Dhaka ০৯:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
লেখাপড়া আনন্দময় করার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার : শিক্ষামন্ত্রী র‌্যাঙ্কিংয়ে পাকিস্তানকে পেছনে ফেলল বাংলাদেশ মোহাম্মদপুর থানার ৩ পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, যে কারণ দেখানো হলো উত্তরায় বাবার সামনে থেকেই মেয়েকে অপহরণ, ৯ দিন পর মূলহোতা গ্রেফতার বর্তমান সরকারের কার্যক্রমে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে: বাণিজ্যমন্ত্রী পাংশায় পুলিশের অভিযানে দুই ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার শৈলকুপায় প্রস্তাবিত মেডিকেল-নার্সিং কলেজের স্থান পরিদর্শনে আইনমন্ত্রী দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা বাল্যবিবাহ ঠেকালেন ইউএনও, কনের মাকে জরিমানা ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বৃষ্টির মরদেহ শনাক্ত

যানবাহন স্বল্পতায় দৌলতদিয়ায় ভোগান্তি

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : ০৭:৪৩:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জুলাই ২০২১
  • / 257

জনতার আদালত অনলাইন ॥ কঠোর লকডাউন দীর্ঘায়িত হওয়ায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শ্রমজীবি ঘরমুখী মানুষ রাজধানী থেকে পাটুরিয়া ঘাট হয়ে পদ্মা পাড়ি দিয়ে ভীর করছেন দৌলতদিয়া ঘাটে। গণ পরিবহন বন্ধ থাকা ও পথে পথে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজদারীতে স্বাভাবিক যানবাহন চলাচল করতে না পারায় দৌলতদিয়ায় এসে চরম বিরম্বনার শিকার হচ্ছেন এসকল মানুষ।

সরেজমিন শনিবার সকাল থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত দৌলতদিয়া ঘাট ঘুরে দেখা যায়, করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সৃষ্ট পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়া নি¤œ আয়ের মানুষ রাজধানী থেকে বিভিন্ন উপায়ে পাটুরিয়া ঘাটে এসে ফেরিতে নদী পারি দিয়ে দৌলতদিয়া ঘাটে এসে পৌঁছাচ্ছেন। কিন্তু দৌলতদিয়া ঘাটে তেমন কোন যানবাহন না পাওয়ায় তারা এদিক-সেদিক শুধু ছুটোছুটি করে যাচ্ছেন। কিছু অটোরিক্সা ও থ্রীহুইলার (মাহেন্দ্র) থাকলেও তা যাত্রীর তুলনায় একেবারেই কম। তাছাড়া অটোরিক্সায় এ সকল যাত্রীর গন্তব্যে যাওয়া অনেকটাই অসম্ভব।

এসময় কথা হয় ঢাকায় ফুটপাতে খাবার বিক্রি করা কুষ্টিয়ার জহির হোসেনের সাথে। তিনি জানান, কমীহীন হয়ে পড়ায় বর্তমানে তার আর ঢাকায় থাকার মত অবস্থা নেই। বাধ্য হয়েই গ্রামে চলে যাচ্ছেন। পথে পথে অনেক ভোগান্তি মেনে নিয়ে পাটুরিয়া ঘাট হয়ে ফেরিতে দৌলতদিয়ায় এসেছি। কিন্তু এখানে যাওয়ার মত কোন গাড়ি পাচ্ছি না। বাধ্য হয়ে কয়েকগুন বেশী ভাড়া দিয়ে অটোরিক্সায় রাজবাড়ী শহর পর্যন্ত যাচ্ছি। ওখান থেকে হয়ত একটা ব্যবস্থা হবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘পকেটে যে পরিমান টাকা আছে, বাড়ি পর্যন্ত যেতে পারব কি না তাই ভাবছি?’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন থ্রীহুইলা চাকল জানান, পথে পথে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জেরার মুখে বর্তমানে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। কখনো ঘুড়িয়ে দিচ্ছেন, আবার কখনো যাত্রী নামিয়ে দিচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে তারা বাধ্য হয়েই কয়েকগুন বেশী ভাড়ায় যাত্রী তুলছেন।

এদিকে ব্যস্ততম দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে সরকারি নির্দেশনা মতে জরুরী পণ্যবাহী ট্রাক ও এ্যাম্বুলেন্স চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এসকল জরুরী যানবাহনের বাইরে সকল প্রকার যাত্রীবাহী যানবাহন নদী পারাপার বন্ধ। তবে সরকারি নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে অবাধে ফেরি পারাপার হচ্ছে ব্যক্তিগত যানবাহন ও সাধারণ যাত্রী।

দৌলতদিয়া বিআইডব্লিউটিসি’র অফিস সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৬ টা থেকে শনিবার সকাল ৬ টা পর্যন্ত গত ১২ ঘণ্টায় দৌলতদিয়া ঘাট থেকে পণ্যবাহী ট্রাক ফেরি পার হয়েছে ১১৬৯টি, ব্যক্তিগত গাড়ী, মাক্রোবাস ও ছোট ট্রাক নদী পার হয়েছে ১৩৩৭ টি। অনেক ব্যক্তিগত গাড়ীতে বিভিন্ন প্রকার স্টিকার লাগিয়ে অবাধে চলাচল করছে। এ সকল গাড়ীতে থাকা অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভাড়া এসেছে এসব গাড়ীগুলো।

ব্যাক্তিগত গাড়ির ভিতর বসে থাকা আনোয়ারুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি সাথে কথা বললে তিনি জানান, জরুরী ব্যাক্তিগত কাজ তাই যশোর যেতে হচ্ছে। মহাসড়কে গনপরিবহন না থাকায় বাধ্য হয়ে প্রাইভেটকার ভাড়ায় নিয়ে এসেছি। এতে আমার অতিরিক্ত টাকা ব্যয় হয়েছে। এসময় পাশে বসে থাকা প্রাইভেটকারের চালক বলেন, ঢাকার শহরে বসে থাকলে চলবে কিভাবে। ঘর ভাড়া, বিদুৎ বিল, পানি বিল সহ নানা প্রকার ব্যয়। এসকল টাকা আমরা দেবো কোথায় থেকে। যে কারণে বাধ্য হয়ে এসেছি।

সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দৌলতদিয়া ৪, ৫, ৬ ও ৭নং ফেরি ঘাট স্বাভাবিক রয়েছে। ১, ২ ও ৩ নং ফেরি ঘাট বন্ধ আছে। এই নৌরুটে বর্তমান রোরো (বড়) ৯টি, ইউটিলিটি (ছোট) ৭টি এবং ১টি কে-টাইপ ফেরি সহ মোট ফেরি ১৭টি চলাচল করছে।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মোঃ শিহাব উদ্দিন জানান, যানবাহন কম থাকার কারণে ১৭টি ফেরি পর্যায়ক্রমে চালানো হচ্ছে। পণ্যবাহী ট্রাকের পাশাপাশি বিধি অনুযায়ী ডাক্তার, সরকারী কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সংস্থার কিছু ব্যক্তিগত গাড়ী নদী পারাপার হচ্ছে। ভুয়া স্টিকার লাগানো গাড়ি সম্পর্কে তিনি বলেন, ঘাট এলাকায় সেনা সদস্য সহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারীর মাধ্যমে এ সকল ব্যাক্তিগত গাড়ি পারাপার করা হচ্ছে। এাছাড়া দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া ফেরিগুলোতে তেমন কোন সাধারন যাত্রী নেই বলে তিনি দাবি করেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

যানবাহন স্বল্পতায় দৌলতদিয়ায় ভোগান্তি

প্রকাশের সময় : ০৭:৪৩:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জুলাই ২০২১

জনতার আদালত অনলাইন ॥ কঠোর লকডাউন দীর্ঘায়িত হওয়ায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শ্রমজীবি ঘরমুখী মানুষ রাজধানী থেকে পাটুরিয়া ঘাট হয়ে পদ্মা পাড়ি দিয়ে ভীর করছেন দৌলতদিয়া ঘাটে। গণ পরিবহন বন্ধ থাকা ও পথে পথে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজদারীতে স্বাভাবিক যানবাহন চলাচল করতে না পারায় দৌলতদিয়ায় এসে চরম বিরম্বনার শিকার হচ্ছেন এসকল মানুষ।

সরেজমিন শনিবার সকাল থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত দৌলতদিয়া ঘাট ঘুরে দেখা যায়, করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সৃষ্ট পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়া নি¤œ আয়ের মানুষ রাজধানী থেকে বিভিন্ন উপায়ে পাটুরিয়া ঘাটে এসে ফেরিতে নদী পারি দিয়ে দৌলতদিয়া ঘাটে এসে পৌঁছাচ্ছেন। কিন্তু দৌলতদিয়া ঘাটে তেমন কোন যানবাহন না পাওয়ায় তারা এদিক-সেদিক শুধু ছুটোছুটি করে যাচ্ছেন। কিছু অটোরিক্সা ও থ্রীহুইলার (মাহেন্দ্র) থাকলেও তা যাত্রীর তুলনায় একেবারেই কম। তাছাড়া অটোরিক্সায় এ সকল যাত্রীর গন্তব্যে যাওয়া অনেকটাই অসম্ভব।

এসময় কথা হয় ঢাকায় ফুটপাতে খাবার বিক্রি করা কুষ্টিয়ার জহির হোসেনের সাথে। তিনি জানান, কমীহীন হয়ে পড়ায় বর্তমানে তার আর ঢাকায় থাকার মত অবস্থা নেই। বাধ্য হয়েই গ্রামে চলে যাচ্ছেন। পথে পথে অনেক ভোগান্তি মেনে নিয়ে পাটুরিয়া ঘাট হয়ে ফেরিতে দৌলতদিয়ায় এসেছি। কিন্তু এখানে যাওয়ার মত কোন গাড়ি পাচ্ছি না। বাধ্য হয়ে কয়েকগুন বেশী ভাড়া দিয়ে অটোরিক্সায় রাজবাড়ী শহর পর্যন্ত যাচ্ছি। ওখান থেকে হয়ত একটা ব্যবস্থা হবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘পকেটে যে পরিমান টাকা আছে, বাড়ি পর্যন্ত যেতে পারব কি না তাই ভাবছি?’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন থ্রীহুইলা চাকল জানান, পথে পথে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জেরার মুখে বর্তমানে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। কখনো ঘুড়িয়ে দিচ্ছেন, আবার কখনো যাত্রী নামিয়ে দিচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে তারা বাধ্য হয়েই কয়েকগুন বেশী ভাড়ায় যাত্রী তুলছেন।

এদিকে ব্যস্ততম দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে সরকারি নির্দেশনা মতে জরুরী পণ্যবাহী ট্রাক ও এ্যাম্বুলেন্স চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এসকল জরুরী যানবাহনের বাইরে সকল প্রকার যাত্রীবাহী যানবাহন নদী পারাপার বন্ধ। তবে সরকারি নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে অবাধে ফেরি পারাপার হচ্ছে ব্যক্তিগত যানবাহন ও সাধারণ যাত্রী।

দৌলতদিয়া বিআইডব্লিউটিসি’র অফিস সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৬ টা থেকে শনিবার সকাল ৬ টা পর্যন্ত গত ১২ ঘণ্টায় দৌলতদিয়া ঘাট থেকে পণ্যবাহী ট্রাক ফেরি পার হয়েছে ১১৬৯টি, ব্যক্তিগত গাড়ী, মাক্রোবাস ও ছোট ট্রাক নদী পার হয়েছে ১৩৩৭ টি। অনেক ব্যক্তিগত গাড়ীতে বিভিন্ন প্রকার স্টিকার লাগিয়ে অবাধে চলাচল করছে। এ সকল গাড়ীতে থাকা অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভাড়া এসেছে এসব গাড়ীগুলো।

ব্যাক্তিগত গাড়ির ভিতর বসে থাকা আনোয়ারুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি সাথে কথা বললে তিনি জানান, জরুরী ব্যাক্তিগত কাজ তাই যশোর যেতে হচ্ছে। মহাসড়কে গনপরিবহন না থাকায় বাধ্য হয়ে প্রাইভেটকার ভাড়ায় নিয়ে এসেছি। এতে আমার অতিরিক্ত টাকা ব্যয় হয়েছে। এসময় পাশে বসে থাকা প্রাইভেটকারের চালক বলেন, ঢাকার শহরে বসে থাকলে চলবে কিভাবে। ঘর ভাড়া, বিদুৎ বিল, পানি বিল সহ নানা প্রকার ব্যয়। এসকল টাকা আমরা দেবো কোথায় থেকে। যে কারণে বাধ্য হয়ে এসেছি।

সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দৌলতদিয়া ৪, ৫, ৬ ও ৭নং ফেরি ঘাট স্বাভাবিক রয়েছে। ১, ২ ও ৩ নং ফেরি ঘাট বন্ধ আছে। এই নৌরুটে বর্তমান রোরো (বড়) ৯টি, ইউটিলিটি (ছোট) ৭টি এবং ১টি কে-টাইপ ফেরি সহ মোট ফেরি ১৭টি চলাচল করছে।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মোঃ শিহাব উদ্দিন জানান, যানবাহন কম থাকার কারণে ১৭টি ফেরি পর্যায়ক্রমে চালানো হচ্ছে। পণ্যবাহী ট্রাকের পাশাপাশি বিধি অনুযায়ী ডাক্তার, সরকারী কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সংস্থার কিছু ব্যক্তিগত গাড়ী নদী পারাপার হচ্ছে। ভুয়া স্টিকার লাগানো গাড়ি সম্পর্কে তিনি বলেন, ঘাট এলাকায় সেনা সদস্য সহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারীর মাধ্যমে এ সকল ব্যাক্তিগত গাড়ি পারাপার করা হচ্ছে। এাছাড়া দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া ফেরিগুলোতে তেমন কোন সাধারন যাত্রী নেই বলে তিনি দাবি করেন।