Dhaka ০১:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

চলন্ত মোটরসাইকেলে গুলি করে শহীদ শেখকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : ০৭:৪৯:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২০
  • / ১৪২৪ জন সংবাদটি পড়েছেন

জনতার আদালত অনলাইন॥ রাজবাড়ীর সদর উপজেলার খানখানাপুর ইউনিয়নের কাজীপাড়া এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে শহীদ শেখ (৫৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তিনি একই উপজেলার পাচুরিয়া ইউনিয়নের খোলাবাড়িয়া গ্রামের মৃত ইব্রাহীম শেখের ছেলে। কারা কেন তাকে হত্যা করেছে তা এখনও জানা যায়নি। তবে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তিনি খুন হয়েছেন বলে ধারণা পুলিশের। পেশায় তিনি একজন ব্যবসায়ী ছিলেন।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেলা ১১টার দিকে খানখানাপুর বাজার থেকে সওদা করে মোটরসাইকেলযোগে বাড়িতে ফিরছিলেন। মোটরসাইকেলে তার ফুফাতো ভাই মোজাহার শেখ সাথে ছিলেন । তাদের বহনকারী মোটরসাইকেলটি কাজীপাড়া এলাকার সেবা ইট ভাটার কাছে যাওয়ার পর পেছন থেকে আরেকটি মোটরসাইকেল তাদের কাছে এসে চলন্ত অবস্থায় গুলি করে। গুলিটি শহীদ শেখের চোখ ভেদ  করে চলে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান। তবে তার সাথে থাকা মোজাহার শেখ অক্ষত আছেন। ঘটনাস্থলটি থেকে তার বাড়ির দূরত্ব মাত্র দুশ গজ।

শহীদ শেখের ভাই আব্দুস সালাম জানান, পাচুরিয়ার ভান্ডারিয়া বাজারে তার ভাইয়ের মুদি দোকান ছিল। সেটি বিক্রি করে তিনি ভুষিমাল, কাঠসহ বিভিন্ন ব্যবসা করতেন। তার সাথে কারো শত্রুতা ছিল বলে তিনি শোনেননি। কী কারণে তাকে দুর্বৃত্তরা হত্যা করলো তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

তবে তার এক স্বজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, স্থানীয় একটি চরমপন্থী দলের নেতা মাঝে মধ্যেই শহীদ শেখকে মোবাইল ফোনে হুমকি দিত।

খানখানাপুর ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম লাল জানান, সজ্জন লোক হিসেবেই পরিচিত  ছিলেন শহীদ শেখ। তিনি খানখানাপুর হাই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যও। সবার সাথে তার ভালো সম্পর্ক ছিল। শহীদ শেখ সক্রিয়ভাবে কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত ছিলেন না বলে জানান তিনি। তিনিও বুঝতে পারছেন না কেন খুন হয়েছেন শহীদ শেখ।

রাজবাড়ী সদর থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। গুলিটি শহীদ শেখের চোখে লেগে পেছন দিক দিয়ে বেরিয়ে গেছে। খুব কাছ থেকে গুলিটি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গুলিটি পাওয়া না যাওয়ায় বোঝা যাচ্ছে না হত্যাকান্ডে কী ধরণের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। শহীদ শেখের সঙ্গী মোজাহার শেখকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। কারা কেন তাকে হত্যা করেছে তা এখনও জানা যায়নি। পুলিশ হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা ও হত্যাকান্ডের কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

চলন্ত মোটরসাইকেলে গুলি করে শহীদ শেখকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা

প্রকাশের সময় : ০৭:৪৯:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২০

জনতার আদালত অনলাইন॥ রাজবাড়ীর সদর উপজেলার খানখানাপুর ইউনিয়নের কাজীপাড়া এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে শহীদ শেখ (৫৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তিনি একই উপজেলার পাচুরিয়া ইউনিয়নের খোলাবাড়িয়া গ্রামের মৃত ইব্রাহীম শেখের ছেলে। কারা কেন তাকে হত্যা করেছে তা এখনও জানা যায়নি। তবে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তিনি খুন হয়েছেন বলে ধারণা পুলিশের। পেশায় তিনি একজন ব্যবসায়ী ছিলেন।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেলা ১১টার দিকে খানখানাপুর বাজার থেকে সওদা করে মোটরসাইকেলযোগে বাড়িতে ফিরছিলেন। মোটরসাইকেলে তার ফুফাতো ভাই মোজাহার শেখ সাথে ছিলেন । তাদের বহনকারী মোটরসাইকেলটি কাজীপাড়া এলাকার সেবা ইট ভাটার কাছে যাওয়ার পর পেছন থেকে আরেকটি মোটরসাইকেল তাদের কাছে এসে চলন্ত অবস্থায় গুলি করে। গুলিটি শহীদ শেখের চোখ ভেদ  করে চলে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান। তবে তার সাথে থাকা মোজাহার শেখ অক্ষত আছেন। ঘটনাস্থলটি থেকে তার বাড়ির দূরত্ব মাত্র দুশ গজ।

শহীদ শেখের ভাই আব্দুস সালাম জানান, পাচুরিয়ার ভান্ডারিয়া বাজারে তার ভাইয়ের মুদি দোকান ছিল। সেটি বিক্রি করে তিনি ভুষিমাল, কাঠসহ বিভিন্ন ব্যবসা করতেন। তার সাথে কারো শত্রুতা ছিল বলে তিনি শোনেননি। কী কারণে তাকে দুর্বৃত্তরা হত্যা করলো তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

তবে তার এক স্বজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, স্থানীয় একটি চরমপন্থী দলের নেতা মাঝে মধ্যেই শহীদ শেখকে মোবাইল ফোনে হুমকি দিত।

খানখানাপুর ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম লাল জানান, সজ্জন লোক হিসেবেই পরিচিত  ছিলেন শহীদ শেখ। তিনি খানখানাপুর হাই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যও। সবার সাথে তার ভালো সম্পর্ক ছিল। শহীদ শেখ সক্রিয়ভাবে কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত ছিলেন না বলে জানান তিনি। তিনিও বুঝতে পারছেন না কেন খুন হয়েছেন শহীদ শেখ।

রাজবাড়ী সদর থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। গুলিটি শহীদ শেখের চোখে লেগে পেছন দিক দিয়ে বেরিয়ে গেছে। খুব কাছ থেকে গুলিটি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গুলিটি পাওয়া না যাওয়ায় বোঝা যাচ্ছে না হত্যাকান্ডে কী ধরণের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। শহীদ শেখের সঙ্গী মোজাহার শেখকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। কারা কেন তাকে হত্যা করেছে তা এখনও জানা যায়নি। পুলিশ হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা ও হত্যাকান্ডের কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।