Dhaka 4:52 pm, Wednesday, 8 February 2023

কালুখালীর যাত্রী ছাউনী ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় আ’লীগ নেতা মজনুর বিরুদ্ধে তদন্ত রিপোর্ট ॥ মার্কেট নির্মাণ করার উদ্দেশ্যেই ভাঙা হয় যাত্রী ছাউনী

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : 07:13:21 pm, Tuesday, 22 December 2020
  • / 2013 জন সংবাদটি পড়েছেন

জনতার আদালত অনলাইন ॥ ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তারিখ মাঝরাতে দৌলতদিয়া-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত জেলা পরিষদের যাত্রী ছাউনীটি ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয় ভাংচুরের সকল মালামালও। ঘটনার দুদিন পর রাজবাড়ী জেলা পরিষদের সদস্য ও কালুখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান মজনু লোকজন নিয়ে যাত্রী ছাউনী ভাঙার জন্য তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি কাজী সাইফুল ইসলামকে দায়ী করে মানববন্ধনও করেন। সম্প্রতি পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে যাত্রী ছাউনী ভাঙার সঙ্গে জেলা পরিষদ সদস্য মিজানুর রহমান মজনুই জড়িত। তার ক্রয়কৃত জমিতে মার্কেট ও যাতায়াতের রাস্তা করতেই তিনি যাত্রী ছাউনী ভেঙেছেন। এর আগে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনও প্রায় একই ধরণের তদন্ত রিপোর্ট দিয়েছে। কিন্তু জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে এখনও মিজানুর রহমান মজনুর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বলছেন, মজনু তিন মাস জেলা পরিষদের মিটিংয়ে অনুপস্থিত থাকায় নিয়মানুযায়ী তার বেতন বন্ধ রয়েছে।

জানা গেছে, কালুখালীর যাত্রী ছাউনী ভাঙার ঘটনার দুইদিন পরে ২০১৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী সাইফুল ইসলাম কারো নাম উল্লেখ না করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন। তার দুদিন পর ২৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী আবু ইউনুছ মোল্লা বাদী হয়ে কালুখালী থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। একই তারিখে জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ঢাকা বিভাগের স্থানীয় সরকার পরিচালককে বিষয়টি জানিয়ে চিঠি দেন।

কালুখালী থানায় দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করা হয়, ২০ ফেব্রুয়ারি তারিখ রাত ১১টা থেকে একটার মধ্যে কালুখালীর চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত ২০ ফুট লম্বা ও ১২ ফুট চওড়া যাত্রী ছাউনী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা বুলড্রেজার/ভেকু দিয়ে সম্পূর্ণ ভেঙে গুড়িয়ে দিয়ে ইট, রড, সাটার, গ্রীলসহ  সকল মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে। এতে জেলা পরিষদের ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া সেখানে একটি দোকানঘরও  ছিল। যাত্রী ছাউনীটি জেলা পরিষদের আয়ের অন্যতম একটি আয়ের উৎস। যা থেকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্যগণ ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন প্রদান করা হয়ে থাকে। এ ঘটনায় জড়িত দুর্বৃত্তদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া না হলে জেলা পরিষদের অনেক সম্পদ এভাবেই চুরি হতে থাকবে।

পরবর্তীতে মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআই ফরিদপুরকে অর্পণ করা হয়।

গত ১৪ ডিসেম্বর তারিখে পিবিআই ফরিদপুর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআই ফরিদপুরের  এসআই মাহবুবুর রহমান তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, কালুখালী উপজেলার প্রবেশদ্বার চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত যাত্রী ছাউনী ছিল। যাত্রী ছাউনীর পেছনে রাজবাড়ী জেলা পরিষদের সদস্য মিজানুর রহমান মজনুর আট শতক জমি রয়েছে। মজনু সেখানে মাটি ভরাট করে একটি মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনা করছিল। কিন্তু যাত্রী ছাউনীর জন্য সেটি বাস্তবায়ন করতে পারছিল না। তদন্তকালে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টার পর লোকজন চলে গেলেও মিজানুর রহমান মজনু তার লোকজন নিয়ে সেখানে অবস্থান করছিল। রাত ১২টা ১০ থেকে ১২টা ৩০ এর মধ্যে আসামি মজনুর হুকুমে আমজাদ হোসেন বেআইনীভাবে অনাধিকার প্রবেশ করে কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে যাত্রী ছাউনীটি সম্পূর্ণ ভেঙ্গে মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। তদন্তকালে আরও জানা যায়, মিজানুর রহমান মজনু ক্রয়কৃত জমি ফরোয়ার্ড করার লক্ষ্যে নিজে লাভবান হওয়ার জন্য যাত্রী ছাউনী ভাঙার নির্দেশ দিয়েছেন।

এর আগে রাজবাড়ীর তৎকালীন স্থানীয় সরকার উপ পরিচালক (অঃদাঃ) মোহাম্মদ আশেক হাসানও প্রায় একই ধরণের তদন্ত প্রতিবেদন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক বরাবর দাখিল করেন।

কালুখালী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও কালুখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি কাজী সাইফুল ইসলাম বলেন, যাত্রী ছাউনী ভাঙার পর ২৩ ফেব্রুয়ারি তারিখে ঘটনার সাথে জড়িতদের শাস্তি দাবি করে আমি জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি দিয়েছিলাম। তার প্রেক্ষিতে যাত্রী ছাউনী ভাঙার জন্য উল্টো আমাকে দায়ী করে মজনু মানববন্ধন করে। উপজেলা নির্বাচনে আমি নৌকার প্রার্থী ছিলাম। ওরা আওয়ামী লীগের লোক হয়েও আমার বিরোধীতা করে। মজনুই যে যাত্রী ছাউনী ভেঙেছে তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ, জেলা পরিষদের মিটিংয়ে সে যাত্রী ছাউনীটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ভেঙে ফেলার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু সে প্রস্তাব গৃহীত হয়নি।

কালুখালী থানার ওসি মাসুদুর রহমান বলেন, যখনকার ঘটনা তার অনেক পরে আমি ওসি হিসেবে কালুখালী থানায় যোগ দেই। মিজানুর রহমান মজনুর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা আছে। মামলাগুলো ডিবি পুলিশ তদন্ত করেেছ। মজনু এখন পলাতক।

পিবিআই ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান জানান, যাত্রী ছাউনী ভাঙার ঘটনায় পিবিআই তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে।

রাজবাড়ী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফকীর আব্দুল জব্বার বলেন, যাত্রী ছাউনী ভাঙার ঘটনায় রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন তদন্ত রিপোর্ট দিয়েছে। আইন মোতাবেক সরকার যেটা করার করবে। তিনি জানান, ইনফরমেশন না দিয়ে কেউ যদি পরপর তিনটি সভায় উপস্থিত না থাকে তাহলে তার বেতন বন্ধ হয়ে যায়। মজনুর বেতন এখন বন্ধ আছে।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য রাজবাড়ী জেলা পরিষদের সদস্য ও কালুখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান মজনুর মোবাইল ফোনে  কল দেওয়া হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

কালুখালীর যাত্রী ছাউনী ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় আ’লীগ নেতা মজনুর বিরুদ্ধে তদন্ত রিপোর্ট ॥ মার্কেট নির্মাণ করার উদ্দেশ্যেই ভাঙা হয় যাত্রী ছাউনী

প্রকাশের সময় : 07:13:21 pm, Tuesday, 22 December 2020

জনতার আদালত অনলাইন ॥ ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তারিখ মাঝরাতে দৌলতদিয়া-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত জেলা পরিষদের যাত্রী ছাউনীটি ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয় ভাংচুরের সকল মালামালও। ঘটনার দুদিন পর রাজবাড়ী জেলা পরিষদের সদস্য ও কালুখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান মজনু লোকজন নিয়ে যাত্রী ছাউনী ভাঙার জন্য তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি কাজী সাইফুল ইসলামকে দায়ী করে মানববন্ধনও করেন। সম্প্রতি পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে যাত্রী ছাউনী ভাঙার সঙ্গে জেলা পরিষদ সদস্য মিজানুর রহমান মজনুই জড়িত। তার ক্রয়কৃত জমিতে মার্কেট ও যাতায়াতের রাস্তা করতেই তিনি যাত্রী ছাউনী ভেঙেছেন। এর আগে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনও প্রায় একই ধরণের তদন্ত রিপোর্ট দিয়েছে। কিন্তু জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে এখনও মিজানুর রহমান মজনুর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বলছেন, মজনু তিন মাস জেলা পরিষদের মিটিংয়ে অনুপস্থিত থাকায় নিয়মানুযায়ী তার বেতন বন্ধ রয়েছে।

জানা গেছে, কালুখালীর যাত্রী ছাউনী ভাঙার ঘটনার দুইদিন পরে ২০১৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী সাইফুল ইসলাম কারো নাম উল্লেখ না করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন। তার দুদিন পর ২৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী আবু ইউনুছ মোল্লা বাদী হয়ে কালুখালী থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। একই তারিখে জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ঢাকা বিভাগের স্থানীয় সরকার পরিচালককে বিষয়টি জানিয়ে চিঠি দেন।

কালুখালী থানায় দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করা হয়, ২০ ফেব্রুয়ারি তারিখ রাত ১১টা থেকে একটার মধ্যে কালুখালীর চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত ২০ ফুট লম্বা ও ১২ ফুট চওড়া যাত্রী ছাউনী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা বুলড্রেজার/ভেকু দিয়ে সম্পূর্ণ ভেঙে গুড়িয়ে দিয়ে ইট, রড, সাটার, গ্রীলসহ  সকল মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে। এতে জেলা পরিষদের ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া সেখানে একটি দোকানঘরও  ছিল। যাত্রী ছাউনীটি জেলা পরিষদের আয়ের অন্যতম একটি আয়ের উৎস। যা থেকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্যগণ ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন প্রদান করা হয়ে থাকে। এ ঘটনায় জড়িত দুর্বৃত্তদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া না হলে জেলা পরিষদের অনেক সম্পদ এভাবেই চুরি হতে থাকবে।

পরবর্তীতে মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআই ফরিদপুরকে অর্পণ করা হয়।

গত ১৪ ডিসেম্বর তারিখে পিবিআই ফরিদপুর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআই ফরিদপুরের  এসআই মাহবুবুর রহমান তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, কালুখালী উপজেলার প্রবেশদ্বার চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত যাত্রী ছাউনী ছিল। যাত্রী ছাউনীর পেছনে রাজবাড়ী জেলা পরিষদের সদস্য মিজানুর রহমান মজনুর আট শতক জমি রয়েছে। মজনু সেখানে মাটি ভরাট করে একটি মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনা করছিল। কিন্তু যাত্রী ছাউনীর জন্য সেটি বাস্তবায়ন করতে পারছিল না। তদন্তকালে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টার পর লোকজন চলে গেলেও মিজানুর রহমান মজনু তার লোকজন নিয়ে সেখানে অবস্থান করছিল। রাত ১২টা ১০ থেকে ১২টা ৩০ এর মধ্যে আসামি মজনুর হুকুমে আমজাদ হোসেন বেআইনীভাবে অনাধিকার প্রবেশ করে কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে যাত্রী ছাউনীটি সম্পূর্ণ ভেঙ্গে মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। তদন্তকালে আরও জানা যায়, মিজানুর রহমান মজনু ক্রয়কৃত জমি ফরোয়ার্ড করার লক্ষ্যে নিজে লাভবান হওয়ার জন্য যাত্রী ছাউনী ভাঙার নির্দেশ দিয়েছেন।

এর আগে রাজবাড়ীর তৎকালীন স্থানীয় সরকার উপ পরিচালক (অঃদাঃ) মোহাম্মদ আশেক হাসানও প্রায় একই ধরণের তদন্ত প্রতিবেদন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক বরাবর দাখিল করেন।

কালুখালী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও কালুখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি কাজী সাইফুল ইসলাম বলেন, যাত্রী ছাউনী ভাঙার পর ২৩ ফেব্রুয়ারি তারিখে ঘটনার সাথে জড়িতদের শাস্তি দাবি করে আমি জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি দিয়েছিলাম। তার প্রেক্ষিতে যাত্রী ছাউনী ভাঙার জন্য উল্টো আমাকে দায়ী করে মজনু মানববন্ধন করে। উপজেলা নির্বাচনে আমি নৌকার প্রার্থী ছিলাম। ওরা আওয়ামী লীগের লোক হয়েও আমার বিরোধীতা করে। মজনুই যে যাত্রী ছাউনী ভেঙেছে তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ, জেলা পরিষদের মিটিংয়ে সে যাত্রী ছাউনীটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ভেঙে ফেলার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু সে প্রস্তাব গৃহীত হয়নি।

কালুখালী থানার ওসি মাসুদুর রহমান বলেন, যখনকার ঘটনা তার অনেক পরে আমি ওসি হিসেবে কালুখালী থানায় যোগ দেই। মিজানুর রহমান মজনুর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা আছে। মামলাগুলো ডিবি পুলিশ তদন্ত করেেছ। মজনু এখন পলাতক।

পিবিআই ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান জানান, যাত্রী ছাউনী ভাঙার ঘটনায় পিবিআই তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে।

রাজবাড়ী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফকীর আব্দুল জব্বার বলেন, যাত্রী ছাউনী ভাঙার ঘটনায় রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন তদন্ত রিপোর্ট দিয়েছে। আইন মোতাবেক সরকার যেটা করার করবে। তিনি জানান, ইনফরমেশন না দিয়ে কেউ যদি পরপর তিনটি সভায় উপস্থিত না থাকে তাহলে তার বেতন বন্ধ হয়ে যায়। মজনুর বেতন এখন বন্ধ আছে।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য রাজবাড়ী জেলা পরিষদের সদস্য ও কালুখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান মজনুর মোবাইল ফোনে  কল দেওয়া হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।