Dhaka ০১:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিম আর নেই

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : ০৬:৩৬:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২০
  • / ১৩২২ জন সংবাদটি পড়েছেন

জনতার আদালত অনলাইন ॥ একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের অধ্যাপক মনসুল উল করিম (৭০) আর নেই। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি (ইন্নালিল্লাহি..রাজিউন)। রাজবাড়ী শহরের সজ্জনকান্দা বড়পুলের  বাসিন্দা মনসুর উল করিম মৃত্যুকালে দুই ছেলে, এক মেয়ে, আত্মীয় স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। সমকাল সুহৃদ সমাবেশ রাজবাড়ী জেলা কমিটির উপদেষ্টা ছিলেন তিনি। তার মৃত্যুর খবরে রাজবাড়ীতে শোকের ছায় নেমে আসে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্ট্যাটাস দেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিম ১৯৫০ সালে রাজবাড়ী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭২ সালে ঢাকা আর্ট ইনস্টিটিউট থেকে চারুকলায় ¯œাতক এবং ১৯৭৪ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ¯œাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করার পর তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে অধ্যাপনা শুরু করেন। ২০০৯ সালে তিনি  চিত্রকলায় বিশেষ অবদানের জন্য একুশে পদকে ভূষিত হন। দীর্ঘ ৪০ বছর অধ্যাপনা  শেষে অবসর গ্রহণ করে তৃণমূল পর্যায়ে চিত্রশিল্পী গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিজ জেলা রাজবাড়ীর রামকান্তপুর স্বর্ণশিমুল তলায় গড়ে তোলেন বুনন আর্ট স্পেস। যেটির কাজ এখনও চলমান রয়েছে।

একুশে পদক ছাড়াও তিনি দেশে বিদেশে বিভিন্ন পুরষ্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন। চিত্রকলায় সামগ্রিকভাবে অবদানের জন্য ২০১৪ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি থেকে তাকে সুলতান পদক দেয়া হয়। ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরষ্কার এবং ষষ্ঠ এশিয়ান আর্ট বিয়েনাল পদক লাভ করেন। ১৯৯৪  সালে ভারতীয় ললিতকলা একাডেমি আয়োজিত অষ্টম ভারতীয় ত্রিবার্ষিক আন্তর্জাতিক চারুকলা প্রদর্শনী থেকে তিনি পুরষ্কার লাভ করেন।

১৯৭২ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে তাঁর ২৬টি একক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের চিত্রশিল্পকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল তার। গত কয়েক বছর যাবৎ বার্ধক্যসহ নানা রোগে ভুগে শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় তার কাজকে এগিয়ে নিতে পারেননি। বেশ কয়েকবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। চলতি বছরের ৯ ফেব্রয়ারি তার সহোদর ছোট ভাই সমাজকর্মী মেজবাহ উল করিম রিন্টুর অকাল মৃত্যুতে তিনি আরও ভেঙে পড়েন।

চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিমের মৃত্যুতে রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী, রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম, রাজবাড়ী জেলা পরিষদের চেয়ারম্সাযান ফকীর ্বআব্কদুল জব্বার,  জেলা শিক্ষা অফিসার সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান, জেলা কালচারাল অফিসার পার্থ প্রতীম দাস, রাজবাড়ী জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ সানাউল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক করিম ইসহাক, দৈনিক জনতার আদালতের সম্পাদক নুরে আলম সিদ্দিকী হক, রাজবাড়ী সুহৃদ সমাবেশের সভাপতি মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, সমকালের রাজবাড়ী প্রতিনিধি সৌমিত্র শীল চন্দনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শোক প্রকাশ করে তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

সোমবার বাদ এশা রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজার নামাজ শেষে নতুনবাজার সংলগ্ন পৌর কবরস্থানে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিম আর নেই

প্রকাশের সময় : ০৬:৩৬:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২০

জনতার আদালত অনলাইন ॥ একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের অধ্যাপক মনসুল উল করিম (৭০) আর নেই। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি (ইন্নালিল্লাহি..রাজিউন)। রাজবাড়ী শহরের সজ্জনকান্দা বড়পুলের  বাসিন্দা মনসুর উল করিম মৃত্যুকালে দুই ছেলে, এক মেয়ে, আত্মীয় স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। সমকাল সুহৃদ সমাবেশ রাজবাড়ী জেলা কমিটির উপদেষ্টা ছিলেন তিনি। তার মৃত্যুর খবরে রাজবাড়ীতে শোকের ছায় নেমে আসে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্ট্যাটাস দেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিম ১৯৫০ সালে রাজবাড়ী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭২ সালে ঢাকা আর্ট ইনস্টিটিউট থেকে চারুকলায় ¯œাতক এবং ১৯৭৪ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ¯œাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করার পর তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে অধ্যাপনা শুরু করেন। ২০০৯ সালে তিনি  চিত্রকলায় বিশেষ অবদানের জন্য একুশে পদকে ভূষিত হন। দীর্ঘ ৪০ বছর অধ্যাপনা  শেষে অবসর গ্রহণ করে তৃণমূল পর্যায়ে চিত্রশিল্পী গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিজ জেলা রাজবাড়ীর রামকান্তপুর স্বর্ণশিমুল তলায় গড়ে তোলেন বুনন আর্ট স্পেস। যেটির কাজ এখনও চলমান রয়েছে।

একুশে পদক ছাড়াও তিনি দেশে বিদেশে বিভিন্ন পুরষ্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন। চিত্রকলায় সামগ্রিকভাবে অবদানের জন্য ২০১৪ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি থেকে তাকে সুলতান পদক দেয়া হয়। ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরষ্কার এবং ষষ্ঠ এশিয়ান আর্ট বিয়েনাল পদক লাভ করেন। ১৯৯৪  সালে ভারতীয় ললিতকলা একাডেমি আয়োজিত অষ্টম ভারতীয় ত্রিবার্ষিক আন্তর্জাতিক চারুকলা প্রদর্শনী থেকে তিনি পুরষ্কার লাভ করেন।

১৯৭২ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে তাঁর ২৬টি একক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের চিত্রশিল্পকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল তার। গত কয়েক বছর যাবৎ বার্ধক্যসহ নানা রোগে ভুগে শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় তার কাজকে এগিয়ে নিতে পারেননি। বেশ কয়েকবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। চলতি বছরের ৯ ফেব্রয়ারি তার সহোদর ছোট ভাই সমাজকর্মী মেজবাহ উল করিম রিন্টুর অকাল মৃত্যুতে তিনি আরও ভেঙে পড়েন।

চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিমের মৃত্যুতে রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী, রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম, রাজবাড়ী জেলা পরিষদের চেয়ারম্সাযান ফকীর ্বআব্কদুল জব্বার,  জেলা শিক্ষা অফিসার সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান, জেলা কালচারাল অফিসার পার্থ প্রতীম দাস, রাজবাড়ী জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ সানাউল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক করিম ইসহাক, দৈনিক জনতার আদালতের সম্পাদক নুরে আলম সিদ্দিকী হক, রাজবাড়ী সুহৃদ সমাবেশের সভাপতি মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, সমকালের রাজবাড়ী প্রতিনিধি সৌমিত্র শীল চন্দনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শোক প্রকাশ করে তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

সোমবার বাদ এশা রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজার নামাজ শেষে নতুনবাজার সংলগ্ন পৌর কবরস্থানে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে।