Dhaka ১২:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৩, ১৭ আশ্বিন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বিনামূল্যে হোমিও চিকিৎসার পাশাপাশি ওষুধ ও মাস্ক দিচ্ছেন বালিয়াকান্দির হোমিও ডাক্তার রামমোহন

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : ০৭:৫০:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২০
  • / ১৪৮৩ জন সংবাদটি পড়েছেন

 

 

জনতার আদালত অনলাইন ঃ করোনা ভাইরাস সংক্রমন আতঙ্গে যখন অনেক ডিগ্রীধারী চিকিৎসক সেবা না দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন তাদের চেম্বার ঠিক তখনই বিনামূল্যে হোমিও চিকিৎসার পাশাপশি রোগীদের ওষুধ, মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিচ্ছেন হোমিও ডাক্তার রামমোহন সরকার।

ডাক্তার রামমোহন সরকার রাজবাড়ী বালিয়াকান্দির বাজারের নারুয়া রোডে মোল্লা মার্কেটের শাপলা হোমিও হলের হোমিও চিকিৎসক এবং রাজবাড়ী হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক। প্রতিদিন তিনি বাসা ও চেম্বার মিলে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন রোগীর চিকিৎসা দেন।

ডাক্তার রামমোহন সরকার বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে অসচ্ছল, হতদরিদ্র, দুস্থ্য ও কর্মহীন পরিবার গুলো পড়েছে চরম বিপাকে। এরা বড় বড় চিকিৎসক বা হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তার বা সেবা না পেয়ে ফিরে বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। একজন চিকিৎসক  হিসেবে তিনি সেটা মানতে পারেন নাই। যে কারণে তিনি করোনা ভাইরাসের সংক্রমনের ঝুকি আছে যেনেও ২০ মার্চ থেকে সব ধরনের রোগীদের সেবা দিতে শুরু করেন। এ সময়  সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে তিনি সেবা দেন। তার কাছে  প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী আসে। এরমধ্যে শিশু ও মহিলা রোগীর সংখ্যা বেশি। বর্তমানে তিনি অসচ্ছল, হতদরিদ্র ও দুস্থ্য রোগীদের বিনামুল্যে এবং করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া রোগীদের ৩০ শতাংশ ছাড়ে  চিকিৎসা দিচ্ছেন। এছাড়া তার কাছে আসা সব রোগীকে করোনা ভাইরাসে সচেতন করার পাশাপাশি বিনামুল্যে মাস্ক এবং স্বাস্থ্য সেবার সাথে জরিত স্বেচ্ছাসেবীদের হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিচ্ছেন।

তিনি আরো বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে আসছেন। সামাজিক মুল্যোবোধের জায়গা থেকেই তিনি করোনা যুদ্ধে এগিয়ে  এসেছেন। করোনা দূর্যোগ  যতদিন থাকবে, ততদিন তিনি এভাবে সেবা দেবেন। তারপরও রোগীদের  প্রধান্য দিয়ে সব সময় সেবা দেবার চেষ্টা করেন। সব ধরনের চিকিৎসকদের অনুরোধ করেন এই দূর্যোগে জনগণের পাশে দাঁড়াতে।

বাজারের স্থানীয়রা জানান, ডাক্তার রামমোহন সরকারের হোমিও হলে প্রতিদিন নারী, শিশু, বয়স্কসহ অনেক রোগী আসেন। করোনা আতঙ্কের মধ্যেউ তিনি নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে রোগী দেখছেন। অনেক ডাক্তার রোগী দেখা তো দুরের কথা। তারা  তাদের চেম্বার বন্ধ করে  দিয়েছে।

হোমিও চিকিৎসা নিতে আসা নবাবপুরের রোগী রানু বেগম জানান, তিনি সন্তান সম্ভাবা। বর্তমানে হাসপাতালে যেতে ভয় লাগে, আবার অনেকে বলে হাসপাতালে ডাক্তার নাই। যে কারণে তিনি হোমিও ডাক্তার রামমোহন সরকারের কাছ থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ডাক্তার তাকে চিকিৎসা দেবার পর করোনা ভাইরাস নিয়ে সচেতন করেন এবং একটি মাস্ক দেন। রোগী এনামুল করিম জানান, তিনি দীর্ঘ দিন কান পাঁকা রোগে ভুগছেন। হাসপাতালে অনেক রোগী আসা যাওয়া করে। কারমধ্যে কি আছে, সেটা তো জানেন না। ফলে হাসপাতালের ডাক্তারের কাছে না গিয়ে হোমিও  ডাক্তারের কাছ থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ডাক্তার রামমোহন সরকার  তাকে দেখার পর ওষুধ ও মাস্ক দিলেও ওষুধের টাকা কম  নিয়েছেন। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুকি থাকলেও তিনি  যতœ সহকারে রোগী দেখছেন।

রোগী সাহিদা বেগম  জানান, তিনি গরীব মানুষ। টাকার অভাবে ভাল ডাক্তারের কাছে যেতে পারেন না। দীর্ঘ দিন ধরে হার্টের রোগে ভুগছেন। তাই হোমিও চিকিৎসা করাচ্ছেন। এখানে তিনি মাঝে মধ্যেই চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু এবার আসাতে ডাক্তার কোন টাকা নেয় নাই। আরো মাস্ক দিয়েছে।

উল্লেখ্য, রাজবাড়ীতে এখন পর্যন্ত ১৫ জন করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে বালিয়াকান্দিতে ১ জন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

বিনামূল্যে হোমিও চিকিৎসার পাশাপাশি ওষুধ ও মাস্ক দিচ্ছেন বালিয়াকান্দির হোমিও ডাক্তার রামমোহন

প্রকাশের সময় : ০৭:৫০:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২০

 

 

জনতার আদালত অনলাইন ঃ করোনা ভাইরাস সংক্রমন আতঙ্গে যখন অনেক ডিগ্রীধারী চিকিৎসক সেবা না দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন তাদের চেম্বার ঠিক তখনই বিনামূল্যে হোমিও চিকিৎসার পাশাপশি রোগীদের ওষুধ, মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিচ্ছেন হোমিও ডাক্তার রামমোহন সরকার।

ডাক্তার রামমোহন সরকার রাজবাড়ী বালিয়াকান্দির বাজারের নারুয়া রোডে মোল্লা মার্কেটের শাপলা হোমিও হলের হোমিও চিকিৎসক এবং রাজবাড়ী হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক। প্রতিদিন তিনি বাসা ও চেম্বার মিলে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন রোগীর চিকিৎসা দেন।

ডাক্তার রামমোহন সরকার বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে অসচ্ছল, হতদরিদ্র, দুস্থ্য ও কর্মহীন পরিবার গুলো পড়েছে চরম বিপাকে। এরা বড় বড় চিকিৎসক বা হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তার বা সেবা না পেয়ে ফিরে বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। একজন চিকিৎসক  হিসেবে তিনি সেটা মানতে পারেন নাই। যে কারণে তিনি করোনা ভাইরাসের সংক্রমনের ঝুকি আছে যেনেও ২০ মার্চ থেকে সব ধরনের রোগীদের সেবা দিতে শুরু করেন। এ সময়  সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে তিনি সেবা দেন। তার কাছে  প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী আসে। এরমধ্যে শিশু ও মহিলা রোগীর সংখ্যা বেশি। বর্তমানে তিনি অসচ্ছল, হতদরিদ্র ও দুস্থ্য রোগীদের বিনামুল্যে এবং করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া রোগীদের ৩০ শতাংশ ছাড়ে  চিকিৎসা দিচ্ছেন। এছাড়া তার কাছে আসা সব রোগীকে করোনা ভাইরাসে সচেতন করার পাশাপাশি বিনামুল্যে মাস্ক এবং স্বাস্থ্য সেবার সাথে জরিত স্বেচ্ছাসেবীদের হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিচ্ছেন।

তিনি আরো বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে আসছেন। সামাজিক মুল্যোবোধের জায়গা থেকেই তিনি করোনা যুদ্ধে এগিয়ে  এসেছেন। করোনা দূর্যোগ  যতদিন থাকবে, ততদিন তিনি এভাবে সেবা দেবেন। তারপরও রোগীদের  প্রধান্য দিয়ে সব সময় সেবা দেবার চেষ্টা করেন। সব ধরনের চিকিৎসকদের অনুরোধ করেন এই দূর্যোগে জনগণের পাশে দাঁড়াতে।

বাজারের স্থানীয়রা জানান, ডাক্তার রামমোহন সরকারের হোমিও হলে প্রতিদিন নারী, শিশু, বয়স্কসহ অনেক রোগী আসেন। করোনা আতঙ্কের মধ্যেউ তিনি নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে রোগী দেখছেন। অনেক ডাক্তার রোগী দেখা তো দুরের কথা। তারা  তাদের চেম্বার বন্ধ করে  দিয়েছে।

হোমিও চিকিৎসা নিতে আসা নবাবপুরের রোগী রানু বেগম জানান, তিনি সন্তান সম্ভাবা। বর্তমানে হাসপাতালে যেতে ভয় লাগে, আবার অনেকে বলে হাসপাতালে ডাক্তার নাই। যে কারণে তিনি হোমিও ডাক্তার রামমোহন সরকারের কাছ থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ডাক্তার তাকে চিকিৎসা দেবার পর করোনা ভাইরাস নিয়ে সচেতন করেন এবং একটি মাস্ক দেন। রোগী এনামুল করিম জানান, তিনি দীর্ঘ দিন কান পাঁকা রোগে ভুগছেন। হাসপাতালে অনেক রোগী আসা যাওয়া করে। কারমধ্যে কি আছে, সেটা তো জানেন না। ফলে হাসপাতালের ডাক্তারের কাছে না গিয়ে হোমিও  ডাক্তারের কাছ থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ডাক্তার রামমোহন সরকার  তাকে দেখার পর ওষুধ ও মাস্ক দিলেও ওষুধের টাকা কম  নিয়েছেন। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুকি থাকলেও তিনি  যতœ সহকারে রোগী দেখছেন।

রোগী সাহিদা বেগম  জানান, তিনি গরীব মানুষ। টাকার অভাবে ভাল ডাক্তারের কাছে যেতে পারেন না। দীর্ঘ দিন ধরে হার্টের রোগে ভুগছেন। তাই হোমিও চিকিৎসা করাচ্ছেন। এখানে তিনি মাঝে মধ্যেই চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু এবার আসাতে ডাক্তার কোন টাকা নেয় নাই। আরো মাস্ক দিয়েছে।

উল্লেখ্য, রাজবাড়ীতে এখন পর্যন্ত ১৫ জন করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে বালিয়াকান্দিতে ১ জন।