Dhaka ০২:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
রামিসা হত্যার রায় তিন মাসের মধ্যে কার্যকর সম্ভব : আইনমন্ত্রী এবারের ঈদযাত্রায় ৪০২ জনের প্রাণহানি, আহত ১২৯৪: যাত্রী কল্যাণ সমিতি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে এবার আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা: প্রধানমন্ত্রী রামিসা হত্যা মামলার রায় বিচারিক প্রক্রিয়ায় মাইলফলক : অ্যাটর্নি জেনারেল কোটচাঁদপুরে তেলবাহী মালগাড়ির তিন বগি লাইনচ্যুত, খুলনার সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল ও স্বপ্নার ফাঁসির আদেশ ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবাইকে সচেতন হতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ট্রাম্প-মোজতবা বৈঠকের সম্ভাবনা নাকচ, যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের রামিসা হত্যা মামলার রায় ঘিরে আদালত প্রাঙ্গণে কড়া নিরাপত্তা জোরদার বিশ্বকাপ ঘিরে জুয়ার রমরমা, শঙ্কায় পরিবার ও সমাজ

রাজবাড়ীতে হুহু করে বাড়ছে বন্যার পানি

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : ০৮:০৯:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২০
  • / 537

জনতার আদালত অনলাইন ॥ রাজবাড়ীতে বন্যার পানি হুহু করে বাড়ছে। প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। বানভাসি মানুষ বাড়ি ঘর ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে বেরিবাঁধের উপর। আশ্রিত মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে প্রতিদিন। গবাদি পশু হাঁস মুরগী নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে মানুষ। রাতে ঘুমানোর জায়গাও পাচ্ছে না অনেকে। সরকারি হিসেবে পানিবন্দী  পরিবারের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার বলা হলেও এ সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার তিনটি পয়েন্টেই বেড়েছে পদ্মার পানি। সদর উপজেলার মহেন্দ্রপুর পয়েন্টে পাঁচ সে.মি বেড়ে বিপদসীমার  ৪১ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাংশার সেনগ্রাম পয়েন্টে ৯ সে.মি বেড়ে প্রবাহিত হচ্ছে বিপদসীমার ৮৩ সে.মি উপর দিয়ে। দৌলতদিয়া পয়েন্টে পাঁচ সে.মি বেড়ে প্রবাহিত হচ্ছে এক মিটার ১৫ সে.মি উপর দিয়ে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাস অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার চার উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৯ হাজার সাতশ পরিবার পানিবন্দী। পানিবন্দী মানুষের জন্য ইতিমধ্যে ১৭০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ এক লাখ ১৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,  এখনও অনেক পরিবার সরকারি ত্রাণ সহায়তা পাননি। সরকারি  হিসেবে যা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায়ও অপ্রতুল।

রাজবাড়ী সদর উপজেলার  বরাট ইউনিয়নের চর বরাট গ্রামের বাসিন্দা আবু হানিফ জানান,  বসতঘরে পানি উঠে যাওয়ায় উপায় না পেয়ে গত ১০ দিন ধরে পরিবার পরিজন গবাদি পশু নিয়ে বেরিবাঁধের উপর আশ্রয় নিয়েছে। দিনের বেলা যেমন  তেমন করে কাটিয়ে দেয়া যায়। কিন্তু রাতে ঘুমানোর জায়গা পাওয়া যায়না। এর সাথে খাদ্য সংকটে ভুগছে পুরো পরিবার। গবাদি পশুর জন্য ঘাস লতাপাতা সংগ্রহ করে কোনোমতে  বাঁচিয়ে রেখেছেন। এভাবেই চলছে তাদের জীবন। এখন পর্যন্ত তারা কোনো সাহায্য সহযোগিতা পাননি।

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম জানান, সরকারি ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বন্যার্ত মানুষের পাশাপাশি শিশু খাদ্য ও গোখাদ্যের জনৗ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

রাজবাড়ীতে হুহু করে বাড়ছে বন্যার পানি

প্রকাশের সময় : ০৮:০৯:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২০

জনতার আদালত অনলাইন ॥ রাজবাড়ীতে বন্যার পানি হুহু করে বাড়ছে। প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। বানভাসি মানুষ বাড়ি ঘর ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে বেরিবাঁধের উপর। আশ্রিত মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে প্রতিদিন। গবাদি পশু হাঁস মুরগী নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে মানুষ। রাতে ঘুমানোর জায়গাও পাচ্ছে না অনেকে। সরকারি হিসেবে পানিবন্দী  পরিবারের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার বলা হলেও এ সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার তিনটি পয়েন্টেই বেড়েছে পদ্মার পানি। সদর উপজেলার মহেন্দ্রপুর পয়েন্টে পাঁচ সে.মি বেড়ে বিপদসীমার  ৪১ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাংশার সেনগ্রাম পয়েন্টে ৯ সে.মি বেড়ে প্রবাহিত হচ্ছে বিপদসীমার ৮৩ সে.মি উপর দিয়ে। দৌলতদিয়া পয়েন্টে পাঁচ সে.মি বেড়ে প্রবাহিত হচ্ছে এক মিটার ১৫ সে.মি উপর দিয়ে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাস অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার চার উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৯ হাজার সাতশ পরিবার পানিবন্দী। পানিবন্দী মানুষের জন্য ইতিমধ্যে ১৭০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ এক লাখ ১৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,  এখনও অনেক পরিবার সরকারি ত্রাণ সহায়তা পাননি। সরকারি  হিসেবে যা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায়ও অপ্রতুল।

রাজবাড়ী সদর উপজেলার  বরাট ইউনিয়নের চর বরাট গ্রামের বাসিন্দা আবু হানিফ জানান,  বসতঘরে পানি উঠে যাওয়ায় উপায় না পেয়ে গত ১০ দিন ধরে পরিবার পরিজন গবাদি পশু নিয়ে বেরিবাঁধের উপর আশ্রয় নিয়েছে। দিনের বেলা যেমন  তেমন করে কাটিয়ে দেয়া যায়। কিন্তু রাতে ঘুমানোর জায়গা পাওয়া যায়না। এর সাথে খাদ্য সংকটে ভুগছে পুরো পরিবার। গবাদি পশুর জন্য ঘাস লতাপাতা সংগ্রহ করে কোনোমতে  বাঁচিয়ে রেখেছেন। এভাবেই চলছে তাদের জীবন। এখন পর্যন্ত তারা কোনো সাহায্য সহযোগিতা পাননি।

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম জানান, সরকারি ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বন্যার্ত মানুষের পাশাপাশি শিশু খাদ্য ও গোখাদ্যের জনৗ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।