Dhaka ০১:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

একদিনে পৃথক একইস্থানে তিনটি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ আহত ৪ \ মহাসড়ক অবরোধ

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৬:২৩:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • / ১০৩৪ জন সংবাদটি পড়েছেন

ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের রাজবাড়ী গোয়ালন্দের জমিদার ব্রীজ এলাকায় পৃথক তিন সড়ক দুর্ঘটনায় দুই জন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার দুপুর থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন রাজবাড়ী সদর থানার পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের মুকুন্দিয়া গ্রামের মৃত মোনছের মল্লিকের ছেলে আকবর মল্লিক। ও গোয়ালন্দ রেল গেইট এলাকার আজাদ মন্ডলের ছেলে রনি মন্ডল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর সোয়া ১টার দিকে জমিদার ব্রীজ এলাকায় ঢাকাগামী গোল্ডেন লাইনের একটি বাস কাপড় ব্যবসায়ী আকবর মল্লিক (৬০) নামে এক বাইসাইকেল চালক ধাক্কায় দেয়। এতে ওই কাপড় ব্যবসায়ী সড়কে পাশের খালে পরে মারাত্মক আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে বেলা ৩টার দিকে গোল্ডেন লাইনের আরেকটি বাস একটি ভ্যানকে ধাক্কায় দেয়। এতে ভ্যানে থাকা তিন কাসেম আলী, আমেনা বেগম ও মাহমুদ নামে যাত্রী আহত হন। পরে তাদের গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা এম এম পরিবহনের একটি বাস একটি মোটরসাইকেলকে চাপা দিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার ঠেলে নিয়ে যায়। এতে মোটরসাইকেল থেকে সড়কে ছিটকে পড়ে চালক রনি মন্ডল (৩০) ও তার স্ত্রী শিল্পী (২৭) মারাত্মক আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে সেখান থেকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপতালে পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক রনিকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে এসব ঘটনায় বিকেল থেকে দুর্ঘটনা রোধে স্প্রীডব্রেকারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে স্থানীয়রা। এসময় ইট পাটকেল মেরে কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করে বিক্ষুদ্ধ জনতা। পরে সন্ধ্যায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ স্প্রীডব্রেকারের কাজ শুরু করলে সড়ক থেকে সরে যান বিক্ষুদ্ধরা। স্থানীয়রা বলেন, এ স্থানটির ব্রীজের দুই পাশে আগে স্প্রীডব্রেকার ছিল। সেটি তুলে দেওয়ার পর থেকে মাঝে মধ্যেই এরকম ঘটনা ঘটছে। শুক্রবার দুপুরে প্রথম দুর্ঘটনার পর তারা স্প্রীডব্রেকারের দাবি তোলেন তারা। সেসময় কর্তৃপক্ষ তাদের আশ্বস্ত করেন। কিন্তু স্প্রীডব্রেকারের কাজ শুরু না হতেই আবারও দ্বিতীয় দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে পুলিশসহ স্থানীয়রা থাকাকালীন সময়ে একটি মোটরসাইকেলকে চাপা দিয়ে দীর্ঘ পথ ঠেলে নিয়ে যায় একটি বাস। তখন থেকে তারা স্প্রীডব্রেকারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ এসে তাদের সড়ক ছাড়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু তারা সড়ক না ছেড়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে সন্ধ্যার পর স্প্রীডব্রেকারের কাজ শুরু হলে তারা সড়ক থেকে সরে আসেন।

আলাদিপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল হালিম বলেন, গোল্ডেন লাইন পরিবহন ও এম এম পরিবহনের বাস দুটিকে আটক করা হয়েছে। চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছেন।

রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইফতেখারুজ্জামান বলেন, তিনটি পৃথক সড়ক দুঘর্টনার পর স্থানীয়রা সড়কটি অবরোধ করে রাখে। পরে তাদের দাবির প্রেক্ষিতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উদ্যোগে স্প্রীডব্রেকারের কাজ শুরুর পর জনতা সড়ক ছেড়ে দেয়।

 

 

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

একদিনে পৃথক একইস্থানে তিনটি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ আহত ৪ \ মহাসড়ক অবরোধ

প্রকাশের সময় : ০৬:২৩:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের রাজবাড়ী গোয়ালন্দের জমিদার ব্রীজ এলাকায় পৃথক তিন সড়ক দুর্ঘটনায় দুই জন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার দুপুর থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন রাজবাড়ী সদর থানার পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের মুকুন্দিয়া গ্রামের মৃত মোনছের মল্লিকের ছেলে আকবর মল্লিক। ও গোয়ালন্দ রেল গেইট এলাকার আজাদ মন্ডলের ছেলে রনি মন্ডল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর সোয়া ১টার দিকে জমিদার ব্রীজ এলাকায় ঢাকাগামী গোল্ডেন লাইনের একটি বাস কাপড় ব্যবসায়ী আকবর মল্লিক (৬০) নামে এক বাইসাইকেল চালক ধাক্কায় দেয়। এতে ওই কাপড় ব্যবসায়ী সড়কে পাশের খালে পরে মারাত্মক আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে বেলা ৩টার দিকে গোল্ডেন লাইনের আরেকটি বাস একটি ভ্যানকে ধাক্কায় দেয়। এতে ভ্যানে থাকা তিন কাসেম আলী, আমেনা বেগম ও মাহমুদ নামে যাত্রী আহত হন। পরে তাদের গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা এম এম পরিবহনের একটি বাস একটি মোটরসাইকেলকে চাপা দিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার ঠেলে নিয়ে যায়। এতে মোটরসাইকেল থেকে সড়কে ছিটকে পড়ে চালক রনি মন্ডল (৩০) ও তার স্ত্রী শিল্পী (২৭) মারাত্মক আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে সেখান থেকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপতালে পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক রনিকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে এসব ঘটনায় বিকেল থেকে দুর্ঘটনা রোধে স্প্রীডব্রেকারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে স্থানীয়রা। এসময় ইট পাটকেল মেরে কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করে বিক্ষুদ্ধ জনতা। পরে সন্ধ্যায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ স্প্রীডব্রেকারের কাজ শুরু করলে সড়ক থেকে সরে যান বিক্ষুদ্ধরা। স্থানীয়রা বলেন, এ স্থানটির ব্রীজের দুই পাশে আগে স্প্রীডব্রেকার ছিল। সেটি তুলে দেওয়ার পর থেকে মাঝে মধ্যেই এরকম ঘটনা ঘটছে। শুক্রবার দুপুরে প্রথম দুর্ঘটনার পর তারা স্প্রীডব্রেকারের দাবি তোলেন তারা। সেসময় কর্তৃপক্ষ তাদের আশ্বস্ত করেন। কিন্তু স্প্রীডব্রেকারের কাজ শুরু না হতেই আবারও দ্বিতীয় দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে পুলিশসহ স্থানীয়রা থাকাকালীন সময়ে একটি মোটরসাইকেলকে চাপা দিয়ে দীর্ঘ পথ ঠেলে নিয়ে যায় একটি বাস। তখন থেকে তারা স্প্রীডব্রেকারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ এসে তাদের সড়ক ছাড়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু তারা সড়ক না ছেড়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে সন্ধ্যার পর স্প্রীডব্রেকারের কাজ শুরু হলে তারা সড়ক থেকে সরে আসেন।

আলাদিপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল হালিম বলেন, গোল্ডেন লাইন পরিবহন ও এম এম পরিবহনের বাস দুটিকে আটক করা হয়েছে। চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছেন।

রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইফতেখারুজ্জামান বলেন, তিনটি পৃথক সড়ক দুঘর্টনার পর স্থানীয়রা সড়কটি অবরোধ করে রাখে। পরে তাদের দাবির প্রেক্ষিতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উদ্যোগে স্প্রীডব্রেকারের কাজ শুরুর পর জনতা সড়ক ছেড়ে দেয়।