Dhaka ০৬:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ জুন ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মানসিক প্রতিবন্ধী যুবকের কান্ড!

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : ০৭:৫৪:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১
  • / ১২০৬ জন সংবাদটি পড়েছেন

জনতার আদালত অনলাইন ॥ গভীর রাতে দাউ দাউ করে আগুন জ¦লতে দেখে এলাকাবাসী ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। ফায়ার কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় পাশাপাশি তিনটি  খড়ের গাদা ও একটি  পাটকাঠির গাদার আগুন নিভিয়ে চলে যায়। ভোরে নামাজ পড়তে  গিয়ে দেখা  যায়, মসজিদের মিম্বার পোড়ানো অবস্থায় রয়েছে। এরপর এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কোন্ দুর্বৃত্ত ঘটালো এ ঘটনা। পরে পুলিশ তদন্ত করে বের করে মানসিক প্রতিবন্ধী এক যুবক এসব কান্ড ঘটিয়েছে। এঘটনা ঘটেছে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের জিয়েলগাড়ী গ্রামে। মাত্র একদিন আগে পাশর্^বর্তী গ্রাম সাহেবপাড়ায় একটি মন্দিরে রহস্যজনক  অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, জিয়েলগাড়ী গ্রামের  রবিউল ইসলাম আওয়াল, পরিমল মন্ডল, হাজারী সরকার তাদের বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় খড়ের  গাদা করেছিলেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত  তিনটার দিকে একসঙ্গে এসব খড়ের গাদাসহ একটি পাটকাঠির গাদায় আগুন দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। ফায়ার কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিভিয়ে ফিরে যায়।

ভোরে স্থানীয় মাদ্রসার ছাত্ররা জিয়েলগাড়ি জামে মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে দেখতে পায়, মসজিদের মিম্বার আগুন দিয়ে পোড়ানো। পাশেই ছড়িয়ে আছে তালপাতা। ধারণা করা হচ্ছে তালপাতা দিয়ে মিম্বারটি পোড়ানো হয়েছে। ওই মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জীন একটি ওরশ শরীফে যাওয়ায় মসজিদে কেউ ছিলনা।

বালিয়াকান্দি ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার শঙ্কর বিশ^াস জানান, খড়ের গাদায়  অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে রাত তিনটার দিকে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভান। অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত তাদের কাছে অজানা। মসজিদে অগ্নিকান্ডের কথা তাদের কেউ অবগত করেনি। সকালে বিষয়টি শুনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

নবাবপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাসান আলী জানান, আমাদের গ্রামে তুষার নামে মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবক আছে। সেই এসব করছে বলে ধারণা।  এর আগে সে ইউনিয়ন পরিষদের জানালা, লাইট ভাংচুর করেছে। তাছাড়া, মসজিদে আগুন দেওয়ার মত দুঃসাহস কারো নেই।

বালিয়াকান্দি থানার ওসি তারেকুজ্জামান জানান, মসজিদে আগুনের খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করার পর কারণও উদ্ঘাটন করা হয়েছে। ওই গ্রামে মো. আলমগীরের ছেলে তুষার মানসিক ভানসাম্যহীন। সেই এসব ঘটিয়েছে। এর আগে তাদের বাড়ির মসজিদে আগুন দেওয়ার পর তার বাবা তাকে তালাবদ্ধ করে রেখেছিল। রাতে ছাড়া পেয়ে সে প্রথমে খড়ের গাদায় আগুন দেয়। পরে মসজিদের ভেতরে ঢুকে এ ঘটনা ঘটায়। মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

মানসিক প্রতিবন্ধী যুবকের কান্ড!

প্রকাশের সময় : ০৭:৫৪:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১

জনতার আদালত অনলাইন ॥ গভীর রাতে দাউ দাউ করে আগুন জ¦লতে দেখে এলাকাবাসী ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। ফায়ার কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় পাশাপাশি তিনটি  খড়ের গাদা ও একটি  পাটকাঠির গাদার আগুন নিভিয়ে চলে যায়। ভোরে নামাজ পড়তে  গিয়ে দেখা  যায়, মসজিদের মিম্বার পোড়ানো অবস্থায় রয়েছে। এরপর এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কোন্ দুর্বৃত্ত ঘটালো এ ঘটনা। পরে পুলিশ তদন্ত করে বের করে মানসিক প্রতিবন্ধী এক যুবক এসব কান্ড ঘটিয়েছে। এঘটনা ঘটেছে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের জিয়েলগাড়ী গ্রামে। মাত্র একদিন আগে পাশর্^বর্তী গ্রাম সাহেবপাড়ায় একটি মন্দিরে রহস্যজনক  অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, জিয়েলগাড়ী গ্রামের  রবিউল ইসলাম আওয়াল, পরিমল মন্ডল, হাজারী সরকার তাদের বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় খড়ের  গাদা করেছিলেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত  তিনটার দিকে একসঙ্গে এসব খড়ের গাদাসহ একটি পাটকাঠির গাদায় আগুন দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। ফায়ার কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিভিয়ে ফিরে যায়।

ভোরে স্থানীয় মাদ্রসার ছাত্ররা জিয়েলগাড়ি জামে মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে দেখতে পায়, মসজিদের মিম্বার আগুন দিয়ে পোড়ানো। পাশেই ছড়িয়ে আছে তালপাতা। ধারণা করা হচ্ছে তালপাতা দিয়ে মিম্বারটি পোড়ানো হয়েছে। ওই মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জীন একটি ওরশ শরীফে যাওয়ায় মসজিদে কেউ ছিলনা।

বালিয়াকান্দি ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার শঙ্কর বিশ^াস জানান, খড়ের গাদায়  অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে রাত তিনটার দিকে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভান। অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত তাদের কাছে অজানা। মসজিদে অগ্নিকান্ডের কথা তাদের কেউ অবগত করেনি। সকালে বিষয়টি শুনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

নবাবপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাসান আলী জানান, আমাদের গ্রামে তুষার নামে মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবক আছে। সেই এসব করছে বলে ধারণা।  এর আগে সে ইউনিয়ন পরিষদের জানালা, লাইট ভাংচুর করেছে। তাছাড়া, মসজিদে আগুন দেওয়ার মত দুঃসাহস কারো নেই।

বালিয়াকান্দি থানার ওসি তারেকুজ্জামান জানান, মসজিদে আগুনের খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করার পর কারণও উদ্ঘাটন করা হয়েছে। ওই গ্রামে মো. আলমগীরের ছেলে তুষার মানসিক ভানসাম্যহীন। সেই এসব ঘটিয়েছে। এর আগে তাদের বাড়ির মসজিদে আগুন দেওয়ার পর তার বাবা তাকে তালাবদ্ধ করে রেখেছিল। রাতে ছাড়া পেয়ে সে প্রথমে খড়ের গাদায় আগুন দেয়। পরে মসজিদের ভেতরে ঢুকে এ ঘটনা ঘটায়। মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।