বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙছে পদ্মা নদী – রাজবাড়ীতে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল জাহিদ ফারুক শামীম
- প্রকাশের সময় : ০৬:১৯:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ অক্টোবর ২০২১
- / 579
জনতার আদালত অনলাইন ॥ পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল জাহিদ ফারুক শামীম বলেছেন, পদ্মা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদী ভাঙছে। তীর রক্ষায় দেওয়া ব্লকও টিকছে না। একারণে এখন থেকেই বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে।
বুধবার রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের গোদারবাজার এলাকায় নদী ভাঙন পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। সকালে প্রতিমন্ত্রী দৌলতদিয়া ঘাট থেকে স্পিডবোডযোগে গোদারবাজার এসে পৌছান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, চোরের বংশধররা কিন্তু আরও বড় চোর হয়ে গেছে। এখন আমরা শিক্ষিত চোর হয়ে গেছি। আমি আসতে আসতে দেখলাম, আপনাদের এলাকাতে নদীর তীর ভাঙছে। এজন্য আমাদের দোষ স্বীকার করে নিলাম। কিন্তু আপনারা বলেন, এখানে অবৈধভাবে বালু উঠায় কেন? এই বালু তোলার জন্যই ব্লক টেকে না। নদী ভাঙন রক্ষার জন্য ১৬৯৯ কোটি টাকা দিয়ে যদি প্রকল্প নেওয়া হয় এই প্রকল্প তিন বছরও টিকবে না। ভেঙে যাবে। ধস নামবে। দৌলতদিয়া ঘাট থেকে স্পিডবোটে আসতে আসতে দেখলাম, ১০/১২টা বা তারও বেশি হবে বলগেটে বালু ভরছে।
ইজারা কেন দেওয়া হয় এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আমরা ইজারা দেই না। ইজারা দেয় জেলা প্রশাসন। বালু মহালের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া আছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে আলোচনা করে কোন স্থান বালুমহাল হিসেবে গণ্য করা হবে সেখান থেকে বালু উত্তোলন করা হবে। বালু উত্তোলন সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত উঠাবে। এছাড়া বালু উত্তোলন করা যাবে না। কারণ রাতের বেলায় যত দুই নম্বর কাজ হয়। তারা দিনের বেলায় দেখাবে ট্রলার মাঝখানে আছে রাতের বেলায় নদীর পার থেকে বালু তুলবে। খরচ কম হবে লাভ বেশি হবে। যার বাড়ির সামনে থেকে বালু তোলা হয় তাকে সামান্য কিছু টাকা দেওয়া হয়। উনি মনে করেন লাভবান হয়েছেন। কিন্তু উনি অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সেটা বোঝেন না।
এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা একত্রিত হয়ে আমাকে প্রশ্ন করছেন। যদি একত্রিত হয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে পারতেন, তাহলেই কিন্তু নদী ভাঙন কমে যাবে। আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখেন যেখানে ভেঙেছে সেখানে রাতে বালু তুলেছে দিনের বেলায় সেখানে ভেঙে গেছে। এটা বাস্তবতা। আপনাদেরও দায়িত্ব আছে। আপনাদের ভালো আপনাদের বুঝতে হবে। আপনি যদি ক্ষণিকের ভালোর জন্য অসাধু ব্যবসায়ীদের বালু উঠাতে দেন তাহলে আমাদের এগুলো করে কোন লাভ নেই। আপনাদের বাড়ির সামনে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে না পারলে লোহা দিয়ে বানিয়ে দিলেও ভাঙন ঠেকানো যাবেনা।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমি সব দোষ মাথা পেতে নিজে রাজী আছি। সাধারণ জনগণের টাকায় আমরা চলি। কোটি টাকা দিয়ে বাঁধ বানাই এটা না টিকলে দ্য়া আমাদেরই নিতে হবে। কিন্তু বালু উত্তোলন এখন থেকেই বন্ধ করতে হবে। রাজবাড়ীতে পদ্মা নদী রক্ষায় ১৬৯৯ কোটি টাকার প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন আছে। আমরা পাশ করলেই কাজ শুরু হবে। যেসব জায়গা ভেঙে গেছে পানি কমলে আমাদের ডিজাইনের লোক আসবে আরও ভেতর থেকে জিও ব্যাগ ব্লক ফেলে উঠিয়ে নিয়ে আসবো যাতে করে ভাঙন না হয়। কিন্তু আবারও বলছি, আপনারা যে হারে বালু উঠাচ্ছেন আমি আধা মাইল ভেতর থেকেও যদি জিও ব্যাগ ব্লক ফেলে কাজ তুলে নিয়ে আসি এটা টিকবে না। মেহেরবানি করে এটা বন্ধ করেন। আপনাদের আশ^স্ত করতে পারি নদী আর ভাঙবে না।
নদীর চরিত্র ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাফলের কথা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। বাংলাদেশে একদিকে গ্রাম বিলীন হয়, অন্যদিকে চর পড়ে। আদিকাল থেকেই হয়ে আসছে। এটাই নদীমাতৃক বাংলাদেশের বৈশষ্ট্য। অতীতের সরকারগুলো কখনই নদী তীর রক্ষার জন্য কোনো প্রকল্প গ্রহণ করেনি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ অর্থনৈতিকভাবে দ্রুততার সাথে উন্নয়নশীল দেশে চলে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অর্থনৈতিকভাবে আমরা স্বাবলম্বী হয়েছি। এজন্য আমরা বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়ার সাহস পাচ্ছি। অথনৈতিকভাবে অতীতের চেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছি। গ্রাম-গঞ্জের মানুষ ভালো আছে। যেসব এলাকায় নদী ভাঙন আছে সেসব এলাকায় প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।
এসময় অন্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সালমা চৌধুরী রুমা, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রোকনউদ্দৌলা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক প্রকৌশলী ফজলুর রশিদ,, রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম, রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার এমএম শাকিলুজ্জামান প্রমুখ।























