Dhaka ০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

গোয়ালন্দে পানিবন্দি মানুষের মানবেতর জীবনযাপন

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : ০৭:৪৬:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২০
  • / ১৪১৭ জন সংবাদটি পড়েছেন

জনতার আদালত অনলাইন ॥ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার পদ্মা নদীর দৌলতদিয়া পয়েন্টে হুহু করে বাড়ছে পানি। এতেকরে প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। এরই মধ্যে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে গোয়ালন্দ উপজেলার দেবোগ্রাম ও দৌলতদিয়া ইউনিয়নের হাজার হাজার পরিবার।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) তথ্যমতে, শনিবার ভোর ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় পদ্মার পানি দৌলতদিয়া পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে সমতল থেকে ৯.৭০ মিটারে দাঁড়িয়েছে। এতেকরে পদ্মার পানি দৌলতদিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১.০৫ মিটার উপর দিয়ে প্রবাতি হচ্ছে। জেলা ত্রান ও পূর্নবাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্যমতে, গোয়ালন্দ উপজেলা ১ হাজার ৫শ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ছত্তার মেম্বার পাড়া এলাকায় গিয়ে দেখাযায়, এই গ্রামের দুই শতাধীক পরিবারের প্রতিটি বাড়িই বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। রান্না করার ঘর, বসবাস করার ঘর ও গরু রাখার ঘরে পানি থৈথৈ করছে। পশু পাখি, হাস মুরগি ও গরু ছাগল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন এই এলাকার বাসিন্দারা। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট।

এ সময় স্থানীয় নুরু মিয়া বলেন, গত ৪/৫ দিন যাবৎ বাড়িতে বসবাসের অনুপোযোগি হয়ে পড়েছে। কোনক্রমে রান্না করে খাবার খেয়ে পাশের সড়কে থাকি সারাদিন আর রাতে এসে ঘুমাই। ঘরের মধ্যে পানি প্রবেশ করার ইট দিয়ে খাট উচু করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাউয়ালজানি গ্রামের ফতেমা বেগম জানান, তারা পানির মধ্যে থেকে থেকে হাতে ও পায়ে ঘা হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও গরু ছাগলের খাবারেরও সংকট দেখা দিয়েছে। একটু বিশুদ্ধ পানিওতো নেই? সব বাড়িতেই টিইবওয়েল তলিয়ে গেছে।

এ ব্যপারে গোয়ালন্দ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু সাইদ মন্ডল জানান, আকস্মিক বন্যায় পানিবন্দি মানুষের সঠিক তালিকা তৈরীর কাজ চলছে। প্রাথমিক ভাবে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে কথা বলে এক হাজার ৫শ পরিবারের তালিকা করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শুক্রবার পানিবন্দি ১২শ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া আরো দেড় হাজার পরিবারের জন্য ত্রাণ সামগ্রী বরাদ্দ পাওয়া গেছে, যা দ্রুত সময়ের মধ্যে বিতরণ করা হবে। প্রাকৃতিক এ দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থদের সার্বিক সহযোগিতার জন্য তাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি আছে বলে তিনি জানান।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

গোয়ালন্দে পানিবন্দি মানুষের মানবেতর জীবনযাপন

প্রকাশের সময় : ০৭:৪৬:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২০

জনতার আদালত অনলাইন ॥ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার পদ্মা নদীর দৌলতদিয়া পয়েন্টে হুহু করে বাড়ছে পানি। এতেকরে প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। এরই মধ্যে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে গোয়ালন্দ উপজেলার দেবোগ্রাম ও দৌলতদিয়া ইউনিয়নের হাজার হাজার পরিবার।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) তথ্যমতে, শনিবার ভোর ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় পদ্মার পানি দৌলতদিয়া পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে সমতল থেকে ৯.৭০ মিটারে দাঁড়িয়েছে। এতেকরে পদ্মার পানি দৌলতদিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১.০৫ মিটার উপর দিয়ে প্রবাতি হচ্ছে। জেলা ত্রান ও পূর্নবাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্যমতে, গোয়ালন্দ উপজেলা ১ হাজার ৫শ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ছত্তার মেম্বার পাড়া এলাকায় গিয়ে দেখাযায়, এই গ্রামের দুই শতাধীক পরিবারের প্রতিটি বাড়িই বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। রান্না করার ঘর, বসবাস করার ঘর ও গরু রাখার ঘরে পানি থৈথৈ করছে। পশু পাখি, হাস মুরগি ও গরু ছাগল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন এই এলাকার বাসিন্দারা। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট।

এ সময় স্থানীয় নুরু মিয়া বলেন, গত ৪/৫ দিন যাবৎ বাড়িতে বসবাসের অনুপোযোগি হয়ে পড়েছে। কোনক্রমে রান্না করে খাবার খেয়ে পাশের সড়কে থাকি সারাদিন আর রাতে এসে ঘুমাই। ঘরের মধ্যে পানি প্রবেশ করার ইট দিয়ে খাট উচু করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাউয়ালজানি গ্রামের ফতেমা বেগম জানান, তারা পানির মধ্যে থেকে থেকে হাতে ও পায়ে ঘা হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও গরু ছাগলের খাবারেরও সংকট দেখা দিয়েছে। একটু বিশুদ্ধ পানিওতো নেই? সব বাড়িতেই টিইবওয়েল তলিয়ে গেছে।

এ ব্যপারে গোয়ালন্দ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু সাইদ মন্ডল জানান, আকস্মিক বন্যায় পানিবন্দি মানুষের সঠিক তালিকা তৈরীর কাজ চলছে। প্রাথমিক ভাবে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে কথা বলে এক হাজার ৫শ পরিবারের তালিকা করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শুক্রবার পানিবন্দি ১২শ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া আরো দেড় হাজার পরিবারের জন্য ত্রাণ সামগ্রী বরাদ্দ পাওয়া গেছে, যা দ্রুত সময়ের মধ্যে বিতরণ করা হবে। প্রাকৃতিক এ দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থদের সার্বিক সহযোগিতার জন্য তাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি আছে বলে তিনি জানান।