Dhaka ১২:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

রাজবাড়ীতে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা রোগী ॥ নমুনা রিপোর্ট দেরিতে আসায় সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ॥ পিসিআর ল্যাব স্থাপনের দাবি

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : ১০:৪০:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২০
  • / ১৪৫৮ জন সংবাদটি পড়েছেন

জনতার আদালত অনলাইন ॥ করোনার সংক্রমণ শুরুর পর থেকেই বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম হেদায়েতুল ইসলাম ত্রাণ বিতরণ থেকে শুরু করে সংক্রমণ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালিয়েছেন। বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। তিনি নিজেই এখন করোনায় আক্রান্ত। বালিয়াকান্দি হাসপাতালের পাঁচ ডাক্তারের মধ্যে তিনজনই আক্রান্ত হয়েছেন করোনায়। কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেরও তিন ডাক্তার আক্রান্ত। ফলে ভেঙে পড়েছে চিকিৎসাসেবা। জেলায় এখন হুহু করে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। একদিনেই ৫৪ জন আক্রান্ত হয়ে সোমবার পর্যন্ত করোনা রোগীর সংখ্যা ২২১ জন। এর প্রেক্ষিতে দাবি উঠেছে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের।

জেলা সিভিল সার্জনের সূত্রমতে, গত শনিবার দুই দফায় প্রাপ্ত রিপোর্টে মোট ৫৪ জনের পজিটিভ পাওয়া যায়। এর মধ্যে বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম হেদায়েতুল ইসলাম, বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাফিন জব্বারসহ হাসপাতালের তিন ডাক্তার, কালুখালী উপজেলার তিন  ডাক্তার, সাত স্বাস্থ্য কর্মী, গোয়ালন্দের একজন সাংবাদিক, একজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। বালিয়াকান্দি হাসপাতালের পাঁচ ডাক্তারের মধ্যে তিনজনই আক্রান্ত হওয়ায় ভেঙে পড়েছে সেখানকার স্বাস্থ্যসেবা। গত ১৫ জুন তারিখে একজন ডাক্তার আক্রান্ত হওয়ার পরই হাসপাতালের জরুরী সেবা ছাড়া সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। রোববার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ আরও দুজন আক্রান্ত হওয়ায় এসেবাও হুমকির মুখে পড়লো।

করোনার ঝুঁকিতে থাকায় গত ১৫ জুন বালিয়াকান্দি উপজেলার সদর ইউনিয়নকে রেড জোন ঘোষণা করা হলেও কার্যত তা মানা হচ্ছে না বলে জানা গেছে। সেখানে স্বাভাবিকভাবেই লোকজন ব্যবসা বাণিজ্য, চলাফেরা সবকিছুই করে চলেছে।

অপরদিকে কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা খোন্দকার আবু জালালসহ তিন ডাক্তার ও ১০ জন স্টাফ করোনায় আক্রান্ত। এ হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা দূরে থাক দাপ্তরিক কাজকর্মও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা খোন্দকার আবু জালাল জানান, নমুনা দেয়ার পর হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার কথা থাকলেও তাকে প্রতিদিনই হাসপাতালে কাজ করতে হয়েছে। নমুনা পজিটিভ হওয়ার পর আইসোলেশনে থেকে ফোনে যতটুকু কাজ করা যায় তা করছেন । হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর দায়িত্ব পালনকারী সবাই করোনায় আক্রান্ত। বিধায় দাপ্তরিক কাজকর্ম স্থবির হয়ে পড়েছে। জরুরী সেবা কোনোমতে চালু রাখা হয়েছে।

 খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নমুনা দেয়ার ছয় থেকে সাত দিন পর রিপোর্ট এসে পৌছাচ্ছে রাজবাড়ীতে। এতে করে সংক্রমণের হার বাড়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। তাদের মতে নমুনা দিয়ে আসা ব্যক্তি স্বাভাবিকভাবেই ঘোরাফেরা করছেন। তার রিপোর্ট পজিটিভ হওয়ার পর জানা যাচ্ছে আক্রান্তের কথা। ততদিনে তিনি বহু মানুষের সংস্পর্শে গিয়েছেন। এতে অন্যদের আক্রান্তের সম্ভাবনা থেকেই যায়। আবার যার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। পরে যে তিনি আক্রান্ত হবেন না এর কী নিশ্চয়তা। এসব কারণে নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট দ্রুত  পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। রাজবাড়ীতে একটি পিসিআর ল্যাব স্থাপনের দাবি তাদের।

এ পর্যন্ত জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২২১ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলায়  ৮১ জন, পাংশায় ৩০ জন, বালিয়াকান্দিতে ৪৫ জন, কালুখালীতে ৩০ জন ও গোয়ালন্দে ৩৪ জন। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রশাসনের দুই জন, থানার ওসি একজন, চিকিৎসক ছয় জন, সাংবাদিক দুইজন উল্লেখযোগ্য।

রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. নুরুল ইসলাম জানান, কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কোভিড হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সেখানে আউটডোর হবেনা। বালিয়াকান্দিতে তিনজন আক্রান্ত হয়েছে। যেভাবে আছে সেভাবেই চালাতে হবে। কিছু করার নেই। পিসিআর ল্যাব চালুর বিষয়টি সম্পূর্ণ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ব্যাপার। জেলা পর্যায়ে এখনও চালু হয়নি। তবে সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে। যারা নমুনা দিচ্ছে তাদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার একটা চিন্তা ভাবনা রয়েছে। এজন্য সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সাথে কথা হয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

রাজবাড়ীতে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা রোগী ॥ নমুনা রিপোর্ট দেরিতে আসায় সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ॥ পিসিআর ল্যাব স্থাপনের দাবি

প্রকাশের সময় : ১০:৪০:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২০

জনতার আদালত অনলাইন ॥ করোনার সংক্রমণ শুরুর পর থেকেই বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম হেদায়েতুল ইসলাম ত্রাণ বিতরণ থেকে শুরু করে সংক্রমণ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালিয়েছেন। বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। তিনি নিজেই এখন করোনায় আক্রান্ত। বালিয়াকান্দি হাসপাতালের পাঁচ ডাক্তারের মধ্যে তিনজনই আক্রান্ত হয়েছেন করোনায়। কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেরও তিন ডাক্তার আক্রান্ত। ফলে ভেঙে পড়েছে চিকিৎসাসেবা। জেলায় এখন হুহু করে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। একদিনেই ৫৪ জন আক্রান্ত হয়ে সোমবার পর্যন্ত করোনা রোগীর সংখ্যা ২২১ জন। এর প্রেক্ষিতে দাবি উঠেছে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের।

জেলা সিভিল সার্জনের সূত্রমতে, গত শনিবার দুই দফায় প্রাপ্ত রিপোর্টে মোট ৫৪ জনের পজিটিভ পাওয়া যায়। এর মধ্যে বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম হেদায়েতুল ইসলাম, বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাফিন জব্বারসহ হাসপাতালের তিন ডাক্তার, কালুখালী উপজেলার তিন  ডাক্তার, সাত স্বাস্থ্য কর্মী, গোয়ালন্দের একজন সাংবাদিক, একজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। বালিয়াকান্দি হাসপাতালের পাঁচ ডাক্তারের মধ্যে তিনজনই আক্রান্ত হওয়ায় ভেঙে পড়েছে সেখানকার স্বাস্থ্যসেবা। গত ১৫ জুন তারিখে একজন ডাক্তার আক্রান্ত হওয়ার পরই হাসপাতালের জরুরী সেবা ছাড়া সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। রোববার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ আরও দুজন আক্রান্ত হওয়ায় এসেবাও হুমকির মুখে পড়লো।

করোনার ঝুঁকিতে থাকায় গত ১৫ জুন বালিয়াকান্দি উপজেলার সদর ইউনিয়নকে রেড জোন ঘোষণা করা হলেও কার্যত তা মানা হচ্ছে না বলে জানা গেছে। সেখানে স্বাভাবিকভাবেই লোকজন ব্যবসা বাণিজ্য, চলাফেরা সবকিছুই করে চলেছে।

অপরদিকে কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা খোন্দকার আবু জালালসহ তিন ডাক্তার ও ১০ জন স্টাফ করোনায় আক্রান্ত। এ হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা দূরে থাক দাপ্তরিক কাজকর্মও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা খোন্দকার আবু জালাল জানান, নমুনা দেয়ার পর হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার কথা থাকলেও তাকে প্রতিদিনই হাসপাতালে কাজ করতে হয়েছে। নমুনা পজিটিভ হওয়ার পর আইসোলেশনে থেকে ফোনে যতটুকু কাজ করা যায় তা করছেন । হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর দায়িত্ব পালনকারী সবাই করোনায় আক্রান্ত। বিধায় দাপ্তরিক কাজকর্ম স্থবির হয়ে পড়েছে। জরুরী সেবা কোনোমতে চালু রাখা হয়েছে।

 খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নমুনা দেয়ার ছয় থেকে সাত দিন পর রিপোর্ট এসে পৌছাচ্ছে রাজবাড়ীতে। এতে করে সংক্রমণের হার বাড়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। তাদের মতে নমুনা দিয়ে আসা ব্যক্তি স্বাভাবিকভাবেই ঘোরাফেরা করছেন। তার রিপোর্ট পজিটিভ হওয়ার পর জানা যাচ্ছে আক্রান্তের কথা। ততদিনে তিনি বহু মানুষের সংস্পর্শে গিয়েছেন। এতে অন্যদের আক্রান্তের সম্ভাবনা থেকেই যায়। আবার যার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। পরে যে তিনি আক্রান্ত হবেন না এর কী নিশ্চয়তা। এসব কারণে নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট দ্রুত  পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। রাজবাড়ীতে একটি পিসিআর ল্যাব স্থাপনের দাবি তাদের।

এ পর্যন্ত জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২২১ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলায়  ৮১ জন, পাংশায় ৩০ জন, বালিয়াকান্দিতে ৪৫ জন, কালুখালীতে ৩০ জন ও গোয়ালন্দে ৩৪ জন। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রশাসনের দুই জন, থানার ওসি একজন, চিকিৎসক ছয় জন, সাংবাদিক দুইজন উল্লেখযোগ্য।

রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. নুরুল ইসলাম জানান, কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কোভিড হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সেখানে আউটডোর হবেনা। বালিয়াকান্দিতে তিনজন আক্রান্ত হয়েছে। যেভাবে আছে সেভাবেই চালাতে হবে। কিছু করার নেই। পিসিআর ল্যাব চালুর বিষয়টি সম্পূর্ণ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ব্যাপার। জেলা পর্যায়ে এখনও চালু হয়নি। তবে সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে। যারা নমুনা দিচ্ছে তাদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার একটা চিন্তা ভাবনা রয়েছে। এজন্য সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সাথে কথা হয়েছে।