Dhaka ১০:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মহাসড়ক ও নৌরুটে ঈদ যাত্রা নির্বিঘœ করতে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের ব্যাপক প্রস্তুতি

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৪৪:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অগাস্ট ২০১৮
  • / ১৫৮৯ জন সংবাদটি পড়েছেন

জনতার আদালত অনলাইন ॥ দৌলতদিয়াÑপাটুরিয়া নৌরুট সহ সড়ক পথে ঈদযাত্রা নির্বিঘœ করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত এক সভায় ঈদের তিন আগে ও তিন দিন পরে গরুর ট্রাক, জরুরী কাঁচামাল বাহী ও ওষুধের গাড়ী ছাড়া সকল প্রকার ট্রাক পারাপার বন্ধসহ নেয়া হয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মো. শওকত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জানানো হয়, যাত্রীরা যাতে অহেতুক হয়রানীর শিকার না হয় এবং যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করা হয় এজন্য দৌলতদিয়াÑ রাজবাড়ীÑকুষ্টিয়া রুটে চলাচলকারী সব বাসে স্টিকার ও ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন করতে হবে। দৌলতদিয়া ঘাট পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য গঠন করা হবে ভিজিলেন্স টিম। মহাসড়কের উপর ধান, পাট, খড়, স’মিলের কাঠ ও নির্মাণ সামগ্রী অপসারণ করতে হবে। এজন্য প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। খালি ট্রাক এবং বাসের ছাদে কোনোমতেই যাত্রী ওঠানো যাবেনা।
দালালচক্র যাতে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় কৃত্রিম যানজট সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে। যাত্রীদের নির্বিঘœ ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে চাঁদাবাজি, ছিনতাইকারী, দালাল, পকেটমার ও অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম রোধে পুলিশ মনিটরিং বাড়াতে হবে। মহাসড়কে অবৈধ নসিমন, করিমন, ভটভটি চলাচল সম্পূর্ণ রূপে বন্ধ থাকবে।
ঈদের পাঁচদিন আগে থেকে ঈদের পাঁচদিন পর পর্যন্ত যাত্রী বা পরিবহনের অপেক্ষা না করে লঞ্চ ও ফেরিগুলোকে দ্রুত দৌলতদিয়া ঘাটে চলে আসতে হবে। যানবাহন পারাপারে সুবিধার জন্য ২০টি ফেরি ও যাত্রী পারাপারে ৩৩ টি লঞ্চ সার্বক্ষণিক চলাচল করবে। ফেরিতে ওঠানামার সময় এ্যপ্রোচ সড়কে আকস্মিক যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হলে সড়কপথ যাতে বন্ধ হয়ে যানজট সৃষ্টি না হয় সেলক্ষ্যে ফেরিঘাটে সার্বক্ষণিক একটি রেকার রাখারও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
এছাড়া বাংলাদেশ হ্যাচারী থেকে দৌলতদিয়া টার্মিনাল, লঞ্চ ঘাট ও ফেরি ঘাটের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে লাইটিং, যাত্রীদের সুবিধার জন্য একাধিক গণশৌচাগার ও টিউবয়েল স্থাপন করতে হবে।
জেলা প্রশাসক শওকত আলী বলেন, রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, গেয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সার্বিক ঘাট ব্যবস্থাপনা মনিটরিং করবেন। এছাড়া ভ্রম্যমাণ আদালতের একটি টিম সার্বক্ষণিক ঘাট এলাকায় অবস্থান করবেন। আমরা আশা করছি সকলের সহযোগিতায় পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘœ ও নিরাপদ হবে।
সভায় অন্যদের মাঝে বক্তৃতা করেন রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ছাদিকুর রহমান, রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশেক হাসান, রাজবাড়ী পৌরসভার মেয়র মহম্মদ আলী চৌধুরী প্রমুখ। এসময় জেলা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সকল বিভাগের প্রতিনিধি, বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ, ট্রাফিক, নৌপুলিশ, লঞ্চ মালিক, সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা, পরিবহন মালিক গ্রুপের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

মহাসড়ক ও নৌরুটে ঈদ যাত্রা নির্বিঘœ করতে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের ব্যাপক প্রস্তুতি

প্রকাশের সময় : ০৯:৪৪:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অগাস্ট ২০১৮

জনতার আদালত অনলাইন ॥ দৌলতদিয়াÑপাটুরিয়া নৌরুট সহ সড়ক পথে ঈদযাত্রা নির্বিঘœ করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত এক সভায় ঈদের তিন আগে ও তিন দিন পরে গরুর ট্রাক, জরুরী কাঁচামাল বাহী ও ওষুধের গাড়ী ছাড়া সকল প্রকার ট্রাক পারাপার বন্ধসহ নেয়া হয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মো. শওকত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জানানো হয়, যাত্রীরা যাতে অহেতুক হয়রানীর শিকার না হয় এবং যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করা হয় এজন্য দৌলতদিয়াÑ রাজবাড়ীÑকুষ্টিয়া রুটে চলাচলকারী সব বাসে স্টিকার ও ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন করতে হবে। দৌলতদিয়া ঘাট পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য গঠন করা হবে ভিজিলেন্স টিম। মহাসড়কের উপর ধান, পাট, খড়, স’মিলের কাঠ ও নির্মাণ সামগ্রী অপসারণ করতে হবে। এজন্য প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। খালি ট্রাক এবং বাসের ছাদে কোনোমতেই যাত্রী ওঠানো যাবেনা।
দালালচক্র যাতে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় কৃত্রিম যানজট সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে। যাত্রীদের নির্বিঘœ ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে চাঁদাবাজি, ছিনতাইকারী, দালাল, পকেটমার ও অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম রোধে পুলিশ মনিটরিং বাড়াতে হবে। মহাসড়কে অবৈধ নসিমন, করিমন, ভটভটি চলাচল সম্পূর্ণ রূপে বন্ধ থাকবে।
ঈদের পাঁচদিন আগে থেকে ঈদের পাঁচদিন পর পর্যন্ত যাত্রী বা পরিবহনের অপেক্ষা না করে লঞ্চ ও ফেরিগুলোকে দ্রুত দৌলতদিয়া ঘাটে চলে আসতে হবে। যানবাহন পারাপারে সুবিধার জন্য ২০টি ফেরি ও যাত্রী পারাপারে ৩৩ টি লঞ্চ সার্বক্ষণিক চলাচল করবে। ফেরিতে ওঠানামার সময় এ্যপ্রোচ সড়কে আকস্মিক যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হলে সড়কপথ যাতে বন্ধ হয়ে যানজট সৃষ্টি না হয় সেলক্ষ্যে ফেরিঘাটে সার্বক্ষণিক একটি রেকার রাখারও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
এছাড়া বাংলাদেশ হ্যাচারী থেকে দৌলতদিয়া টার্মিনাল, লঞ্চ ঘাট ও ফেরি ঘাটের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে লাইটিং, যাত্রীদের সুবিধার জন্য একাধিক গণশৌচাগার ও টিউবয়েল স্থাপন করতে হবে।
জেলা প্রশাসক শওকত আলী বলেন, রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, গেয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সার্বিক ঘাট ব্যবস্থাপনা মনিটরিং করবেন। এছাড়া ভ্রম্যমাণ আদালতের একটি টিম সার্বক্ষণিক ঘাট এলাকায় অবস্থান করবেন। আমরা আশা করছি সকলের সহযোগিতায় পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘœ ও নিরাপদ হবে।
সভায় অন্যদের মাঝে বক্তৃতা করেন রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ছাদিকুর রহমান, রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশেক হাসান, রাজবাড়ী পৌরসভার মেয়র মহম্মদ আলী চৌধুরী প্রমুখ। এসময় জেলা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সকল বিভাগের প্রতিনিধি, বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ, ট্রাফিক, নৌপুলিশ, লঞ্চ মালিক, সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা, পরিবহন মালিক গ্রুপের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।