Dhaka ০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রাজবাড়ীর কালুখালীতে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেফতার ১

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : ০৬:৩৮:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ মে ২০১৭
  • / ১৭২৫ জন সংবাদটি পড়েছেন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পূর্ব শত্রুতার জের ধরে রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামে আমজাদ হোসেন (২৯) নামে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সে একই গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে। লিয়াকত আলীও দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছেন। তিনি পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী জেসমিন বেগম বৃহস্পতিবার পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে কালুখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামিরা হলো ইসমাইল বিশ^াস, সুমন শেখ, মিজু মোল্লা, জাহাঙ্গীর হোসেন ও হায়দার আলী। এদের সবার বাড়ি একই গ্রামে। পুলিশ এ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে আবজাল হোসেন নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে। নিহত আমজাদ জমি কেনাবেচার ব্যবসা করতেন বলে জানা গেছে। জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।  রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার সালমা বেগম পিপিএম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, রাত ৯টার দিকে বাড়িতে ফিরে আমজাদ নলকূপে হাত-মুখ ধৌত করছিল। এসময় একদল দুর্বৃত্ত তাদের বাড়িতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাথারি কোপাতে থাকে। এসময় তার বাবা লিয়াকত আলী ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে দুর্বৃত্তরা তাকেও কুপিয়ে জখম করে। পরে স্বজনরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাবা ও ছেলেকে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমজাদ হোসেনের মৃত্যু হয়। বাবা লিয়াকত আলী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এদিকে নিহত আমজাদের বাড়িতে চলছে মাতম। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আমজাদের মা, স্ত্রী, বোনসহ পরিবারের সদস্যরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে আহাজারি করছে। তাদের গগন বিদারী চিৎকারে  বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। স্বজনরা জানান, মামলার দুই নম্বর আসামি সুমনের বাবা মোহাম্মদ আলম বিদেশ পাঠানোর নাম করে আমজাদের মামা শহীদুলের কাছ থেকে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা নেন। কিন্তু আলম তাকে বিদেশ পাঠাতে পারেনি। এই ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন আমজাদ। এঘটনার কারণে আমজাদকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা তাদের।
কালুখালী থানার এসআই মোহাম্মদ কোবাদ হোসেন জানান, এ ঘটনায় পুলিশ সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেফতার করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নিহতের লাশের ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী মর্গে পাঠানো হয়েছে। জমিজমা সংক্রান্ত অথবা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা পুলিশের

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

রাজবাড়ীর কালুখালীতে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেফতার ১

প্রকাশের সময় : ০৬:৩৮:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ মে ২০১৭

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পূর্ব শত্রুতার জের ধরে রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামে আমজাদ হোসেন (২৯) নামে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সে একই গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে। লিয়াকত আলীও দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছেন। তিনি পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী জেসমিন বেগম বৃহস্পতিবার পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে কালুখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামিরা হলো ইসমাইল বিশ^াস, সুমন শেখ, মিজু মোল্লা, জাহাঙ্গীর হোসেন ও হায়দার আলী। এদের সবার বাড়ি একই গ্রামে। পুলিশ এ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে আবজাল হোসেন নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে। নিহত আমজাদ জমি কেনাবেচার ব্যবসা করতেন বলে জানা গেছে। জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।  রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার সালমা বেগম পিপিএম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, রাত ৯টার দিকে বাড়িতে ফিরে আমজাদ নলকূপে হাত-মুখ ধৌত করছিল। এসময় একদল দুর্বৃত্ত তাদের বাড়িতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাথারি কোপাতে থাকে। এসময় তার বাবা লিয়াকত আলী ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে দুর্বৃত্তরা তাকেও কুপিয়ে জখম করে। পরে স্বজনরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাবা ও ছেলেকে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমজাদ হোসেনের মৃত্যু হয়। বাবা লিয়াকত আলী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এদিকে নিহত আমজাদের বাড়িতে চলছে মাতম। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আমজাদের মা, স্ত্রী, বোনসহ পরিবারের সদস্যরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে আহাজারি করছে। তাদের গগন বিদারী চিৎকারে  বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। স্বজনরা জানান, মামলার দুই নম্বর আসামি সুমনের বাবা মোহাম্মদ আলম বিদেশ পাঠানোর নাম করে আমজাদের মামা শহীদুলের কাছ থেকে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা নেন। কিন্তু আলম তাকে বিদেশ পাঠাতে পারেনি। এই ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন আমজাদ। এঘটনার কারণে আমজাদকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা তাদের।
কালুখালী থানার এসআই মোহাম্মদ কোবাদ হোসেন জানান, এ ঘটনায় পুলিশ সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেফতার করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নিহতের লাশের ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী মর্গে পাঠানো হয়েছে। জমিজমা সংক্রান্ত অথবা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা পুলিশের