Dhaka ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ জুন ২০২৩, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ঐতিহ্যবাহী নসির মেলা অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৩০:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ ২০২৩
  • / ১০৫৫ জন সংবাদটি পড়েছেন

রাজবাড়ীতে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী নসির মেলা। জেলার সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের বাগচী বাড়ির মাঠে ১৬৭ বছর ধরে এ মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বুধবার দুপুর থেকে রাত অব্দি জাঁকজমকভাবে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতি বছর চৈত্র মাসের বাসন্তী পূজার অষ্টমী তিথিতে একদিনের জন্য বসে এ মেলা। মেলায় দূর দুরান্ত থেকে আসে হাজারো নারী পুরুষ। নানান ধরনের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানীরা। সুলভে পাওয়া যায় গৃহস্থালী তৈজসপত্র।

গৃহস্থালী পণ্যের মধ্যে রয়েছে বাঁশ ও বেতের চালন, কুলা, ধামা, সাজি, লোহার দা, বটিসহ নানান কিছু। রয়েছে শিশুদের বিভিন্ন ধরনের খেলনা। এসব ছাড়াও মেলায় পাওয়া যায় সুস্বাদু নানান খাবার। এসব খাবারের মধ্যে নালি বাতাসা, দানাদার, খুরমা, আকড়ি, জিলাপি, গুড় ও চিনির তৈরি বিভিন্ন খাবার।

মেলায় নাগরদোলা, ট্রেন, জাম্পিং, নৌকা ছিল বাড়তি আকর্ষণ।

স্থানীয়রা জানায়, অনেক আগে মেলার পাশাপাশি বাসন্তী পূজাও হতো। তবে এখন শুধু মেলাই হয়। ঐতিহ্যবাহী বাগচী পরিবার আয়োজন করে এ মেলার।

মেলায় বেচাকেনা নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানান দোকানী সেলিম মোল্লা। তিনি জানান, খুব সুন্দর পরিবেশে প্রতি বছর এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। একারণে প্রতি বছরই তিনি মেলায় দোকান নিয়ে বসেন। ভালো বেচাকেনা হয় ভালো। এ বছরও ভালো বেচাকেনা হয়েছে।

শিশুদের খেলনার দোকান নিয়ে বসা ওহাব ব্যাপারী জানান, তিনি এসেছেন ফরিদপুর থেকে। গত চার বছর ধরে আসছেন। বেচাকেনা ভালো হয়। তবে এবার বেচাকেনা তুলনামূলক কম। রোজা ও বৃষ্টির কারণে এ অবস্থা হয়েছে।

২০ বছর ধরে প্রতিবারই মেলায় আসেন বাঁশ ও বেতের পণ্য দোকানী গৌরাঙ্গ চন্দ। তিনি জানান, এই মেলা আগে অনেক জমত। এখন একটু কম জমে। এবার বেচাকেনা মাঝামাঝি।

মেলার আয়োজক কালীদাস চক্রবর্তী জানান, এখানে নসি নামে একটি নদী ছিল। এই নদী গিয়ে মিশেছিল পদ্মা নদীর সাথে। নদীর পাড়ে মেলা বসত বলে নাম হয় নসীর মেলা। তার পূর্ব পুরুষরা এই মেলার আয়োজন করতেন। কালের পরিক্রমায় নদীটি হারিয়ে গেছে। তবে মেলা তারা ঠিকই আয়োজন করছেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ঐতিহ্যবাহী নসির মেলা অনুষ্ঠিত

প্রকাশের সময় : ০৯:৩০:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ ২০২৩

রাজবাড়ীতে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী নসির মেলা। জেলার সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের বাগচী বাড়ির মাঠে ১৬৭ বছর ধরে এ মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বুধবার দুপুর থেকে রাত অব্দি জাঁকজমকভাবে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতি বছর চৈত্র মাসের বাসন্তী পূজার অষ্টমী তিথিতে একদিনের জন্য বসে এ মেলা। মেলায় দূর দুরান্ত থেকে আসে হাজারো নারী পুরুষ। নানান ধরনের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানীরা। সুলভে পাওয়া যায় গৃহস্থালী তৈজসপত্র।

গৃহস্থালী পণ্যের মধ্যে রয়েছে বাঁশ ও বেতের চালন, কুলা, ধামা, সাজি, লোহার দা, বটিসহ নানান কিছু। রয়েছে শিশুদের বিভিন্ন ধরনের খেলনা। এসব ছাড়াও মেলায় পাওয়া যায় সুস্বাদু নানান খাবার। এসব খাবারের মধ্যে নালি বাতাসা, দানাদার, খুরমা, আকড়ি, জিলাপি, গুড় ও চিনির তৈরি বিভিন্ন খাবার।

মেলায় নাগরদোলা, ট্রেন, জাম্পিং, নৌকা ছিল বাড়তি আকর্ষণ।

স্থানীয়রা জানায়, অনেক আগে মেলার পাশাপাশি বাসন্তী পূজাও হতো। তবে এখন শুধু মেলাই হয়। ঐতিহ্যবাহী বাগচী পরিবার আয়োজন করে এ মেলার।

মেলায় বেচাকেনা নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানান দোকানী সেলিম মোল্লা। তিনি জানান, খুব সুন্দর পরিবেশে প্রতি বছর এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। একারণে প্রতি বছরই তিনি মেলায় দোকান নিয়ে বসেন। ভালো বেচাকেনা হয় ভালো। এ বছরও ভালো বেচাকেনা হয়েছে।

শিশুদের খেলনার দোকান নিয়ে বসা ওহাব ব্যাপারী জানান, তিনি এসেছেন ফরিদপুর থেকে। গত চার বছর ধরে আসছেন। বেচাকেনা ভালো হয়। তবে এবার বেচাকেনা তুলনামূলক কম। রোজা ও বৃষ্টির কারণে এ অবস্থা হয়েছে।

২০ বছর ধরে প্রতিবারই মেলায় আসেন বাঁশ ও বেতের পণ্য দোকানী গৌরাঙ্গ চন্দ। তিনি জানান, এই মেলা আগে অনেক জমত। এখন একটু কম জমে। এবার বেচাকেনা মাঝামাঝি।

মেলার আয়োজক কালীদাস চক্রবর্তী জানান, এখানে নসি নামে একটি নদী ছিল। এই নদী গিয়ে মিশেছিল পদ্মা নদীর সাথে। নদীর পাড়ে মেলা বসত বলে নাম হয় নসীর মেলা। তার পূর্ব পুরুষরা এই মেলার আয়োজন করতেন। কালের পরিক্রমায় নদীটি হারিয়ে গেছে। তবে মেলা তারা ঠিকই আয়োজন করছেন।