Dhaka 8:13 pm, Friday, 3 February 2023

কোন্ অভিমানে আত্মহননের পথ বেছে নিলেন পাপন?

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : 06:52:20 pm, Friday, 26 June 2020
  • / 1389 জন সংবাদটি পড়েছেন

জনতার আদালত অনলাইন ॥ কোন্ অভিমানে আত্মহননের মত কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেন ২৪ বছরের তরতাজা যুবক পাপন। এই প্রশ্ন এখন ঘুুরপাক খাচ্ছে সবার মনে। পাপন গোয়ালন্দ রেলস্টেশন এলাকার মৃত অশোক সাহার ছেলে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বিদ্যুতের তাড়ে জড়িয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। পরিবারের অভিযোগ, থানায় আটকে রাখায় অপমানিত হয়ে সে আত্মহত্যা করেছে। আর থানা কর্তৃপক্ষ বলছে, বাউন্ডারি ওয়াল ছয় ইঞ্চি পিছিয়ে নির্মাণ করতে বলা হয়েছিল পাপনকে। একারণে সে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, গোয়ালন্দ বাজার রেলস্টেশনের পাশে ও গোয়ালন্দ ঘাট থানার সীমান প্রচীর সংলগ্ন রেলের জায়গায় দোকানসহ বসত ঘর নির্মাণ করে বসবাস করে পাপন সাহা ও তার পরিবার। সম্প্রতি থানার সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে ইটের দেয়াল তুলে বসত ঘর সম্প্রসারনের কাজ শুরু করে পাপন সাহা। বিষয়টি থানা পুলিশের নজরে আসলে পাপন সাহাকে বৃহস্পতিবার দুপুরে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আশিকুর রহমান থানায় ডেকে নেয়। একপর্যায়ে থানার সীমানা প্রচীর থেকে একফুট দুরে ঘর নির্মাণের মুচলেকা নিয়ে সন্ধ্যায় ছেড়ে দেয় পাপন সাহাকে। ওই দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইলেকট্রিক তারে জড়িয়ে আত্মহত্যা করে পাপন সাহা।

স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর কোমল কুমার সাহা জানান, পাপন সাহাকে থানা হেফাজতে রাখার খবর শুনে বৃহস্পতিবার দুপুরেই আমি থানায় যাই। কিন্তু থানায় ওসিকে না পেয়ে ফোনে কথা বলি। এসময় তিনি জানায়, আমি এসে পাপনের সাথে কথা বলে ছেড়ে দিব। পরবর্তীতে বিকেলে আমার ছেলেকে পাঠালে ওসি মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়। তিনি আরো জানান, রাত পৌনে ১০টার দিকে পাপন আমাকে ফোনে জানায়, ওসি থানার বাউন্ডারী ওয়াল থেকে একফুট দুরে ঘর তুলতে বলেছেন। এসময় আমি তাকে বলি, ‘ওসি সাহেবের সাথে আমি কথা বলব, তুমি ৬ ইঞ্চি দুরে ঘর নির্মাণ কাজ কর।’ এরপর রাতে পাপনের আত্মহত্যার সংবাদ শুনি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ইউনুছ মোল্লা জানান, পাপন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে আমাকে জানায়, থানা থেকে তাদের ঘর নির্মাণ কাজে বাঁধা দিচ্ছে। আমি সরেজমিন এসে দেখতে পাই, থানার বাউন্ডারী ওয়ালের সাথে তারা ঘরের দেয়াল তুলেছে এবং উপরের টিন অনেকখানি থানার সীমানার মধ্যে ঢুকে গেছে। এসময় আমি তাদের পরামর্শ দেই, থানার বাউন্ডারীর ভেতর থেকে স্থাপনা সরিয়ে আনার জন্য।

পাপন সাহার মা পুষ্প রানী সাহা জানান, পুলিশ আমার ছেলেকে থানায় আটকে রাখায় অভিমান করে সে আত্মহত্যা করেছে।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আশিকুর রহমান জানান, পাপন সাহাকে থানা হেফাজতে রেখে জরুরী প্রয়োজনে আমারা একটু বাইরে যাই। সেখান থেকে ফিরে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। তার সাথে কোন প্রকার খারাপ আচরণ কেউ করেনি। তাকে শুধু বলা হয়েছে থানার বাউন্ডরী ওয়াল থেকে অন্তত এক ফুট দুরে স্থাপনা নির্মাণ করতে। এ কারণে কেউ আত্মহত্যা করতে পারে তা বিশ্বাস করা যায়না। তার মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

কোন্ অভিমানে আত্মহননের পথ বেছে নিলেন পাপন?

প্রকাশের সময় : 06:52:20 pm, Friday, 26 June 2020

জনতার আদালত অনলাইন ॥ কোন্ অভিমানে আত্মহননের মত কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেন ২৪ বছরের তরতাজা যুবক পাপন। এই প্রশ্ন এখন ঘুুরপাক খাচ্ছে সবার মনে। পাপন গোয়ালন্দ রেলস্টেশন এলাকার মৃত অশোক সাহার ছেলে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বিদ্যুতের তাড়ে জড়িয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। পরিবারের অভিযোগ, থানায় আটকে রাখায় অপমানিত হয়ে সে আত্মহত্যা করেছে। আর থানা কর্তৃপক্ষ বলছে, বাউন্ডারি ওয়াল ছয় ইঞ্চি পিছিয়ে নির্মাণ করতে বলা হয়েছিল পাপনকে। একারণে সে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, গোয়ালন্দ বাজার রেলস্টেশনের পাশে ও গোয়ালন্দ ঘাট থানার সীমান প্রচীর সংলগ্ন রেলের জায়গায় দোকানসহ বসত ঘর নির্মাণ করে বসবাস করে পাপন সাহা ও তার পরিবার। সম্প্রতি থানার সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে ইটের দেয়াল তুলে বসত ঘর সম্প্রসারনের কাজ শুরু করে পাপন সাহা। বিষয়টি থানা পুলিশের নজরে আসলে পাপন সাহাকে বৃহস্পতিবার দুপুরে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আশিকুর রহমান থানায় ডেকে নেয়। একপর্যায়ে থানার সীমানা প্রচীর থেকে একফুট দুরে ঘর নির্মাণের মুচলেকা নিয়ে সন্ধ্যায় ছেড়ে দেয় পাপন সাহাকে। ওই দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইলেকট্রিক তারে জড়িয়ে আত্মহত্যা করে পাপন সাহা।

স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর কোমল কুমার সাহা জানান, পাপন সাহাকে থানা হেফাজতে রাখার খবর শুনে বৃহস্পতিবার দুপুরেই আমি থানায় যাই। কিন্তু থানায় ওসিকে না পেয়ে ফোনে কথা বলি। এসময় তিনি জানায়, আমি এসে পাপনের সাথে কথা বলে ছেড়ে দিব। পরবর্তীতে বিকেলে আমার ছেলেকে পাঠালে ওসি মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়। তিনি আরো জানান, রাত পৌনে ১০টার দিকে পাপন আমাকে ফোনে জানায়, ওসি থানার বাউন্ডারী ওয়াল থেকে একফুট দুরে ঘর তুলতে বলেছেন। এসময় আমি তাকে বলি, ‘ওসি সাহেবের সাথে আমি কথা বলব, তুমি ৬ ইঞ্চি দুরে ঘর নির্মাণ কাজ কর।’ এরপর রাতে পাপনের আত্মহত্যার সংবাদ শুনি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ইউনুছ মোল্লা জানান, পাপন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে আমাকে জানায়, থানা থেকে তাদের ঘর নির্মাণ কাজে বাঁধা দিচ্ছে। আমি সরেজমিন এসে দেখতে পাই, থানার বাউন্ডারী ওয়ালের সাথে তারা ঘরের দেয়াল তুলেছে এবং উপরের টিন অনেকখানি থানার সীমানার মধ্যে ঢুকে গেছে। এসময় আমি তাদের পরামর্শ দেই, থানার বাউন্ডারীর ভেতর থেকে স্থাপনা সরিয়ে আনার জন্য।

পাপন সাহার মা পুষ্প রানী সাহা জানান, পুলিশ আমার ছেলেকে থানায় আটকে রাখায় অভিমান করে সে আত্মহত্যা করেছে।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আশিকুর রহমান জানান, পাপন সাহাকে থানা হেফাজতে রেখে জরুরী প্রয়োজনে আমারা একটু বাইরে যাই। সেখান থেকে ফিরে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। তার সাথে কোন প্রকার খারাপ আচরণ কেউ করেনি। তাকে শুধু বলা হয়েছে থানার বাউন্ডরী ওয়াল থেকে অন্তত এক ফুট দুরে স্থাপনা নির্মাণ করতে। এ কারণে কেউ আত্মহত্যা করতে পারে তা বিশ্বাস করা যায়না। তার মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।