Dhaka ০৩:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ জুন ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

এভাবে যেতে নেই….

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৯:১৭:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ মে ২০২৪
  • / ১০৫৩ জন সংবাদটি পড়েছেন

 বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে ফেসবুকে সুইসাইড নোট লিখে পদ্মায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন পিউ কর্মকার নামে এক মেধাবী ছাত্রী। তিনি রাজবাড়ী শহরের বিনোদপুর ২ নং রেলগেট সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা কৃষ্ণ কর্মকারের মেয়ে। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে বাড়ি থেকে তিন কিলোমিটার দূরে রাজবাড়ী সদর উপজেলার সোনাকান্দর এলাকায় পদ্মা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে সন্ধ্যায় সে বাড়ি থেকে কাউকে কিছু না বলে বের হয়ে গিয়েছিলেন।

জানা গেছে, পিউ কর্মকার চলতি বছর রাজবাড়ী সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কোথাও ভর্তির সুযোগ না পেয়ে হতাশায় তিনি আত্মহননের পথ বেছে নেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। বুধবার সকালে রাজবাড়ী পৌর মহাশ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

ফেসবুক পোস্টে পিউ কর্মকার লেখেন, ‘গুচ্ছ আমার শেষ ভরসা ছিল। জানিনা কবে রেজাল্ট দিবে। পরীক্ষাও মোটামোটি হইছিল। একটা আশা ছিল কিন্তু আমার ভাগ্য সেই আশাটাও পুরণ করতে দিলনা। ৫টা অপশন থাকে। তার মধ্যে আমি বায়োলজি আর ইংরেজি এর বৃত্ত ভরাট করে ফেলেছিলাম ভুল করে। আজকে সেটা দেখলাম। কিন্তু আমি উত্তর করছিলাম বাংলা এর। আমার সব স্বপ্ন শেষ। একে একে ঢাবি, রাবি, জাবি থেকে একটু একটুর জন্য ধাক্কা খাই। জানি এটাও আমার ভাগ্যের জন্য চেষ্টা কম ছিল না। সারদিন রাত এক করে পড়তাম। বাবা মার অনেক স্বপ্ন ছিল আমাকে নিয়ে। আমি কিচ্ছু দিতে পারি নাই। দাদার ইচ্ছা ছিল আমাকে ডাক্তার বানাবে। আমারও স্বপ্ন ছিল ছোট থেকেই যে, ডাক্তার হবো। আমার ভাগ্য এতটাই খারাপ ছিল মেডিকেল এডমিশন এর প্রিপারেশন নেওয়াও শুরু করি কিন্তু মেডিকেলে বসতে পারি না। এটা থেকেও বিশাল একটা ধাক্কা খাই। অনেক ভেঙে পড়ছিলাম তাও হাল ছাড়ি নাই। এই এডমিশন পিরিয়ডটা যে কত কষ্ট দিছে আমাকে। এই সব আমি ্আর নিতে পারছি না। আমি শুধু একটা আশ্রয় খুঁজতেছিলাম। শেষ আশ্রয় এটাও শেষ হইল। অনেক মানুষ অনেক আত্মীয় এর কথা দশোনা লাগছে। বাবার একটু ফাইনান্সিয়াল সমস্যা ছিল এজন্য যে ঢাকা যায়ে পড়তে হবে কেন। কিন্তু আমি ধৈর্য ধরে ছিলাম যে পারব। কিন্তু আমি আর পারলাম না। সারাটাদিন ঘরের মধ্যে একা একা বসে থাকি। মানুষের কত ফ্রেন্ড কত কিছু কিন্তু আমি আমার পাশে কাউকে পাইনি। সব থেকে প্রয়োজন ছিল যাকে, যাকে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড ভাবতাম তাকেও আমি আমার পাশে পাইনাই। হয়ত আমাকে সাপোর্ট করার মত কেউ থাকলে আজকে এই মৃত্যুটা আমার হইত না সেকেন্ড টাইম এর প্রিপারেশন নেওয়ারও কোন মানসিক শারীরিক শক্তি নাই। আমার জীবনটা এখানেই থেমে গেল।

মার কাছে মাঝে মধ্যে কাঁদি। মাও বুঝে নাই আমাকে। আমি একটা বোঝা সবার কাছে। আমার এই মৃত্যুর জন্য আমার এই বড় বড় স্বপ্নগুলোই দায়ী। আমি আমার বাবা মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারি নাই।

আমাকে শেষ বারের মত দেখতে চাইলে নদীর জলেই খুইজ। আমার মৃত্যুটা এভাবেও চাই নাই। ভালো থাইকো সবাই। আমি আমার এই জীবনটা আর নিতে পারছি না। আমারে মাফ করে দিও সবাই। এভাবে দম বন্ধ করে বাঁচতে পারছি না আর।’

রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) মো. ইফতেখারুজ্জামান জানান, বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে। তার মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল করা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এব্যাপারে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

এভাবে যেতে নেই….

প্রকাশের সময় : ০৯:১৭:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ মে ২০২৪

 বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে ফেসবুকে সুইসাইড নোট লিখে পদ্মায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন পিউ কর্মকার নামে এক মেধাবী ছাত্রী। তিনি রাজবাড়ী শহরের বিনোদপুর ২ নং রেলগেট সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা কৃষ্ণ কর্মকারের মেয়ে। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে বাড়ি থেকে তিন কিলোমিটার দূরে রাজবাড়ী সদর উপজেলার সোনাকান্দর এলাকায় পদ্মা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে সন্ধ্যায় সে বাড়ি থেকে কাউকে কিছু না বলে বের হয়ে গিয়েছিলেন।

জানা গেছে, পিউ কর্মকার চলতি বছর রাজবাড়ী সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কোথাও ভর্তির সুযোগ না পেয়ে হতাশায় তিনি আত্মহননের পথ বেছে নেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। বুধবার সকালে রাজবাড়ী পৌর মহাশ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

ফেসবুক পোস্টে পিউ কর্মকার লেখেন, ‘গুচ্ছ আমার শেষ ভরসা ছিল। জানিনা কবে রেজাল্ট দিবে। পরীক্ষাও মোটামোটি হইছিল। একটা আশা ছিল কিন্তু আমার ভাগ্য সেই আশাটাও পুরণ করতে দিলনা। ৫টা অপশন থাকে। তার মধ্যে আমি বায়োলজি আর ইংরেজি এর বৃত্ত ভরাট করে ফেলেছিলাম ভুল করে। আজকে সেটা দেখলাম। কিন্তু আমি উত্তর করছিলাম বাংলা এর। আমার সব স্বপ্ন শেষ। একে একে ঢাবি, রাবি, জাবি থেকে একটু একটুর জন্য ধাক্কা খাই। জানি এটাও আমার ভাগ্যের জন্য চেষ্টা কম ছিল না। সারদিন রাত এক করে পড়তাম। বাবা মার অনেক স্বপ্ন ছিল আমাকে নিয়ে। আমি কিচ্ছু দিতে পারি নাই। দাদার ইচ্ছা ছিল আমাকে ডাক্তার বানাবে। আমারও স্বপ্ন ছিল ছোট থেকেই যে, ডাক্তার হবো। আমার ভাগ্য এতটাই খারাপ ছিল মেডিকেল এডমিশন এর প্রিপারেশন নেওয়াও শুরু করি কিন্তু মেডিকেলে বসতে পারি না। এটা থেকেও বিশাল একটা ধাক্কা খাই। অনেক ভেঙে পড়ছিলাম তাও হাল ছাড়ি নাই। এই এডমিশন পিরিয়ডটা যে কত কষ্ট দিছে আমাকে। এই সব আমি ্আর নিতে পারছি না। আমি শুধু একটা আশ্রয় খুঁজতেছিলাম। শেষ আশ্রয় এটাও শেষ হইল। অনেক মানুষ অনেক আত্মীয় এর কথা দশোনা লাগছে। বাবার একটু ফাইনান্সিয়াল সমস্যা ছিল এজন্য যে ঢাকা যায়ে পড়তে হবে কেন। কিন্তু আমি ধৈর্য ধরে ছিলাম যে পারব। কিন্তু আমি আর পারলাম না। সারাটাদিন ঘরের মধ্যে একা একা বসে থাকি। মানুষের কত ফ্রেন্ড কত কিছু কিন্তু আমি আমার পাশে কাউকে পাইনি। সব থেকে প্রয়োজন ছিল যাকে, যাকে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড ভাবতাম তাকেও আমি আমার পাশে পাইনাই। হয়ত আমাকে সাপোর্ট করার মত কেউ থাকলে আজকে এই মৃত্যুটা আমার হইত না সেকেন্ড টাইম এর প্রিপারেশন নেওয়ারও কোন মানসিক শারীরিক শক্তি নাই। আমার জীবনটা এখানেই থেমে গেল।

মার কাছে মাঝে মধ্যে কাঁদি। মাও বুঝে নাই আমাকে। আমি একটা বোঝা সবার কাছে। আমার এই মৃত্যুর জন্য আমার এই বড় বড় স্বপ্নগুলোই দায়ী। আমি আমার বাবা মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারি নাই।

আমাকে শেষ বারের মত দেখতে চাইলে নদীর জলেই খুইজ। আমার মৃত্যুটা এভাবেও চাই নাই। ভালো থাইকো সবাই। আমি আমার এই জীবনটা আর নিতে পারছি না। আমারে মাফ করে দিও সবাই। এভাবে দম বন্ধ করে বাঁচতে পারছি না আর।’

রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) মো. ইফতেখারুজ্জামান জানান, বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে। তার মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল করা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এব্যাপারে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।