Dhaka ০৫:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রাজবাড়ীতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন স্মারকলিপি

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : ০৭:৪৫:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারী ২০২০
  • / ১৩৯০ জন সংবাদটি পড়েছেন

জনতার আদালত অনলাইন ॥ প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি এজাজ আহমেদ, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোস্তফা কামাল এবং রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে হয়রানীমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বৃহস্পতিবার রাজবাড়ীতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‘রাজবাড়ীর সম্মিলিত সাংবাদিক সমাজ’ এর ব্যানারে স্থানীয় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি চত্ত্বরে আয়োজিত মানববন্ধন চলাকালে এক সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়। রাজবাড়ী জেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি ও এটিএন বাংলার জেলা প্রতিনিধি লিটন চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে বক্তৃতা করেন জেলা টেলিভিশন সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস বাবু, সিটিজেন টাইমস এর জেলা প্রতিনিধি শামীমা আক্তার মুনমুন, কালের কণ্ঠের গোয়ালন্দ প্রতিনিধি গণেশ পাল, প্রথম আলোর গোয়ালন্দ প্রতিনিধি রাশেদুল হক রায়হান, বালিয়াকান্দি উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি সনজিৎ দাস, সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, চ্যানেল টুয়েন্টি ফোর এর রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি সুমন বিশ্বাস প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দৈনিক সমকালের রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি সৌমিত্র শীল চন্দন।
বক্তারা অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার এবং গুলিতে স্কুলছাত্র আহত হওয়ার ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পিবিআইতে হস্তান্তর করার জন্য জোর দাবি জানান।
মানববন্ধন শেষে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি পেশ করা হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, রাজবাড়ী ছোট্ট জেলা হলেও শান্তিপ্রিয় জেলা হিসেবে এর পরিচিতি ব্যাপক। এ জেলার প্রশাসন, পুলিশসহ সকল পেশাজীবী মানুষের সাথে সাংবাদিকদের সুসম্পর্ক এক অনন্য দৃষ্টান্ত। পারস্পরিক আন্তরিকতা ও সহযোগিতার কারণেই এই সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি গড়ে উঠেছে। আমরা প্রকৃত ঘটনাকে তুলে ধরে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে সর্বৈবভাবে চেষ্টা করে আসছি। সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের পাশাপাশি সমাজের অসঙ্গতিগুলো তুলে ধরতেও আমরা বদ্ধ পরিকর।
কিন্তু সাম্প্রতিককালে একটি মহল রহস্যজনক কারণে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে বিনষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। যার ধারাবাহিকতায় গত ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং তারিখে রাজবাড়ীর ২ নং আমলী আদালতে দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান ও রাজবাড়ী প্রতিনিধি এজাজ আহম্মেদের বিরুদ্ধে এবং অদ্য ২ জানুয়ারি ২০২০ ইং তারিখে দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোস্তফা কামাল এবং জেলা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।
অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, পাংশা উপজেলার মাছপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নাহিদ হাসান রতন ও সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম কর্তৃক দায়েরকৃত মামলা দুটির এজাহারে বর্ণিত বিবরণীর পুরোটাই অসত্য। আপনার সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, কোনো ঘটনা ঘটনার পর ভুক্তভোগী, প্রত্যক্ষদর্শী, অভিযুক্ত ব্যক্তিসহ সংশ্লিষ্ট সকলের বক্তব্য নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করা হয়। দৈনিক প্রথম আলো ও দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।
২৩ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং তারিখে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত ‘ছাত্রলীগ নেতার গুলিতে স্কুলছাত্র গুরুতর আহত’ শিরোনামে সংবাদটিতে রাজবাড়ী প্রতিনিধি এজাজ আহম্মেদের নিজস্ব কোনো বক্তব্য নেই। ভুক্তভোগী পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, থানা, পুলিশের বক্তব্যের উপর নির্ভর করে রিপোর্টটি করা হয়েছে। নিয়মানুসারে অভিযুক্ত পাংশা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার তাসবীর হাসান সিসিলের বক্তব্য নেয়ার জন্য তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে বারংবার ফোন করা হয়। কিন্তু তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে সিসিলের বাবা মাছপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার সাইফুল ইসলাম বুড়ো, পাংশা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিদুল ইসলাম মারুফের বক্তব্য নেয়া হয়েছে। এবং তাদের বক্তব্য প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ রয়েছে। গত ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং তারিখে দৈনিক কালের কণ্ঠে ‘ছাত্রলীগ নেতার হাত থেকে বাবাকে বাঁচাতে কিশোর গুলিবিদ্ধ’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটিতেও যথারীতি নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে।
এসম্পর্কিত সকল তথ্য প্রমাণ প্রথম আলো প্রতিনিধি এজাজ আহম্মেদ, দৈনিক কালের কণ্ঠ প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর হোসেনসহ জেলার কর্মরত সাংবাদিকদের কাছে সংরক্ষিত আছে।
সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ এবং হয়রানী করার উদ্দেশ্যে এবং প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যেই এ মিথ্যা মামলা করা হয়েছে তা সহজেই অনুমেয়। আমরা অনতিবিলম্বে এই মিথ্যা মামলা দুটি প্রত্যাহারের দাবি জানাই।
এধরনের হয়রানীমূলক মিথ্যা মামলা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অন্তরায় বলে আমরা মনে করি।
একই সাথে আমরা দুঃখের সাথে জানাতে চাই, যাকে ঘিরে এ ঘটনা সেই স্কুলছাত্র আজিম এখনও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। তার বুক থেকে এখনও গুলিটি বের হয়নি বলে পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা গেছে।
আমরা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই, নিরপরাধ, নিষ্পাপ স্কুলছাত্র আজিমকে যে বা যারা গুলি করেছে তার প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন হওয়া দরকার। দোষী ব্যক্তির শাস্তি নিশ্চিত হওয়া জরুরী। একারণে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের জন্য গুলির ঘটনায় গত ২৩ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং তারিখে পাংশা থানায় যে মামলা হয়েছে সেই মামলাটি পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) হস্তান্তরের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।
প্রসঙ্গত, পাংশা উপজেলার মাছপাড়া ইউনিয়নের সুলতান মোড় এলাকায় গত ২১ ডিসেম্বর তারিখে সন্ত্রাসীদের গুলিতে স্কুলছাত্র আজিম গুরুতর আহত হয়। এ সম্পর্কিত সংবাদ প্রকাশের জের ধরে মাছপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম গতকাল কালের কণ্ঠের সম্পাদক, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও জেলা প্রতিনিধির বিরুদ্ধে এবং গত ৩১ ডিসেম্বর তারিখে মাছপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নাহিদ হাসান রতন প্রথম আলোর সম্পাদক ও জেলা প্রতিনিধির বিরুদ্ধে মামলা করেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

রাজবাড়ীতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন স্মারকলিপি

প্রকাশের সময় : ০৭:৪৫:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারী ২০২০

জনতার আদালত অনলাইন ॥ প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি এজাজ আহমেদ, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোস্তফা কামাল এবং রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে হয়রানীমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বৃহস্পতিবার রাজবাড়ীতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‘রাজবাড়ীর সম্মিলিত সাংবাদিক সমাজ’ এর ব্যানারে স্থানীয় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি চত্ত্বরে আয়োজিত মানববন্ধন চলাকালে এক সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়। রাজবাড়ী জেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি ও এটিএন বাংলার জেলা প্রতিনিধি লিটন চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে বক্তৃতা করেন জেলা টেলিভিশন সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস বাবু, সিটিজেন টাইমস এর জেলা প্রতিনিধি শামীমা আক্তার মুনমুন, কালের কণ্ঠের গোয়ালন্দ প্রতিনিধি গণেশ পাল, প্রথম আলোর গোয়ালন্দ প্রতিনিধি রাশেদুল হক রায়হান, বালিয়াকান্দি উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি সনজিৎ দাস, সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, চ্যানেল টুয়েন্টি ফোর এর রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি সুমন বিশ্বাস প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দৈনিক সমকালের রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি সৌমিত্র শীল চন্দন।
বক্তারা অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার এবং গুলিতে স্কুলছাত্র আহত হওয়ার ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পিবিআইতে হস্তান্তর করার জন্য জোর দাবি জানান।
মানববন্ধন শেষে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি পেশ করা হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, রাজবাড়ী ছোট্ট জেলা হলেও শান্তিপ্রিয় জেলা হিসেবে এর পরিচিতি ব্যাপক। এ জেলার প্রশাসন, পুলিশসহ সকল পেশাজীবী মানুষের সাথে সাংবাদিকদের সুসম্পর্ক এক অনন্য দৃষ্টান্ত। পারস্পরিক আন্তরিকতা ও সহযোগিতার কারণেই এই সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি গড়ে উঠেছে। আমরা প্রকৃত ঘটনাকে তুলে ধরে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে সর্বৈবভাবে চেষ্টা করে আসছি। সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের পাশাপাশি সমাজের অসঙ্গতিগুলো তুলে ধরতেও আমরা বদ্ধ পরিকর।
কিন্তু সাম্প্রতিককালে একটি মহল রহস্যজনক কারণে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে বিনষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। যার ধারাবাহিকতায় গত ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং তারিখে রাজবাড়ীর ২ নং আমলী আদালতে দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান ও রাজবাড়ী প্রতিনিধি এজাজ আহম্মেদের বিরুদ্ধে এবং অদ্য ২ জানুয়ারি ২০২০ ইং তারিখে দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোস্তফা কামাল এবং জেলা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।
অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, পাংশা উপজেলার মাছপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নাহিদ হাসান রতন ও সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম কর্তৃক দায়েরকৃত মামলা দুটির এজাহারে বর্ণিত বিবরণীর পুরোটাই অসত্য। আপনার সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, কোনো ঘটনা ঘটনার পর ভুক্তভোগী, প্রত্যক্ষদর্শী, অভিযুক্ত ব্যক্তিসহ সংশ্লিষ্ট সকলের বক্তব্য নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করা হয়। দৈনিক প্রথম আলো ও দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।
২৩ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং তারিখে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত ‘ছাত্রলীগ নেতার গুলিতে স্কুলছাত্র গুরুতর আহত’ শিরোনামে সংবাদটিতে রাজবাড়ী প্রতিনিধি এজাজ আহম্মেদের নিজস্ব কোনো বক্তব্য নেই। ভুক্তভোগী পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, থানা, পুলিশের বক্তব্যের উপর নির্ভর করে রিপোর্টটি করা হয়েছে। নিয়মানুসারে অভিযুক্ত পাংশা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার তাসবীর হাসান সিসিলের বক্তব্য নেয়ার জন্য তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে বারংবার ফোন করা হয়। কিন্তু তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে সিসিলের বাবা মাছপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার সাইফুল ইসলাম বুড়ো, পাংশা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিদুল ইসলাম মারুফের বক্তব্য নেয়া হয়েছে। এবং তাদের বক্তব্য প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ রয়েছে। গত ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং তারিখে দৈনিক কালের কণ্ঠে ‘ছাত্রলীগ নেতার হাত থেকে বাবাকে বাঁচাতে কিশোর গুলিবিদ্ধ’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটিতেও যথারীতি নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে।
এসম্পর্কিত সকল তথ্য প্রমাণ প্রথম আলো প্রতিনিধি এজাজ আহম্মেদ, দৈনিক কালের কণ্ঠ প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর হোসেনসহ জেলার কর্মরত সাংবাদিকদের কাছে সংরক্ষিত আছে।
সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ এবং হয়রানী করার উদ্দেশ্যে এবং প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যেই এ মিথ্যা মামলা করা হয়েছে তা সহজেই অনুমেয়। আমরা অনতিবিলম্বে এই মিথ্যা মামলা দুটি প্রত্যাহারের দাবি জানাই।
এধরনের হয়রানীমূলক মিথ্যা মামলা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অন্তরায় বলে আমরা মনে করি।
একই সাথে আমরা দুঃখের সাথে জানাতে চাই, যাকে ঘিরে এ ঘটনা সেই স্কুলছাত্র আজিম এখনও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। তার বুক থেকে এখনও গুলিটি বের হয়নি বলে পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা গেছে।
আমরা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই, নিরপরাধ, নিষ্পাপ স্কুলছাত্র আজিমকে যে বা যারা গুলি করেছে তার প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন হওয়া দরকার। দোষী ব্যক্তির শাস্তি নিশ্চিত হওয়া জরুরী। একারণে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের জন্য গুলির ঘটনায় গত ২৩ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং তারিখে পাংশা থানায় যে মামলা হয়েছে সেই মামলাটি পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) হস্তান্তরের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।
প্রসঙ্গত, পাংশা উপজেলার মাছপাড়া ইউনিয়নের সুলতান মোড় এলাকায় গত ২১ ডিসেম্বর তারিখে সন্ত্রাসীদের গুলিতে স্কুলছাত্র আজিম গুরুতর আহত হয়। এ সম্পর্কিত সংবাদ প্রকাশের জের ধরে মাছপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম গতকাল কালের কণ্ঠের সম্পাদক, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও জেলা প্রতিনিধির বিরুদ্ধে এবং গত ৩১ ডিসেম্বর তারিখে মাছপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নাহিদ হাসান রতন প্রথম আলোর সম্পাদক ও জেলা প্রতিনিধির বিরুদ্ধে মামলা করেন।