Dhaka ০৭:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন জনপদ গোয়ালন্দের পূর্ব উজানচর

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৫৮:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০১৯
  • / ১৫২৪ জন সংবাদটি পড়েছেন


জনতার আদালত অনলাইন ॥ ‘যেই কয় দিন আমাগেরে এহানে এক-আধ ঘন্টায় পুলিশ আহনের কায়দা না অইব, হেই কয়দিন ওনাগো (সন্ত্রাসী) বাপ কইয়া আতপাউ ধইরেই বাস করতে অইবো। মরনের ভয় হগলতেরই আছে। ওনাগো সুমকি কতা কইব কেডা’ এভাবে কথা গুলো বলছিল পূর্ব উজানচর মহিদাপুর চরের বাসিন্দা কাবুল গাজী।
পদ্মা নদী বিধৌত বিস্তৃত এক জনপদ গোয়ালন্দের পূর্ব উজানচর। এ জনপদের মানুষ এখনো রাস্তা-ঘাট বিহীন অবস্থায় সীমাহীন দুর্ভোগের মধ্যে চলাচল করেন। দুর্গম এই চরে যে কোন ঘটনা ঘটলেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ঘটনাস্থলে পৌছাতে অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়ে। বর্ষায় নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে মাইলের পর মাইল আবাদী জমির ধার দিয়ে ওই চরাঞ্চলে পৌছাতে হয়।
সরেজমিন জানা গেছে, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বিশাল একটি ইউনিয়ন ৪নং উজানচর। এ ইউনিয়নের পূর্বাংশে পদ্মা নদী বিধৌত চর মহিদাপুর, চর মজলিশপুর, চর কাশিমপুর ও চর কর্ণেশনা মিলে বিশাল একটি অঞ্চল। দীর্ঘদিন এ চর অনেকটা ফাঁকা থাকলেও গত ৮-১০ বছরে গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম অঞ্চলে ব্যাপক নদী ভাঙনের শিকার হয়ে বহু মানুষ ওই চরে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে বর্তমানে এই এলাকায় প্রায় ৫ হাজারের অধিক মানুষের বসতি রয়েছে। গোয়ালন্দ শহর থেকে প্রায় ১০ কিমি দুরে অবস্থিত এ জনপদ। পায়ে হাটার পাশাপাশি দু’চারটে ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেলই এখানে যাতায়াতের মাধ্যম। কিন্তু বর্ষাকালের কয়েকটির মাস নৌকাই একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠে।
স্থানীয় বাসিন্দা রাজ্জাক মৃধা, শফি মৃধা, রহমত শেখ, দাউদ শেখ, দুলাল শেখসহ অনেকেই জানান, এ এলাকায় প্রায় ৫ হাজার মানুষের বসতি রয়েছে। এদের বেশীর ভাগই নদী ভাঙনের শিকার ভূমিহীন। অন্যের জমিতে বাৎসরিক চুক্তিতে বসবাস করেন। শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় এ এলাকাতে পল্লী বিদ্যুত এসেছে। একটি সরকারি প্রাইমারি স্কুল ও একটি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু মাধ্যমিক স্কুল-কলেজ পড়–য়া ছেলে-মেয়েদের নিয়মিত দুরের প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত, অসুস্থ্য রোগীদের শহরের হাসপাতালে নেয়া, কৃষিপণ্যসহ অন্যান্য মালামাল পরিবহন করতে সারা বছর তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দুর্গম এলাকা বলে সর্বদা আমরা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে থাকি। যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের কারণে এলাকায় সহজে পুলিশ আসতে পারে না। দৌলতদিয়া অংশ থেকে মহিদাপুর পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ এবং মরা পদ্মার ক্যানেলে একটি ব্রীজ নির্মাণ করা হলে চরবাসীর এ দুর্ভোগ দুর হতো। আমরা বহুবার এটা করে দেয়ার আশ্বাস পেয়েছি। কিন্তু আজও বাস্তবায়ন হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু সাইদ মন্ডল জানান, এ চরের বিশাল এলাকায় রাস্তা-ঘাট করতে বিশেষ বরাদ্দ লাগবে। এ জন্য এলাকার চেয়ারম্যানকে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন জায়গায় চেষ্টা-তদবির করতে হবে।
উজানচর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন ফকির জানান, এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে না এটা ঠিক নয়। ওই চরে যাওয়ার বিশাল রাস্তা ও একটি ব্রীজ আজও করা হয়নি এটা সঠিক। এর জন্য আমরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি। আশা করি দ্রুত বরাদ্দ পেয়ে কাজ করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবায়েত হায়াত শিপলু জানান, মহিদাপুর চরে ভূমিহীনদের জন্য সরকারীভাবে একটি আশ্রায়ন কেন্দ্র তৈরি করতে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বন্যাযুক্ত ঐ এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করার বিষয়টিও আমাদের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন জনপদ গোয়ালন্দের পূর্ব উজানচর

প্রকাশের সময় : ০৮:৫৮:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০১৯


জনতার আদালত অনলাইন ॥ ‘যেই কয় দিন আমাগেরে এহানে এক-আধ ঘন্টায় পুলিশ আহনের কায়দা না অইব, হেই কয়দিন ওনাগো (সন্ত্রাসী) বাপ কইয়া আতপাউ ধইরেই বাস করতে অইবো। মরনের ভয় হগলতেরই আছে। ওনাগো সুমকি কতা কইব কেডা’ এভাবে কথা গুলো বলছিল পূর্ব উজানচর মহিদাপুর চরের বাসিন্দা কাবুল গাজী।
পদ্মা নদী বিধৌত বিস্তৃত এক জনপদ গোয়ালন্দের পূর্ব উজানচর। এ জনপদের মানুষ এখনো রাস্তা-ঘাট বিহীন অবস্থায় সীমাহীন দুর্ভোগের মধ্যে চলাচল করেন। দুর্গম এই চরে যে কোন ঘটনা ঘটলেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ঘটনাস্থলে পৌছাতে অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়ে। বর্ষায় নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে মাইলের পর মাইল আবাদী জমির ধার দিয়ে ওই চরাঞ্চলে পৌছাতে হয়।
সরেজমিন জানা গেছে, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বিশাল একটি ইউনিয়ন ৪নং উজানচর। এ ইউনিয়নের পূর্বাংশে পদ্মা নদী বিধৌত চর মহিদাপুর, চর মজলিশপুর, চর কাশিমপুর ও চর কর্ণেশনা মিলে বিশাল একটি অঞ্চল। দীর্ঘদিন এ চর অনেকটা ফাঁকা থাকলেও গত ৮-১০ বছরে গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম অঞ্চলে ব্যাপক নদী ভাঙনের শিকার হয়ে বহু মানুষ ওই চরে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে বর্তমানে এই এলাকায় প্রায় ৫ হাজারের অধিক মানুষের বসতি রয়েছে। গোয়ালন্দ শহর থেকে প্রায় ১০ কিমি দুরে অবস্থিত এ জনপদ। পায়ে হাটার পাশাপাশি দু’চারটে ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেলই এখানে যাতায়াতের মাধ্যম। কিন্তু বর্ষাকালের কয়েকটির মাস নৌকাই একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠে।
স্থানীয় বাসিন্দা রাজ্জাক মৃধা, শফি মৃধা, রহমত শেখ, দাউদ শেখ, দুলাল শেখসহ অনেকেই জানান, এ এলাকায় প্রায় ৫ হাজার মানুষের বসতি রয়েছে। এদের বেশীর ভাগই নদী ভাঙনের শিকার ভূমিহীন। অন্যের জমিতে বাৎসরিক চুক্তিতে বসবাস করেন। শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় এ এলাকাতে পল্লী বিদ্যুত এসেছে। একটি সরকারি প্রাইমারি স্কুল ও একটি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু মাধ্যমিক স্কুল-কলেজ পড়–য়া ছেলে-মেয়েদের নিয়মিত দুরের প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত, অসুস্থ্য রোগীদের শহরের হাসপাতালে নেয়া, কৃষিপণ্যসহ অন্যান্য মালামাল পরিবহন করতে সারা বছর তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দুর্গম এলাকা বলে সর্বদা আমরা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে থাকি। যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের কারণে এলাকায় সহজে পুলিশ আসতে পারে না। দৌলতদিয়া অংশ থেকে মহিদাপুর পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ এবং মরা পদ্মার ক্যানেলে একটি ব্রীজ নির্মাণ করা হলে চরবাসীর এ দুর্ভোগ দুর হতো। আমরা বহুবার এটা করে দেয়ার আশ্বাস পেয়েছি। কিন্তু আজও বাস্তবায়ন হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু সাইদ মন্ডল জানান, এ চরের বিশাল এলাকায় রাস্তা-ঘাট করতে বিশেষ বরাদ্দ লাগবে। এ জন্য এলাকার চেয়ারম্যানকে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন জায়গায় চেষ্টা-তদবির করতে হবে।
উজানচর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন ফকির জানান, এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে না এটা ঠিক নয়। ওই চরে যাওয়ার বিশাল রাস্তা ও একটি ব্রীজ আজও করা হয়নি এটা সঠিক। এর জন্য আমরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি। আশা করি দ্রুত বরাদ্দ পেয়ে কাজ করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবায়েত হায়াত শিপলু জানান, মহিদাপুর চরে ভূমিহীনদের জন্য সরকারীভাবে একটি আশ্রায়ন কেন্দ্র তৈরি করতে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বন্যাযুক্ত ঐ এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করার বিষয়টিও আমাদের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।