Dhaka ১০:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বালিয়াকান্দিতে শতবর্ষী পুকুরে ময়লার স্তুপ

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : ০৬:৩৪:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯
  • / ১৪৬৯ জন সংবাদটি পড়েছেন


জনতার আদালত অনলাইন ॥ রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর হাট বাজারের ময়লা আবর্জনা দিয়ে ভরাট হয়ে যাচ্ছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী পুকুরটি। বাজারের কাছে একমাত্র পানির উৎস ছিল যে পুকুরটি।
জানা গেছে, বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর একটি ঐতিহ্যবাহী হাট-বাজার। এ বাজারে রয়েছে হাজারের বেশি স্থায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দু‘টি উচ্চ বিদ্যালয়, তিনটি কিন্ডার গার্টেন, একটি এতিমখানা মাদ্রাসাসহ শিক্ষামুলক বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান। বাজার এলাকার ইউনিয়ন ভূমি অফিস সংলগ্ন ভূমি অফিসের একটি বড় পুকুর। ওই পুকুরে জমির পরিমান ৭৪ শতাংশ। এখানে মসজিদের মুসল্লিগন ওযু গোসল করতো, হাটে আসা দূর-দুরান্তের ব্যবসায়ীরা এ পুকুরের পানিতে গোসল করতো। সে জন্য এ পুকুরটির গুরুত্ব ছিল অনেক। কখনো এ বাজারে অগ্নিকান্ড সংঘঠিত হলে পুকুরটি ছিল পানি সরবরাহের একমাত্র ভরসা। পুকুরের পানি দিয়ে অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা করা হতো। পুকুরটির এক পাশে বর্তমানে একটি এতিমখানা মাদ্রাসা, একদিকে বহরপুর বাজার মসজিদ অপর পাশে পোষ্ট অফিস এবং ভূমি অফিস অবস্থিত অবস্থিত। যদিও পুকুরটি ভুমি অফিসের তত্বাবধানে সরকারি সম্পত্তি। প্রতিনিয়ত পুকুরে হাট-বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়। ধীরে ধীরে পুকুরটি ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। বাজারের যত বর্জ্য প্রতিনিয়ত এ পুকুরে ফেলা হচ্ছে। পুকুরটি এখন যেন বহরপুর বাজারের ডাষ্টবিন। অপরদিকে কিছু অসাধু লোকজন এ পুকুরের বেশ কিছু জায়গা দখল করে নিয়েছে। যখন এটির প্রাণ ছিল দুই পাড়ে মনোরম সানবাঁধানো ঘাট ছিল। সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধী আশপাশের বসবাসকারী ও বাজারের ব্যবসায়ীদের অনেকেই এ পুকুরে গোসল করা সহ সাঁতার কাটতো।
বহরপুর বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ী ও এলাকার জনসাধারণ অভিযোগের সুরে বলেন, যখনই বহরপুর বাজারে কোন অগ্নিকান্ড ঘটে সরকারী বেসরকারী কর্মকর্তাগণ পরিদর্শনে আসেন এবং পুকুরটির গুরুত্ব বিবেচনা করে খননের প্রতিশ্রতি দেন কিন্তু অদৃশ্য কারনে খনন করা হয় না। বাজার ব্যবসায়ী ও এলাকা বাসির দাবি জরুরী ভিত্তিতে যেন পুকুরটি খনন করে শত বছরের ঐতিহ্য রক্ষা করা হয়।
উপজেলা মৎস্য অফিসার ( অ.দা.) রবিউল হক বলেন, পুকুরে মাছ চাষের জন্য এ বছরও মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। যদি পুকুরে ময়লা ফেলা হয় এটা দুঃখজনক। এলাকার মানুষকেই সবার আগে সচেতন হতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইশরাত জাহান বলেন, সরকারী পুকুরে ময়লা ফেলানোর বিষয়ে আমি অবগত নই। খোঁজ নিয়ে দেখছি। বাজার ব্যবসায়ী সমিতিকে বলছি যাতে পুকুরে কোন ময়লা না ফেলানো হয়।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

বালিয়াকান্দিতে শতবর্ষী পুকুরে ময়লার স্তুপ

প্রকাশের সময় : ০৬:৩৪:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯


জনতার আদালত অনলাইন ॥ রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর হাট বাজারের ময়লা আবর্জনা দিয়ে ভরাট হয়ে যাচ্ছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী পুকুরটি। বাজারের কাছে একমাত্র পানির উৎস ছিল যে পুকুরটি।
জানা গেছে, বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর একটি ঐতিহ্যবাহী হাট-বাজার। এ বাজারে রয়েছে হাজারের বেশি স্থায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দু‘টি উচ্চ বিদ্যালয়, তিনটি কিন্ডার গার্টেন, একটি এতিমখানা মাদ্রাসাসহ শিক্ষামুলক বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান। বাজার এলাকার ইউনিয়ন ভূমি অফিস সংলগ্ন ভূমি অফিসের একটি বড় পুকুর। ওই পুকুরে জমির পরিমান ৭৪ শতাংশ। এখানে মসজিদের মুসল্লিগন ওযু গোসল করতো, হাটে আসা দূর-দুরান্তের ব্যবসায়ীরা এ পুকুরের পানিতে গোসল করতো। সে জন্য এ পুকুরটির গুরুত্ব ছিল অনেক। কখনো এ বাজারে অগ্নিকান্ড সংঘঠিত হলে পুকুরটি ছিল পানি সরবরাহের একমাত্র ভরসা। পুকুরের পানি দিয়ে অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা করা হতো। পুকুরটির এক পাশে বর্তমানে একটি এতিমখানা মাদ্রাসা, একদিকে বহরপুর বাজার মসজিদ অপর পাশে পোষ্ট অফিস এবং ভূমি অফিস অবস্থিত অবস্থিত। যদিও পুকুরটি ভুমি অফিসের তত্বাবধানে সরকারি সম্পত্তি। প্রতিনিয়ত পুকুরে হাট-বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়। ধীরে ধীরে পুকুরটি ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। বাজারের যত বর্জ্য প্রতিনিয়ত এ পুকুরে ফেলা হচ্ছে। পুকুরটি এখন যেন বহরপুর বাজারের ডাষ্টবিন। অপরদিকে কিছু অসাধু লোকজন এ পুকুরের বেশ কিছু জায়গা দখল করে নিয়েছে। যখন এটির প্রাণ ছিল দুই পাড়ে মনোরম সানবাঁধানো ঘাট ছিল। সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধী আশপাশের বসবাসকারী ও বাজারের ব্যবসায়ীদের অনেকেই এ পুকুরে গোসল করা সহ সাঁতার কাটতো।
বহরপুর বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ী ও এলাকার জনসাধারণ অভিযোগের সুরে বলেন, যখনই বহরপুর বাজারে কোন অগ্নিকান্ড ঘটে সরকারী বেসরকারী কর্মকর্তাগণ পরিদর্শনে আসেন এবং পুকুরটির গুরুত্ব বিবেচনা করে খননের প্রতিশ্রতি দেন কিন্তু অদৃশ্য কারনে খনন করা হয় না। বাজার ব্যবসায়ী ও এলাকা বাসির দাবি জরুরী ভিত্তিতে যেন পুকুরটি খনন করে শত বছরের ঐতিহ্য রক্ষা করা হয়।
উপজেলা মৎস্য অফিসার ( অ.দা.) রবিউল হক বলেন, পুকুরে মাছ চাষের জন্য এ বছরও মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। যদি পুকুরে ময়লা ফেলা হয় এটা দুঃখজনক। এলাকার মানুষকেই সবার আগে সচেতন হতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইশরাত জাহান বলেন, সরকারী পুকুরে ময়লা ফেলানোর বিষয়ে আমি অবগত নই। খোঁজ নিয়ে দেখছি। বাজার ব্যবসায়ী সমিতিকে বলছি যাতে পুকুরে কোন ময়লা না ফেলানো হয়।