Dhaka ০৯:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অনন্য মেধাবী অনুছোয়া আপন: লক্ষ্য তার আকাশ ছোয়া

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : ০৭:২৫:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ নভেম্বর ২০১৯
  • / ১৯৪৯ জন সংবাদটি পড়েছেন

জনতার আদালত অনলাইন ॥
পুরো আলমিরা ভর্তি ক্রেস্ট ও পুরষ্কার থরে থরে সাজানো। অনুছোয়া আপনের মেধা মননের সাফল্যের স্বীকৃতি এসব। যা দেখলেই ভরে ওঠে মনটা। পড়াশোনা আর সঙ্গীতে সমান পারদর্শী অনুছোয়া আপনকে চৌকষ মেধাবী বলা যেতেই পারে। রাজবাড়ী সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে গোল্ডেন জিপিএ পেয়ে পাশ করার পর ভর্তি পরীক্ষায় ফলাফলে দেখিয়েছে চমক। তার স্বপ্ন আকাশছোয়ার। চিকিৎসক হয়ে মানুষকে সেবা দেয়ার। অনুছোয়া আপন রাজবাড়ী শহরের বিনোদপুর গ্রামের বাসিন্দা শহরের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী দিদারুল হক হিরু ও গৃহবধূ সেলিনা হকের মেয়ে। জীবনে কখনও দ্বিতীয় হয়নি আপন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর যেখানে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছে সেখানেই সুযোগ পেয়েছে। তবে সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেডিকেলে পড়বে।
প্রাথমিকে পড়াশোনা করেছে রাজবাড়ী বাজার পাঠশালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পঞ্চম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়াতে খুশী হয়েছিলেন বাবা মা। কিন্তু চমকতো সামনে আরও বাকী। মাধ্যমিকে রাজবাড়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়ার পর বাবা মায়ের প্রত্যাশা আরও বেড়ে যায়। প্রত্যাশার অধিক কিছু পুরণ করেছে এসএসসি ও এইচএসসিতে। এ দুটি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ পেয়ে বাবা মায়ের মুখ উজ্জ্বল করেছে আপন।
ভর্তি পরীক্ষা যেন জীবনের কঠিনতম এক অধ্যায়। আশা নিরাশার দোলাচলে থাকতে হয়। কিছুটা টেনশনও যেন অনুভব হয়। যেখানে সবার আশা পূরণ হয়না। একারণে অনেকেই একাধিক ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। আপনও নিয়েছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এ এবং ডি ইউনিটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ইউনিটে, আর্মি ফোর্স মেডিকেল এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে। সবাইকে অবাক করে দিয়ে প্রতিটিতে সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ আপন সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার।
পড়াশোনার পাশাপাশি চমৎকার গানও করে আপন। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ বেতারের রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক প্রতিটি অনুষ্ঠানে প্রথম স্থানটা যেন তার জন্যই বরাদ্দ। কোথায় নেই আপন। ২০১৯ সালে রাজবাড়ী সরকারি কলেজের বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিকায় নজরুলগীতি ও আধুনিক গানে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। ২০১৮ সালে কলেজের শিক্ষা সপ্তাহের অনুষ্ঠানে নজরুল গীতি, রবীন্দ্র সঙ্গীত এবং উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে শ্রেষ্ঠ হয়েছে। একই সালে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে উচাঙ্গ এবং নজরুল গীতিতে রাজবাড়ী জেলার সেরা হয়েছে। ওই বছরেই উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে জেলার সেরা শিক্ষার্থীর সম্মান অর্জন করেছে আপন।
একান্ত আলাপচারিতায় অনুছোয়া আপন জানালো তার সাফল্যের পেছনের কথা। বলল স্বপ্নের কথাও। অনুছোয়া আপন বলেন, বাবা মায়ের উৎসাহ প্রেরণা আর শিক্ষকদের সহযোগিতায় আমি এ পর্যায়ে এসেছি। ভালো কিছু করার জন্য মনের মধ্যে ইচ্ছে থাকতে হবে। নিজেকে সর্বোচ্চ জায়গায় নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতে হবে। থাকতে হবে ইচ্ছা শক্তি। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীর নগরের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েও মেডিকেলে পড়ার কেন ইচ্ছা হলো এমন প্রশ্নের জবাবে আপনের উত্তর; চিকিৎসা পেশায় থেকে মানুষকে সেবা করা সহজ। আমি চিকিৎসক হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। সুচিকিৎসক হতে চাই। যাতে বিনা চিকিৎসায় কেউ মারা না যায়।
পড়াশোনার পাশাপাশি সঙ্গীত চর্চাকে সমান গুরুত্ব দিয়েছি এবং দেব। আগামীতেও আমার সঙ্গীত চর্চা অব্যাহত থাকবে।
আপনের বাবা দিদারুল হক হিরু বলেন, সন্তানের সাফল্যে সকল বাবা মাই গর্ব অনুভব করে। আমিও আমার মেয়েকে নিয়ে গর্বিত। সৃষ্টিকর্তার কৃপা আর সকলের দোয়া চাই আপনের জন্য। যেন তার ইচ্ছা পূরণ হয়।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

অনন্য মেধাবী অনুছোয়া আপন: লক্ষ্য তার আকাশ ছোয়া

প্রকাশের সময় : ০৭:২৫:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ নভেম্বর ২০১৯

জনতার আদালত অনলাইন ॥
পুরো আলমিরা ভর্তি ক্রেস্ট ও পুরষ্কার থরে থরে সাজানো। অনুছোয়া আপনের মেধা মননের সাফল্যের স্বীকৃতি এসব। যা দেখলেই ভরে ওঠে মনটা। পড়াশোনা আর সঙ্গীতে সমান পারদর্শী অনুছোয়া আপনকে চৌকষ মেধাবী বলা যেতেই পারে। রাজবাড়ী সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে গোল্ডেন জিপিএ পেয়ে পাশ করার পর ভর্তি পরীক্ষায় ফলাফলে দেখিয়েছে চমক। তার স্বপ্ন আকাশছোয়ার। চিকিৎসক হয়ে মানুষকে সেবা দেয়ার। অনুছোয়া আপন রাজবাড়ী শহরের বিনোদপুর গ্রামের বাসিন্দা শহরের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী দিদারুল হক হিরু ও গৃহবধূ সেলিনা হকের মেয়ে। জীবনে কখনও দ্বিতীয় হয়নি আপন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর যেখানে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছে সেখানেই সুযোগ পেয়েছে। তবে সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেডিকেলে পড়বে।
প্রাথমিকে পড়াশোনা করেছে রাজবাড়ী বাজার পাঠশালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পঞ্চম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়াতে খুশী হয়েছিলেন বাবা মা। কিন্তু চমকতো সামনে আরও বাকী। মাধ্যমিকে রাজবাড়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়ার পর বাবা মায়ের প্রত্যাশা আরও বেড়ে যায়। প্রত্যাশার অধিক কিছু পুরণ করেছে এসএসসি ও এইচএসসিতে। এ দুটি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ পেয়ে বাবা মায়ের মুখ উজ্জ্বল করেছে আপন।
ভর্তি পরীক্ষা যেন জীবনের কঠিনতম এক অধ্যায়। আশা নিরাশার দোলাচলে থাকতে হয়। কিছুটা টেনশনও যেন অনুভব হয়। যেখানে সবার আশা পূরণ হয়না। একারণে অনেকেই একাধিক ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। আপনও নিয়েছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এ এবং ডি ইউনিটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ইউনিটে, আর্মি ফোর্স মেডিকেল এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে। সবাইকে অবাক করে দিয়ে প্রতিটিতে সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ আপন সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার।
পড়াশোনার পাশাপাশি চমৎকার গানও করে আপন। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ বেতারের রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক প্রতিটি অনুষ্ঠানে প্রথম স্থানটা যেন তার জন্যই বরাদ্দ। কোথায় নেই আপন। ২০১৯ সালে রাজবাড়ী সরকারি কলেজের বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিকায় নজরুলগীতি ও আধুনিক গানে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। ২০১৮ সালে কলেজের শিক্ষা সপ্তাহের অনুষ্ঠানে নজরুল গীতি, রবীন্দ্র সঙ্গীত এবং উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে শ্রেষ্ঠ হয়েছে। একই সালে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে উচাঙ্গ এবং নজরুল গীতিতে রাজবাড়ী জেলার সেরা হয়েছে। ওই বছরেই উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে জেলার সেরা শিক্ষার্থীর সম্মান অর্জন করেছে আপন।
একান্ত আলাপচারিতায় অনুছোয়া আপন জানালো তার সাফল্যের পেছনের কথা। বলল স্বপ্নের কথাও। অনুছোয়া আপন বলেন, বাবা মায়ের উৎসাহ প্রেরণা আর শিক্ষকদের সহযোগিতায় আমি এ পর্যায়ে এসেছি। ভালো কিছু করার জন্য মনের মধ্যে ইচ্ছে থাকতে হবে। নিজেকে সর্বোচ্চ জায়গায় নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতে হবে। থাকতে হবে ইচ্ছা শক্তি। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীর নগরের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েও মেডিকেলে পড়ার কেন ইচ্ছা হলো এমন প্রশ্নের জবাবে আপনের উত্তর; চিকিৎসা পেশায় থেকে মানুষকে সেবা করা সহজ। আমি চিকিৎসক হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। সুচিকিৎসক হতে চাই। যাতে বিনা চিকিৎসায় কেউ মারা না যায়।
পড়াশোনার পাশাপাশি সঙ্গীত চর্চাকে সমান গুরুত্ব দিয়েছি এবং দেব। আগামীতেও আমার সঙ্গীত চর্চা অব্যাহত থাকবে।
আপনের বাবা দিদারুল হক হিরু বলেন, সন্তানের সাফল্যে সকল বাবা মাই গর্ব অনুভব করে। আমিও আমার মেয়েকে নিয়ে গর্বিত। সৃষ্টিকর্তার কৃপা আর সকলের দোয়া চাই আপনের জন্য। যেন তার ইচ্ছা পূরণ হয়।