Dhaka 5:10 pm, Wednesday, 8 February 2023

কখনও প্রেমের অভিনয় কখনও কাজের কথা বলে বাসায় ডেকে আপত্তিকর ছবি তুলে ব্লাকমেইল করাই ওদের কাজ

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : 09:13:16 pm, Tuesday, 4 August 2020
  • / 1444 জন সংবাদটি পড়েছেন

জনতার আদালত অনলাইন ॥ কখনো কাজের কথা বলে তারা বিভিন্ন সময় পুরুষদের বাসায় ডাকে এবং অন্যান্য সহযোগীরা ভয়ভীতি দেখিয়ে আপত্তিকর ছবি তুলে রাখে এবং তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় করতো ওরা। এদের রয়েছে বিশাল নেটওয়ার্ক। র‌্যাব-৮ ফরিদপুর ক্যাম্পের সদস্যদের হাতে চক্রের চার সদস্য গ্রেপ্তার হওয়ার পর র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে এসব তথ্য।

মঙ্গলবার তাদেরকে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার চরকমলাপুর ও সালথা থানার ফোকরা গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো ফরিদপুরের সালথা উপজেলার করিম উদ্দিনের ছেলে ফিরোজ মল্লিক, বাচ্চু মোল্লার মেয়ে পারভীন আক্তার সাথী, আলমগীর হোসেনের ছেলে রবি হাসান রানা ও ঢাকার আশুলিয়া থানার পলাশবাড়ি গ্রামের ইউনুছ মোল্লার মেয়ে লাবিবা আক্তার।

র‌্যাব-৮ ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানী অধিনায়ক সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার ও  সিনিয়র সহকারি পরিচালক দেবাশীষ কর্মকার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, র‌্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সমাজের বিভিন্ন অপরাধ এর উৎস উদ্ঘাটন, জঙ্গিবাদ দমন, অপরাধীদের গ্রেফতারসহ আইন শৃংখলার সামগ্রিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যে কোন ধরণের অপরাধী, অপহরণ, মাদক উদ্ধার, অপহ¦ত ভিকটিম উদ্ধারসহ দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও বিভিন্ন প্রতারক চক্রকে গ্রেফতার করতে সার্বক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করে থাকে।

গত ০৩/০৮/২০২০ ইং তারিখে একজন আইনজীবী লিখিত অভিযোগ করেন, এক ব্যক্তি তার নামে হওয়া একটি মামলা পরিচালনা করার আলোচনার জন্য তার বাসায় যেতে বলেন। আইনজীবী তাকে তার চেম্বারে আসতে বলেন। বিষয়টি গোপনীয় ও পারিবারিক বলে চেম্বারে আলোচনা করা সম্ভব নয় বলে আইনজীবীকে তার বাসায় যেতে অনুরোধ করেন। আইনজীবী সরল বিশ^াসে তার বাসায় যান। তখন তার বাসায় ভুক্তভোগী ছাড়াও আরো একজন নারী উপস্থিত ছিল। পরে উক্ত বাসায় হঠাৎ চারজন যুবক লোহার রড ও চাপাতিসহ প্রবেশ করে এবং জোড়পূর্বক একজন নারীর সাথে আপক্তিকর ছবি তুলে রাখে। পরবর্তীতে উক্ত ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। উক্ত ঘটনা অবহিত হওয়ার পর অত্র র‌্যাব ক্যাম্প ছায়া তদন্ত শুরু করেন। ছায়া তদন্তের মাধ্যমে র‌্যাব ক্যাম্প উক্ত ঘটনার সত্যতা পায় এবং আসামী গ্রেফতারে তৎপর হয়।  গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অত্র ক্যাম্প জানতে পারে যে উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত রয়েছে মোঃ ফিরোজ মল্লিক, পারভীন আক্তার সাথী,  মোঃ রবি হাসান রানা  ও লাবিবা আক্তার নামে চার তরুণ তরুণী।

এরপর গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে জানা যায়, মোঃ ফিরোজ মল্লিক ও পারভীন আক্তার সাথী ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলার ফোকরা গ্রামে অবস্থান করছে এবং রবি হাসান রানা ও লাবিবা আক্ত ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানাধীন চরকমলাপুর গ্রাম এলাকায় অবস্থান করছে।  এতথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে। এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারের ব্যাপারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।  আসামীদের বিরুদ্ধে  ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানায় চাঁদাবাজি ও পর্ণোগ্রাফী নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

কখনও প্রেমের অভিনয় কখনও কাজের কথা বলে বাসায় ডেকে আপত্তিকর ছবি তুলে ব্লাকমেইল করাই ওদের কাজ

প্রকাশের সময় : 09:13:16 pm, Tuesday, 4 August 2020

জনতার আদালত অনলাইন ॥ কখনো কাজের কথা বলে তারা বিভিন্ন সময় পুরুষদের বাসায় ডাকে এবং অন্যান্য সহযোগীরা ভয়ভীতি দেখিয়ে আপত্তিকর ছবি তুলে রাখে এবং তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় করতো ওরা। এদের রয়েছে বিশাল নেটওয়ার্ক। র‌্যাব-৮ ফরিদপুর ক্যাম্পের সদস্যদের হাতে চক্রের চার সদস্য গ্রেপ্তার হওয়ার পর র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে এসব তথ্য।

মঙ্গলবার তাদেরকে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার চরকমলাপুর ও সালথা থানার ফোকরা গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো ফরিদপুরের সালথা উপজেলার করিম উদ্দিনের ছেলে ফিরোজ মল্লিক, বাচ্চু মোল্লার মেয়ে পারভীন আক্তার সাথী, আলমগীর হোসেনের ছেলে রবি হাসান রানা ও ঢাকার আশুলিয়া থানার পলাশবাড়ি গ্রামের ইউনুছ মোল্লার মেয়ে লাবিবা আক্তার।

র‌্যাব-৮ ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানী অধিনায়ক সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার ও  সিনিয়র সহকারি পরিচালক দেবাশীষ কর্মকার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, র‌্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সমাজের বিভিন্ন অপরাধ এর উৎস উদ্ঘাটন, জঙ্গিবাদ দমন, অপরাধীদের গ্রেফতারসহ আইন শৃংখলার সামগ্রিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যে কোন ধরণের অপরাধী, অপহরণ, মাদক উদ্ধার, অপহ¦ত ভিকটিম উদ্ধারসহ দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও বিভিন্ন প্রতারক চক্রকে গ্রেফতার করতে সার্বক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করে থাকে।

গত ০৩/০৮/২০২০ ইং তারিখে একজন আইনজীবী লিখিত অভিযোগ করেন, এক ব্যক্তি তার নামে হওয়া একটি মামলা পরিচালনা করার আলোচনার জন্য তার বাসায় যেতে বলেন। আইনজীবী তাকে তার চেম্বারে আসতে বলেন। বিষয়টি গোপনীয় ও পারিবারিক বলে চেম্বারে আলোচনা করা সম্ভব নয় বলে আইনজীবীকে তার বাসায় যেতে অনুরোধ করেন। আইনজীবী সরল বিশ^াসে তার বাসায় যান। তখন তার বাসায় ভুক্তভোগী ছাড়াও আরো একজন নারী উপস্থিত ছিল। পরে উক্ত বাসায় হঠাৎ চারজন যুবক লোহার রড ও চাপাতিসহ প্রবেশ করে এবং জোড়পূর্বক একজন নারীর সাথে আপক্তিকর ছবি তুলে রাখে। পরবর্তীতে উক্ত ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। উক্ত ঘটনা অবহিত হওয়ার পর অত্র র‌্যাব ক্যাম্প ছায়া তদন্ত শুরু করেন। ছায়া তদন্তের মাধ্যমে র‌্যাব ক্যাম্প উক্ত ঘটনার সত্যতা পায় এবং আসামী গ্রেফতারে তৎপর হয়।  গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অত্র ক্যাম্প জানতে পারে যে উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত রয়েছে মোঃ ফিরোজ মল্লিক, পারভীন আক্তার সাথী,  মোঃ রবি হাসান রানা  ও লাবিবা আক্তার নামে চার তরুণ তরুণী।

এরপর গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে জানা যায়, মোঃ ফিরোজ মল্লিক ও পারভীন আক্তার সাথী ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলার ফোকরা গ্রামে অবস্থান করছে এবং রবি হাসান রানা ও লাবিবা আক্ত ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানাধীন চরকমলাপুর গ্রাম এলাকায় অবস্থান করছে।  এতথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে। এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারের ব্যাপারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।  আসামীদের বিরুদ্ধে  ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানায় চাঁদাবাজি ও পর্ণোগ্রাফী নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।