Dhaka ১১:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জরিমানার ভয়ে আলু বিক্রি বন্ধ!

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : ০৬:১১:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর ২০২০
  • / ১২৭৭ জন সংবাদটি পড়েছেন

জনতার আদালত অনলাইন ॥ জরিমানার ভয়ে আলু বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে রাজবাড়ীতে। গত কয়েকদিন ধরে বিরাজ করছে এ অবস্থা। তরকারিতে একান্ত প্রয়োজনীয় এ সবজিটি না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

জানা গেছে, আলুর দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে সরকার পাইকারী ৩০ টাকা ও খুচরা ৩৫ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু এরপরও বাজারে আলুর দাম কমছিল না। গত ৯ নভেম্বর তারিখে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাজবাড়ী আড়তপট্টিতে অভিযান চালিয়ে তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করে। এর পরদিন থেকে আলু শূন্য হতে থাকে বাজার। গত দুদিন ধরে রাজবাড়ীর কাঁচাবাজার আলুশূন্য হয়ে গেছে। আড়তদাররা বলছেন, বেশি দামে আলু কিনে সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করলে তাদের লোকসান গুনতে হয়। আর না হলে জরিমানা। একারণে তারা আলু আমদানী করছেন না।

রোববার দুপুরে রাজবাড়ী কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে বেশির ভাগ দোকানে আলু নেই। দু একটি দোকানে অল্প কিছু আলু থাকলেও দাম ৫০ টাকা কেজি।

খুচরা বিক্রেতা দুলাল মিয়া, আবু বকর সিদ্দিকসহ বেশ কয়েকজন জানান, রাজবাড়ী আড়ত থেকে তারা সবজি কিনে খুচরা বিক্রি করেন। আড়তে গত কয়েকদিন ধরে আলু বিক্রি করছে না।

বাজারে একটি দোকানে দেখা গেল অল্প কিছু আলু। ওই  দোকানের মালিক  মোতালেব আলী জানান, রাজবাড়ী আড়তে আলু নেই। কিন্তু তার নিয়মিত ক্রেতাদের কারণে শহরতলীর বাণিবহ, বহরপুর বাজার থেকে কিনে এনেছেন। বিক্রি করছেন ৫০ টাকা কেজি দরে।

রাজবাড়ী আড়তপট্টির জাহিদ ট্রেডার্সের মালিক আড়তদার জাহিদুল ইসলাম জানান, হিমাগার থেকে আলুর দাম প্রতি কেজি ৩৭ টাকা। সরকার নির্ধারণ করে দিয়েছে ৩০ টাকা। তাতে প্রতি কেজিতে লস ৭ টাকা। আর বেশি দামে বিক্রি করলে গুনতে হয় জরিমানা। একারণে তারা আলু আমদানী বন্ধ রেখেছেন। আড়তপট্টির মোক্তার ট্রেডার্স, মজনু ট্রেডার্সের মালিকরাও জানালেন একই কথা।

রাজবাড়ী জেলা ভোক্তা সংরক্ষণ অধিধপ্তরের সহকারী পরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, রাজবাড়ী বাজারে আলুর সংকটের বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত আছেন। সরকার নির্ধারিত দামে আলু বিক্রি করার জন্য আমরা হস্তক্ষেপ করেছিলাম। একারণে ব্যবসায়ীরা আলু আমদানী করছে না অথবা আলু গোপনে রেখে দিয়েছে। তবে শনিবার রাজবাড়ীতে দুই ট্রাক আলু ঢুকেছে বলে তাদের কাছে তথ্য আছে। বিষয়টি তারা পর্যবেক্ষণ করছেন।

এদিকে নিত্য প্রয়োজনীয় বেগুন, পটল, ফুলকপি, সিম, পটল, মূলা, কাঁচামরিচসহ অন্যান্য সবজির দামও ধরাছোয়ার বাইরে। ৫০ টাকা থেকে ৮০  টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে এসব সবজি। একারণে তরকারি কেনাকাটা করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

জরিমানার ভয়ে আলু বিক্রি বন্ধ!

প্রকাশের সময় : ০৬:১১:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর ২০২০

জনতার আদালত অনলাইন ॥ জরিমানার ভয়ে আলু বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে রাজবাড়ীতে। গত কয়েকদিন ধরে বিরাজ করছে এ অবস্থা। তরকারিতে একান্ত প্রয়োজনীয় এ সবজিটি না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

জানা গেছে, আলুর দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে সরকার পাইকারী ৩০ টাকা ও খুচরা ৩৫ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু এরপরও বাজারে আলুর দাম কমছিল না। গত ৯ নভেম্বর তারিখে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাজবাড়ী আড়তপট্টিতে অভিযান চালিয়ে তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করে। এর পরদিন থেকে আলু শূন্য হতে থাকে বাজার। গত দুদিন ধরে রাজবাড়ীর কাঁচাবাজার আলুশূন্য হয়ে গেছে। আড়তদাররা বলছেন, বেশি দামে আলু কিনে সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করলে তাদের লোকসান গুনতে হয়। আর না হলে জরিমানা। একারণে তারা আলু আমদানী করছেন না।

রোববার দুপুরে রাজবাড়ী কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে বেশির ভাগ দোকানে আলু নেই। দু একটি দোকানে অল্প কিছু আলু থাকলেও দাম ৫০ টাকা কেজি।

খুচরা বিক্রেতা দুলাল মিয়া, আবু বকর সিদ্দিকসহ বেশ কয়েকজন জানান, রাজবাড়ী আড়ত থেকে তারা সবজি কিনে খুচরা বিক্রি করেন। আড়তে গত কয়েকদিন ধরে আলু বিক্রি করছে না।

বাজারে একটি দোকানে দেখা গেল অল্প কিছু আলু। ওই  দোকানের মালিক  মোতালেব আলী জানান, রাজবাড়ী আড়তে আলু নেই। কিন্তু তার নিয়মিত ক্রেতাদের কারণে শহরতলীর বাণিবহ, বহরপুর বাজার থেকে কিনে এনেছেন। বিক্রি করছেন ৫০ টাকা কেজি দরে।

রাজবাড়ী আড়তপট্টির জাহিদ ট্রেডার্সের মালিক আড়তদার জাহিদুল ইসলাম জানান, হিমাগার থেকে আলুর দাম প্রতি কেজি ৩৭ টাকা। সরকার নির্ধারণ করে দিয়েছে ৩০ টাকা। তাতে প্রতি কেজিতে লস ৭ টাকা। আর বেশি দামে বিক্রি করলে গুনতে হয় জরিমানা। একারণে তারা আলু আমদানী বন্ধ রেখেছেন। আড়তপট্টির মোক্তার ট্রেডার্স, মজনু ট্রেডার্সের মালিকরাও জানালেন একই কথা।

রাজবাড়ী জেলা ভোক্তা সংরক্ষণ অধিধপ্তরের সহকারী পরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, রাজবাড়ী বাজারে আলুর সংকটের বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত আছেন। সরকার নির্ধারিত দামে আলু বিক্রি করার জন্য আমরা হস্তক্ষেপ করেছিলাম। একারণে ব্যবসায়ীরা আলু আমদানী করছে না অথবা আলু গোপনে রেখে দিয়েছে। তবে শনিবার রাজবাড়ীতে দুই ট্রাক আলু ঢুকেছে বলে তাদের কাছে তথ্য আছে। বিষয়টি তারা পর্যবেক্ষণ করছেন।

এদিকে নিত্য প্রয়োজনীয় বেগুন, পটল, ফুলকপি, সিম, পটল, মূলা, কাঁচামরিচসহ অন্যান্য সবজির দামও ধরাছোয়ার বাইরে। ৫০ টাকা থেকে ৮০  টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে এসব সবজি। একারণে তরকারি কেনাকাটা করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ।