষা করে তার ধন-সম্পদে সমৃদ্ধি আসুক এবং জীবনেরও দীর্ঘ হোক সে যেন আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করে।

(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৯৮৬)

২. আয়ু বৃদ্ধি : মহানবী (সা.) বলেন, যাকে আনন্দ দেয় তার রিজিকের সমৃদ্ধি এবং জীবনের দীর্ঘ আয়ু সে যেন আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৬৩৯)

৩. দ্রুত সওয়াব লাভ : আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সদাচারের প্রতিদান দ্রুত লাভ করেন একজন মুমিন, দুনিয়ায় অথবা আখিরাতে। জাবের (রা.) বলেন, নবীজি (সা.)-এর আশপাশে একবার আমরা জড়ো হয়ে আছি। তিনি বললেন, হে মুসলমানরা! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সদাচার করো।

কেননা আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার চেয়ে দ্রুত পুণ্য লাভ হয় এমন আমল নেই। (মাজমাউজ জাওয়িদ : ৫/১২৫)

৪. অপ্রীতিকর বিষয়াদি থেকে রক্ষা : এই উত্তম অভ্যাস রক্ষা করলে রোধ হয় অপমৃত্যু, দূর হয় বিপদ-আপদ। নবী কারিম (সা.) বলেন, নিশ্চয়ই সদকা ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করলে আল্লাহ রিজিক বৃদ্ধি করেন, অপমৃত্যু থেকে রক্ষা করেন এবং অপ্রীতিকর বিষয়াদির মুখোমুখি হওয়া থেকে রক্ষা করেন।

(মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদিস : ৪৪০৪)

নবী (সা.) আরো ইরশাদ করেন, যাকে আনন্দ দেয় তার জীবনের আয়ু বৃদ্ধি হওয়া ও রিজিক প্রশস্ত হওয়া এবং তার থেকে অপমৃত্যু রোদ হওয়া সে যেন আল্লাহকে ভয় করে এবং আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখে। (মুস্তাদরাকে হাকেম : ৪/১৬০)

৫. পারস্পরিক ভালোবাসা তৈরি : আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখলে পারস্পরিক ভালোবাসা তৈরি হয়।

নবীজি (সা.) বলেন, নিজ বংশ (আত্মীয়-স্বজনের) সম্পর্কে জ্ঞান রাখো, যাতে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করতে পারো। কেননা আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা নিকটজনদের ভালোবাসা তৈরি হওয়ার মাধ্যম।

(সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১৯৭৯)

আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষায় দ্বিন ও দুনিয়া উভয় জাহানের সাফল্য রয়েছে। আল্লাহ তাআলা আমাদের তা রক্ষা করার তাওফিক দিন। আমিন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার পাঁচ পুরস্কার

প্রকাশের সময় : ০২:৩৬:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৫

আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে বন্ধন সুদৃঢ় করতে উৎসাহিত করে ইসলাম। ইসলাম আত্মীয়- স্বজনের সঙ্গে সদাচারের নির্দেশ দিয়েছে। এটি ইসলামের সামাজিক শিক্ষার একটি মৌলিক দিক। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেছেন, ‘আর তোমরা নিকটাত্মীয়, মিসকিন ও মুসাফিরদের হক আদায় কোরো এবং অপচয় কোরো না।’

(সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ২৬)

নবীজি (সা.) বলেন যে, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখে সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে।

(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬১৩৬)

কোরআন ও হাদিসে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার একাধিক প্রতিদান ও সুফলের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি সুফল হলো :

১. রিজিক বৃদ্ধি : আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে আন্তরিক হৃদ্যতা মুমিনের রিজিক বৃদ্ধি করে। নবীজি (সা.) বলেন, যে আকাঙ্ক্ষা করে তার ধন-সম্পদে সমৃদ্ধি আসুক এবং জীবনেরও দীর্ঘ হোক সে যেন আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করে।

(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৯৮৬)

২. আয়ু বৃদ্ধি : মহানবী (সা.) বলেন, যাকে আনন্দ দেয় তার রিজিকের সমৃদ্ধি এবং জীবনের দীর্ঘ আয়ু সে যেন আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৬৩৯)

৩. দ্রুত সওয়াব লাভ : আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সদাচারের প্রতিদান দ্রুত লাভ করেন একজন মুমিন, দুনিয়ায় অথবা আখিরাতে। জাবের (রা.) বলেন, নবীজি (সা.)-এর আশপাশে একবার আমরা জড়ো হয়ে আছি। তিনি বললেন, হে মুসলমানরা! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সদাচার করো।

কেননা আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার চেয়ে দ্রুত পুণ্য লাভ হয় এমন আমল নেই। (মাজমাউজ জাওয়িদ : ৫/১২৫)

৪. অপ্রীতিকর বিষয়াদি থেকে রক্ষা : এই উত্তম অভ্যাস রক্ষা করলে রোধ হয় অপমৃত্যু, দূর হয় বিপদ-আপদ। নবী কারিম (সা.) বলেন, নিশ্চয়ই সদকা ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করলে আল্লাহ রিজিক বৃদ্ধি করেন, অপমৃত্যু থেকে রক্ষা করেন এবং অপ্রীতিকর বিষয়াদির মুখোমুখি হওয়া থেকে রক্ষা করেন।

(মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদিস : ৪৪০৪)

নবী (সা.) আরো ইরশাদ করেন, যাকে আনন্দ দেয় তার জীবনের আয়ু বৃদ্ধি হওয়া ও রিজিক প্রশস্ত হওয়া এবং তার থেকে অপমৃত্যু রোদ হওয়া সে যেন আল্লাহকে ভয় করে এবং আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখে। (মুস্তাদরাকে হাকেম : ৪/১৬০)

৫. পারস্পরিক ভালোবাসা তৈরি : আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখলে পারস্পরিক ভালোবাসা তৈরি হয়।

নবীজি (সা.) বলেন, নিজ বংশ (আত্মীয়-স্বজনের) সম্পর্কে জ্ঞান রাখো, যাতে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করতে পারো। কেননা আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা নিকটজনদের ভালোবাসা তৈরি হওয়ার মাধ্যম।

(সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১৯৭৯)

আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষায় দ্বিন ও দুনিয়া উভয় জাহানের সাফল্য রয়েছে। আল্লাহ তাআলা আমাদের তা রক্ষা করার তাওফিক দিন। আমিন।