Dhaka ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

‘তেল সরবরাহ না থাকায় রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস বন্ধ’

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : ০৮:১৫:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০১৭
  • / ১৭৩১ জন সংবাদটি পড়েছেন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ তেলের টাকা বকেয়া থাকায় পেট্রোল পাম্প থেকে তেল সরবরাহ না করায় রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের অ্যম্বুলেন্স সার্ভিস বন্ধ হয়ে গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. রহিম বক্স। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর সংগঠন সচেতন নাগরিক কমিটি রাজবাড়ী জেলা শাখা এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
সিভিল সার্জন ডা. রহিম বক্স বলেন, রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের নানা সীমাবদ্ধতার পরও ধাপে ধাপে উন্নতি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ২০০৩ সাল থেকে এ হাসপাতালে জরুরী বিভাগের জন্য ডাক্তারের পোস্ট নেই। তা সত্ত্বেও আমরা চেষ্টা করি সার্বক্ষণিক একজন ডাক্তার নিয়োজিত রাখতে। স্থানীয় কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী বিনা বেতনে কাজ করছে হাসপাতালে। বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ কার্ডিওলজি, চক্ষুজ, ইএনটি কনসালটেন্ট পদ শূন্য রয়েছে। জনবলও সংকট রয়েছে অনেক। তারপরও আমরা চেষ্টা করি জনগণকে  সেবা দেয়ার জন্য। হাসপাতালে চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হয়ে থাকে। এখন থেকে প্রতিদিন ওষুধের তালিক হালনাগত করা হবে। ডাক্তার/ নার্স/ কর্মচারীদের ডিউটি রোস্টার, ডাক্তারের সাথে রোগীদের সাক্ষাতের সময়সূচি, ডাক্তারের সাথে এমআরদের সময়সূচি, দর্শনার্থীদের সময়সূচি দৃশ্যমান স্থানে স্থাপন করা হবে। জনবলের অভাবে  তথ্য কেন্দ্র/ হেলপ ডেস্ক স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। নারী সেবা বিষযক আলাদা চার্ট করার প্রতিশ্রুতি দেন।  তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে বাহিরে ন্যাশনাল সেনিটেশন প্রজেক্টের আওতায় পাবলিক হেলথ  নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক টয়লেট এর ব্যবস্থা করে দিয়েছে। যে কোন প্যাথলজি টেস্ট এর বিপরীতে মানি রিসিট প্রদান করা হচ্ছে। অনিয়মতান্ত্রিক অর্থ আদায় বন্ধ হয়েছে। অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করলে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন। ৫০ শয্যার হাসপাতাল ১০০ শয্যায় উন্নিত করা হয়েছে। কিন্তু জনবল পূর্বের মতই রয়েছে। অল্প সংখ্যক পরিচ্ছন্ন কর্মীর পক্ষে এত বড় একটি হাসপাতাল পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার রয়েছে। হাসপাতালে নিরাপত্তা রক্ষীও নেই। তাই সেবাগ্রহীতাদের অসন্তুটি থাকাটা স্বাভাবিক। তারপরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সীমিত জনবল নিয়ে মানসম্মত সেবা প্রদান করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ কেরামত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় অন্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন  মো. সাইফুল্লাহ, আবু তাহের, জেমস হালদার, জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ। সভায়  আরও উপস্থিত ছিলেন আরএমও ডা. সুশীল কুমার রায়, ডা. আফিফা সুলতানা,ডা. সারমিন আক্তার মুন্নি,ডা. সেলিনা আক্তার ডাক্তার, অফিস স্টাফ, নার্স, সনাক সদস্য ও ইয়েস সদস্যবৃন্দ।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সুশীল কুমার রায় জানান, পেট্রোল পাম্পে ২৯ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। পেট্রোল পাম্প থেকে তেল সরবরাহ করায় গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অ্যম্বুলেন্স সার্ভিস বন্ধ রয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রতিদিন ওষুধের তালিকা হালনাগাদ করণ, ডাক্তার/নার্স/ কর্মচারীদের ডিউটি রোস্টার, ডাক্তারের সাথে রোগীদের সাক্ষাতের সময়সূচি, ডাক্তারের সাথে এমআরদের সময়সূচি, দর্শনার্থীদের সময়সূচি, তথ্য কেন্দ্র/ হেলপ ডেস্ক স্থাপন, রশিদ ছাড়া টাকা লেনদেন, নারী বিষয়ক সেবার জন্য আলাদা চার্ট তৈরী করা, নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক টয়লেট এর ব্যবস্থা করা, হাসপাতালে ক্রয় কমিটি বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

‘তেল সরবরাহ না থাকায় রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস বন্ধ’

প্রকাশের সময় : ০৮:১৫:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

স্টাফ রিপোর্টার ॥ তেলের টাকা বকেয়া থাকায় পেট্রোল পাম্প থেকে তেল সরবরাহ না করায় রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের অ্যম্বুলেন্স সার্ভিস বন্ধ হয়ে গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. রহিম বক্স। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর সংগঠন সচেতন নাগরিক কমিটি রাজবাড়ী জেলা শাখা এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
সিভিল সার্জন ডা. রহিম বক্স বলেন, রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের নানা সীমাবদ্ধতার পরও ধাপে ধাপে উন্নতি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ২০০৩ সাল থেকে এ হাসপাতালে জরুরী বিভাগের জন্য ডাক্তারের পোস্ট নেই। তা সত্ত্বেও আমরা চেষ্টা করি সার্বক্ষণিক একজন ডাক্তার নিয়োজিত রাখতে। স্থানীয় কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী বিনা বেতনে কাজ করছে হাসপাতালে। বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ কার্ডিওলজি, চক্ষুজ, ইএনটি কনসালটেন্ট পদ শূন্য রয়েছে। জনবলও সংকট রয়েছে অনেক। তারপরও আমরা চেষ্টা করি জনগণকে  সেবা দেয়ার জন্য। হাসপাতালে চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হয়ে থাকে। এখন থেকে প্রতিদিন ওষুধের তালিক হালনাগত করা হবে। ডাক্তার/ নার্স/ কর্মচারীদের ডিউটি রোস্টার, ডাক্তারের সাথে রোগীদের সাক্ষাতের সময়সূচি, ডাক্তারের সাথে এমআরদের সময়সূচি, দর্শনার্থীদের সময়সূচি দৃশ্যমান স্থানে স্থাপন করা হবে। জনবলের অভাবে  তথ্য কেন্দ্র/ হেলপ ডেস্ক স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। নারী সেবা বিষযক আলাদা চার্ট করার প্রতিশ্রুতি দেন।  তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে বাহিরে ন্যাশনাল সেনিটেশন প্রজেক্টের আওতায় পাবলিক হেলথ  নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক টয়লেট এর ব্যবস্থা করে দিয়েছে। যে কোন প্যাথলজি টেস্ট এর বিপরীতে মানি রিসিট প্রদান করা হচ্ছে। অনিয়মতান্ত্রিক অর্থ আদায় বন্ধ হয়েছে। অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করলে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন। ৫০ শয্যার হাসপাতাল ১০০ শয্যায় উন্নিত করা হয়েছে। কিন্তু জনবল পূর্বের মতই রয়েছে। অল্প সংখ্যক পরিচ্ছন্ন কর্মীর পক্ষে এত বড় একটি হাসপাতাল পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার রয়েছে। হাসপাতালে নিরাপত্তা রক্ষীও নেই। তাই সেবাগ্রহীতাদের অসন্তুটি থাকাটা স্বাভাবিক। তারপরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সীমিত জনবল নিয়ে মানসম্মত সেবা প্রদান করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ কেরামত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় অন্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন  মো. সাইফুল্লাহ, আবু তাহের, জেমস হালদার, জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ। সভায়  আরও উপস্থিত ছিলেন আরএমও ডা. সুশীল কুমার রায়, ডা. আফিফা সুলতানা,ডা. সারমিন আক্তার মুন্নি,ডা. সেলিনা আক্তার ডাক্তার, অফিস স্টাফ, নার্স, সনাক সদস্য ও ইয়েস সদস্যবৃন্দ।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সুশীল কুমার রায় জানান, পেট্রোল পাম্পে ২৯ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। পেট্রোল পাম্প থেকে তেল সরবরাহ করায় গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অ্যম্বুলেন্স সার্ভিস বন্ধ রয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রতিদিন ওষুধের তালিকা হালনাগাদ করণ, ডাক্তার/নার্স/ কর্মচারীদের ডিউটি রোস্টার, ডাক্তারের সাথে রোগীদের সাক্ষাতের সময়সূচি, ডাক্তারের সাথে এমআরদের সময়সূচি, দর্শনার্থীদের সময়সূচি, তথ্য কেন্দ্র/ হেলপ ডেস্ক স্থাপন, রশিদ ছাড়া টাকা লেনদেন, নারী বিষয়ক সেবার জন্য আলাদা চার্ট তৈরী করা, নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক টয়লেট এর ব্যবস্থা করা, হাসপাতালে ক্রয় কমিটি বিষয়ে আলোচনা করা হয়।