Dhaka ১১:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নিদারুন কষ্টে রাজবাড়ীর ৪ হাজার পরিবহন শ্রমিক ॥ খোঁজ নেননা মালিকরা

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : ০৬:৪৫:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২০
  • / ১৪৪৭ জন সংবাদটি পড়েছেন

জনতার আদালত অনলাইন॥ ‘ দেড় মাস ধরে কাজ কাম বন্ধ। আয় রোজগার নেই। ঘরে খাবার নেই। তবুও কারো কাছে হাত পাততে পারিনা। কিছু চাইতেও পারিনা।’ ছলছল চোখে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন দুলাল মন্ডল। রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা দুলাল মন্ডল একজন বাসচালক। তিনি জানান, মাসে যে টাকা আয় করেন তা সংসার চালাতে গিয়ে শেষ হয়ে যায়। জমাতে পারেননি কিছুই। সংসারে স্ত্রী ও দুই মেয়ে রয়েছে। প্রায় দেড় মাস কর্মহীন থাকলেও এখন পর্যন্ত মালিকরা খোঁজ পর্যন্ত নেয়নি। কেউ কোনো সাহায্য সহযোগিতাও করেনি।
দুলাল মন্ডলের মত রাজবাড়ীর চার হাজার পরিবহন শ্রমিক আছে নিদারুন কষ্টে। যাদের মধ্যে মাত্র এক হাজার জন এ পর্যন্ত ১০ কেজি করে চাল পেয়েছেন। কর্মহীন এসব শ্রমিকেরা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কোনো পরিবহন মালিকই তাদের খোঁজ নেননা বলেন অভিযোগ করেন তারা।
রাজবাড়ীর শ্রীপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায় কয়েকজন শ্রমিক বসে খোশ গল্প করছে। এসময় কথা হয় কয়েকজন শ্রমিকের সাথে। হোসনাবাদ গ্রামের মো. মিলন জানান, তিনি রাজবাড়ী পরিবহন মালিক গ্রুপের স্টাটার। পরিবহন চলাচল বন্ধ। তাই তার বেতনও নেই। ১৫ দিন আগে আট কেজি চাল পেয়েছিলেন। পাঁচজনের সংসার তার। ওই চাল দুদিনেই শেষ। আর কেউ সাহায্য সহযোগিতা করেনি। খোঁজও নেয়নি কেউ। এইভাবে জীবন চলেনা। তবে মালিক সমিতি তাদের তালিকা করেছে। আশ্বাস দিয়েছে কিছু সহযোগিতা করবে। সেই আশ্বাসের আশায় আছেন।
রাজবাড়ী শহরের ধুঞ্চি গ্রামের বাসিন্দা আবু বকর সিদ্দিকী একজন বাসচালক। জানালেন, বাড়িতে সময় কাটেনা। বাধ্য হয়ে টার্মিনালে আসেন। বাড়ি থেকে টার্মিনালে আসতেও ৫০/৬০ টাকা খরচ হয়। আয় রোজগার নেই। জমা টাকা যা ছিল শেষ। সামনের দিনগুলো কীভাবে কাটবে তাই ভেবে চোখে অন্ধকার দেখছেন।
রাজবাড়ী পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন সূত্র জানায়, রাজবাড়ীতে পরিবহন শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় চার হাজার। যাদের বেশির ভাগই হতদরিদ্র। প্রতিদিন তাদের যে আয় হতো তাই দিয়ে চলতো সংসার। আয় রোজগার না থাকায় তারা খুবই খারাপ অবস্থায় আছে।
রাজবাড়ী পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রশিদ বলেন, সরকারিভাবে আটশ এবং আমাদের তহবিল থেকে পাঁচশ মোট তেরশ শ্রমিককে ১০ কেজি করে চাল সহযোগিতা দেয়া হয়েছে। হতদরিদ্র শ্রমিকদের তালিকা করা হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলায় পর্যায়ক্রমে দেয়া হবে। আমরা আমাদের তহবিল থেকে আরও কিছু সাহায্য করার চেষ্টা করছি। প্রশাসনের কাছেও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বাস বা ট্রাক মালিকরা শ্রমিকদের কোনো সহযোগিতা করেনি। আমরা অনেকবার তাদের বলেও কোনো লাভ হয়নি। বাস মালিক গ্রুপ প্রথম দিকে একটা উদ্যোগ নিলেও পরবর্তীতে আর কিছুই করেনি।
রাজবাড়ী পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রকিবুল ইসলাম পিন্টু বলেন, জেলা প্রশাসন এবং পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কিছু শ্রমিককে সাহায্য দেয়া হয়েছে। এখনও তিন হাজারের মত শ্রমিক কোনো সহায়তা পায়নি।
রাজবাড়ী পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ হাসান মৃধা বলেন, আমাদের মালিক গ্রুপের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের কোনো সহযোগিতা করা হয়নি। তবে আমি আমার শ্রমিকদের ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করেছি। অন্যান্য মালিকরাও হয়তো এভাবেই তাদের শ্রমিকদের সহযোগিতা দিয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

নিদারুন কষ্টে রাজবাড়ীর ৪ হাজার পরিবহন শ্রমিক ॥ খোঁজ নেননা মালিকরা

প্রকাশের সময় : ০৬:৪৫:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২০

জনতার আদালত অনলাইন॥ ‘ দেড় মাস ধরে কাজ কাম বন্ধ। আয় রোজগার নেই। ঘরে খাবার নেই। তবুও কারো কাছে হাত পাততে পারিনা। কিছু চাইতেও পারিনা।’ ছলছল চোখে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন দুলাল মন্ডল। রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা দুলাল মন্ডল একজন বাসচালক। তিনি জানান, মাসে যে টাকা আয় করেন তা সংসার চালাতে গিয়ে শেষ হয়ে যায়। জমাতে পারেননি কিছুই। সংসারে স্ত্রী ও দুই মেয়ে রয়েছে। প্রায় দেড় মাস কর্মহীন থাকলেও এখন পর্যন্ত মালিকরা খোঁজ পর্যন্ত নেয়নি। কেউ কোনো সাহায্য সহযোগিতাও করেনি।
দুলাল মন্ডলের মত রাজবাড়ীর চার হাজার পরিবহন শ্রমিক আছে নিদারুন কষ্টে। যাদের মধ্যে মাত্র এক হাজার জন এ পর্যন্ত ১০ কেজি করে চাল পেয়েছেন। কর্মহীন এসব শ্রমিকেরা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কোনো পরিবহন মালিকই তাদের খোঁজ নেননা বলেন অভিযোগ করেন তারা।
রাজবাড়ীর শ্রীপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায় কয়েকজন শ্রমিক বসে খোশ গল্প করছে। এসময় কথা হয় কয়েকজন শ্রমিকের সাথে। হোসনাবাদ গ্রামের মো. মিলন জানান, তিনি রাজবাড়ী পরিবহন মালিক গ্রুপের স্টাটার। পরিবহন চলাচল বন্ধ। তাই তার বেতনও নেই। ১৫ দিন আগে আট কেজি চাল পেয়েছিলেন। পাঁচজনের সংসার তার। ওই চাল দুদিনেই শেষ। আর কেউ সাহায্য সহযোগিতা করেনি। খোঁজও নেয়নি কেউ। এইভাবে জীবন চলেনা। তবে মালিক সমিতি তাদের তালিকা করেছে। আশ্বাস দিয়েছে কিছু সহযোগিতা করবে। সেই আশ্বাসের আশায় আছেন।
রাজবাড়ী শহরের ধুঞ্চি গ্রামের বাসিন্দা আবু বকর সিদ্দিকী একজন বাসচালক। জানালেন, বাড়িতে সময় কাটেনা। বাধ্য হয়ে টার্মিনালে আসেন। বাড়ি থেকে টার্মিনালে আসতেও ৫০/৬০ টাকা খরচ হয়। আয় রোজগার নেই। জমা টাকা যা ছিল শেষ। সামনের দিনগুলো কীভাবে কাটবে তাই ভেবে চোখে অন্ধকার দেখছেন।
রাজবাড়ী পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন সূত্র জানায়, রাজবাড়ীতে পরিবহন শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় চার হাজার। যাদের বেশির ভাগই হতদরিদ্র। প্রতিদিন তাদের যে আয় হতো তাই দিয়ে চলতো সংসার। আয় রোজগার না থাকায় তারা খুবই খারাপ অবস্থায় আছে।
রাজবাড়ী পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রশিদ বলেন, সরকারিভাবে আটশ এবং আমাদের তহবিল থেকে পাঁচশ মোট তেরশ শ্রমিককে ১০ কেজি করে চাল সহযোগিতা দেয়া হয়েছে। হতদরিদ্র শ্রমিকদের তালিকা করা হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলায় পর্যায়ক্রমে দেয়া হবে। আমরা আমাদের তহবিল থেকে আরও কিছু সাহায্য করার চেষ্টা করছি। প্রশাসনের কাছেও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বাস বা ট্রাক মালিকরা শ্রমিকদের কোনো সহযোগিতা করেনি। আমরা অনেকবার তাদের বলেও কোনো লাভ হয়নি। বাস মালিক গ্রুপ প্রথম দিকে একটা উদ্যোগ নিলেও পরবর্তীতে আর কিছুই করেনি।
রাজবাড়ী পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রকিবুল ইসলাম পিন্টু বলেন, জেলা প্রশাসন এবং পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কিছু শ্রমিককে সাহায্য দেয়া হয়েছে। এখনও তিন হাজারের মত শ্রমিক কোনো সহায়তা পায়নি।
রাজবাড়ী পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ হাসান মৃধা বলেন, আমাদের মালিক গ্রুপের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের কোনো সহযোগিতা করা হয়নি। তবে আমি আমার শ্রমিকদের ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করেছি। অন্যান্য মালিকরাও হয়তো এভাবেই তাদের শ্রমিকদের সহযোগিতা দিয়েছে।