Dhaka ১১:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

করোনাযুদ্ধ জয় করে বাসায় ফিরলেন এমপি পত্নী

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : ০৭:৩০:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২০
  • / ১৩৭৯ জন সংবাদটি পড়েছেন

জনতার আদালত অনলাইন ॥ করোনাযুদ্ধ জয় করে রাজধানী ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ১৪ দিন পর সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার গুলশানের বাসায় ফিরেছেন রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলীর স্ত্রী রেবেকা সুলতানা। টানা ১৪ দিন করোনা আক্রান্ত স্ত্রীর পাশে ছিলেন সাংসদ কেরামত আলী। তবে তিনি করোনা নেগেটিভ আছেন। তার স্ত্রী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরায় সৃষ্টিকর্তার কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। নিয়মানুযায়ী তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা আরও ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন।
গত ১৪ এপ্রিল তারিখে রেবেকা সুলতানা ঢাকাতে থাকাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর তার করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। ওইদিনই তাকে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়। এসময়ে এমপি কাজী কেরামত আলী ও তার একমাত্র মেয়ে কানিজ ফতিমা চৈতির করোনা পরীক্ষা করানো হয়। তবে তাদের রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্ত্রীর পাশে সার্বক্ষণিক ছিলেন সাংসদ কাজী কেরামত আলী। গত ২২ এপ্রিল প্রথম দফা এবং ২৭ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় রেবেকা সুলতানাকে দুটি টেস্ট করানোর পর শেষটিতে নেগেটিভ আসলে তাকে ছাড়পত্র দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
করোনাযুদ্ধ জয় করে স্ত্রীর সুস্থ হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করে সাংসদ কাজী কেরামত আলী বলেন, আমার মধ্যে একটা বিশ্বাস ছিল আমার স্ত্রী সুস্থ হবে। এই অসুখ যার হয় সেই পরিবার আত্মীয় স্বজন সব অসহায় হয়ে পড়ে। আমার জীবদ্দশায় আমি এতোটা অসহায়ত্ব কখনও বোধ করিনি। কিছু আত্মীয় স্বজন খোঁজ নেয়, কিছু নেয়না। তবে আমার মনোবল অটুট ছিল। আমার স্ত্রী শারীরিকভাবে বেশি অসুস্থ বিধায় ঝুঁকি নিয়ে তার পাশে থাকতে হয়েছে।
তিনি বলেন, আমি একজন সংসদ সদস্য হলেও করোনা পরীক্ষা রিপোর্টের জন্য মন্ত্রীর সুপারিশ লেগেছে। একারণে করোনা পরীক্ষা এক জায়গায় সীমাবদ্ধ না রেখে আইসিডিআরবি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ হাসপাতালসহ কয়েকটি স্থানে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা উচিৎ। গত ২০ এপ্রিল তার চিকিৎসাধীন স্ত্রীর প্রথম দফা পরীক্ষা করা হয়। মন্ত্রীকে দিয়ে ফোন করিয়ে সে রিপোর্ট পেয়েছেন ২২ এপ্রিল। ২৪ এপ্রিলে দ্বিতীয় দফায় পরীক্ষার রিপোর্ট পেয়েছি ২৭ তারিখে। তাও দিতে চায়না। নানান টালবাহানা করে। রিপোর্ট নেগেটিভ না আসা পর্যন্ত বাসায় ফেরা সম্ভব নয়। হাসপাতালে কাটাতে হয়েছে বন্দী পাখির মত। তিনি জানান, নিমানুযায়ী আমরা ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকব। এরপর আবার জনসেবা করতে রাজবাড়ী ফিরে যাবো। হাসপাতালে যেসব চিকিৎসক, নার্স তাদের সেবা শুশ্রুষা দিয়েছেন তাদের সবাইকে তিনি ধন্যবাদ জানান।
সাংসদ কাজী কেরামত আলীর মেয়ে কানিজ ফাতিমা চৈতী বলেন, আল্লাহর কাছে অশেষ কৃতজ্ঞ যে মা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তিনি তার মায়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

করোনাযুদ্ধ জয় করে বাসায় ফিরলেন এমপি পত্নী

প্রকাশের সময় : ০৭:৩০:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২০

জনতার আদালত অনলাইন ॥ করোনাযুদ্ধ জয় করে রাজধানী ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ১৪ দিন পর সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার গুলশানের বাসায় ফিরেছেন রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলীর স্ত্রী রেবেকা সুলতানা। টানা ১৪ দিন করোনা আক্রান্ত স্ত্রীর পাশে ছিলেন সাংসদ কেরামত আলী। তবে তিনি করোনা নেগেটিভ আছেন। তার স্ত্রী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরায় সৃষ্টিকর্তার কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। নিয়মানুযায়ী তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা আরও ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন।
গত ১৪ এপ্রিল তারিখে রেবেকা সুলতানা ঢাকাতে থাকাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর তার করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। ওইদিনই তাকে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়। এসময়ে এমপি কাজী কেরামত আলী ও তার একমাত্র মেয়ে কানিজ ফতিমা চৈতির করোনা পরীক্ষা করানো হয়। তবে তাদের রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্ত্রীর পাশে সার্বক্ষণিক ছিলেন সাংসদ কাজী কেরামত আলী। গত ২২ এপ্রিল প্রথম দফা এবং ২৭ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় রেবেকা সুলতানাকে দুটি টেস্ট করানোর পর শেষটিতে নেগেটিভ আসলে তাকে ছাড়পত্র দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
করোনাযুদ্ধ জয় করে স্ত্রীর সুস্থ হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করে সাংসদ কাজী কেরামত আলী বলেন, আমার মধ্যে একটা বিশ্বাস ছিল আমার স্ত্রী সুস্থ হবে। এই অসুখ যার হয় সেই পরিবার আত্মীয় স্বজন সব অসহায় হয়ে পড়ে। আমার জীবদ্দশায় আমি এতোটা অসহায়ত্ব কখনও বোধ করিনি। কিছু আত্মীয় স্বজন খোঁজ নেয়, কিছু নেয়না। তবে আমার মনোবল অটুট ছিল। আমার স্ত্রী শারীরিকভাবে বেশি অসুস্থ বিধায় ঝুঁকি নিয়ে তার পাশে থাকতে হয়েছে।
তিনি বলেন, আমি একজন সংসদ সদস্য হলেও করোনা পরীক্ষা রিপোর্টের জন্য মন্ত্রীর সুপারিশ লেগেছে। একারণে করোনা পরীক্ষা এক জায়গায় সীমাবদ্ধ না রেখে আইসিডিআরবি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ হাসপাতালসহ কয়েকটি স্থানে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা উচিৎ। গত ২০ এপ্রিল তার চিকিৎসাধীন স্ত্রীর প্রথম দফা পরীক্ষা করা হয়। মন্ত্রীকে দিয়ে ফোন করিয়ে সে রিপোর্ট পেয়েছেন ২২ এপ্রিল। ২৪ এপ্রিলে দ্বিতীয় দফায় পরীক্ষার রিপোর্ট পেয়েছি ২৭ তারিখে। তাও দিতে চায়না। নানান টালবাহানা করে। রিপোর্ট নেগেটিভ না আসা পর্যন্ত বাসায় ফেরা সম্ভব নয়। হাসপাতালে কাটাতে হয়েছে বন্দী পাখির মত। তিনি জানান, নিমানুযায়ী আমরা ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকব। এরপর আবার জনসেবা করতে রাজবাড়ী ফিরে যাবো। হাসপাতালে যেসব চিকিৎসক, নার্স তাদের সেবা শুশ্রুষা দিয়েছেন তাদের সবাইকে তিনি ধন্যবাদ জানান।
সাংসদ কাজী কেরামত আলীর মেয়ে কানিজ ফাতিমা চৈতী বলেন, আল্লাহর কাছে অশেষ কৃতজ্ঞ যে মা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তিনি তার মায়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।