Dhaka 7:15 pm, Friday, 3 February 2023

রাজবাড়ীতে হুহু করে বাড়ছে বন্যার পানি

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : 08:09:36 pm, Sunday, 26 July 2020
  • / 1361 জন সংবাদটি পড়েছেন

জনতার আদালত অনলাইন ॥ রাজবাড়ীতে বন্যার পানি হুহু করে বাড়ছে। প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। বানভাসি মানুষ বাড়ি ঘর ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে বেরিবাঁধের উপর। আশ্রিত মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে প্রতিদিন। গবাদি পশু হাঁস মুরগী নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে মানুষ। রাতে ঘুমানোর জায়গাও পাচ্ছে না অনেকে। সরকারি হিসেবে পানিবন্দী  পরিবারের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার বলা হলেও এ সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার তিনটি পয়েন্টেই বেড়েছে পদ্মার পানি। সদর উপজেলার মহেন্দ্রপুর পয়েন্টে পাঁচ সে.মি বেড়ে বিপদসীমার  ৪১ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাংশার সেনগ্রাম পয়েন্টে ৯ সে.মি বেড়ে প্রবাহিত হচ্ছে বিপদসীমার ৮৩ সে.মি উপর দিয়ে। দৌলতদিয়া পয়েন্টে পাঁচ সে.মি বেড়ে প্রবাহিত হচ্ছে এক মিটার ১৫ সে.মি উপর দিয়ে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাস অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার চার উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৯ হাজার সাতশ পরিবার পানিবন্দী। পানিবন্দী মানুষের জন্য ইতিমধ্যে ১৭০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ এক লাখ ১৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,  এখনও অনেক পরিবার সরকারি ত্রাণ সহায়তা পাননি। সরকারি  হিসেবে যা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায়ও অপ্রতুল।

রাজবাড়ী সদর উপজেলার  বরাট ইউনিয়নের চর বরাট গ্রামের বাসিন্দা আবু হানিফ জানান,  বসতঘরে পানি উঠে যাওয়ায় উপায় না পেয়ে গত ১০ দিন ধরে পরিবার পরিজন গবাদি পশু নিয়ে বেরিবাঁধের উপর আশ্রয় নিয়েছে। দিনের বেলা যেমন  তেমন করে কাটিয়ে দেয়া যায়। কিন্তু রাতে ঘুমানোর জায়গা পাওয়া যায়না। এর সাথে খাদ্য সংকটে ভুগছে পুরো পরিবার। গবাদি পশুর জন্য ঘাস লতাপাতা সংগ্রহ করে কোনোমতে  বাঁচিয়ে রেখেছেন। এভাবেই চলছে তাদের জীবন। এখন পর্যন্ত তারা কোনো সাহায্য সহযোগিতা পাননি।

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম জানান, সরকারি ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বন্যার্ত মানুষের পাশাপাশি শিশু খাদ্য ও গোখাদ্যের জনৗ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

রাজবাড়ীতে হুহু করে বাড়ছে বন্যার পানি

প্রকাশের সময় : 08:09:36 pm, Sunday, 26 July 2020

জনতার আদালত অনলাইন ॥ রাজবাড়ীতে বন্যার পানি হুহু করে বাড়ছে। প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। বানভাসি মানুষ বাড়ি ঘর ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে বেরিবাঁধের উপর। আশ্রিত মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে প্রতিদিন। গবাদি পশু হাঁস মুরগী নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে মানুষ। রাতে ঘুমানোর জায়গাও পাচ্ছে না অনেকে। সরকারি হিসেবে পানিবন্দী  পরিবারের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার বলা হলেও এ সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার তিনটি পয়েন্টেই বেড়েছে পদ্মার পানি। সদর উপজেলার মহেন্দ্রপুর পয়েন্টে পাঁচ সে.মি বেড়ে বিপদসীমার  ৪১ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাংশার সেনগ্রাম পয়েন্টে ৯ সে.মি বেড়ে প্রবাহিত হচ্ছে বিপদসীমার ৮৩ সে.মি উপর দিয়ে। দৌলতদিয়া পয়েন্টে পাঁচ সে.মি বেড়ে প্রবাহিত হচ্ছে এক মিটার ১৫ সে.মি উপর দিয়ে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাস অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার চার উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৯ হাজার সাতশ পরিবার পানিবন্দী। পানিবন্দী মানুষের জন্য ইতিমধ্যে ১৭০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ এক লাখ ১৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,  এখনও অনেক পরিবার সরকারি ত্রাণ সহায়তা পাননি। সরকারি  হিসেবে যা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায়ও অপ্রতুল।

রাজবাড়ী সদর উপজেলার  বরাট ইউনিয়নের চর বরাট গ্রামের বাসিন্দা আবু হানিফ জানান,  বসতঘরে পানি উঠে যাওয়ায় উপায় না পেয়ে গত ১০ দিন ধরে পরিবার পরিজন গবাদি পশু নিয়ে বেরিবাঁধের উপর আশ্রয় নিয়েছে। দিনের বেলা যেমন  তেমন করে কাটিয়ে দেয়া যায়। কিন্তু রাতে ঘুমানোর জায়গা পাওয়া যায়না। এর সাথে খাদ্য সংকটে ভুগছে পুরো পরিবার। গবাদি পশুর জন্য ঘাস লতাপাতা সংগ্রহ করে কোনোমতে  বাঁচিয়ে রেখেছেন। এভাবেই চলছে তাদের জীবন। এখন পর্যন্ত তারা কোনো সাহায্য সহযোগিতা পাননি।

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম জানান, সরকারি ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বন্যার্ত মানুষের পাশাপাশি শিশু খাদ্য ও গোখাদ্যের জনৗ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।