Dhaka ০৪:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে দ্বন্দ্ব স্পষ্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সরানো হতে পারে? বদলগাছীতে ডিআইজি’র সফর, আইন-শৃঙ্খলা ও সেবার মান উন্নয়নে নির্দেশনা অং সান সুচি ৫ বছর পর কারামুক্ত, থাকবেন গৃহবন্দি যুদ্ধবিরতির সুযোগে লুকানো অস্ত্র বের করছে ইরান, সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র বৃষ্টির বাগড়ায় সরবরাহ কম, বেগুন-কাঁকরোলের দামে সেঞ্চুরি বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা প্রতিবেশী ১১ দেশের সঙ্গে সামরিক মহড়া করছে ভারত, তালিকায় নেই বাংলাদেশ ২২৬ পেরিয়ে যাব, বিজেপি টাকা দিয়ে বুথফেরত সমীক্ষা দেখিয়েছে : মমতা নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ২৮৭ মনোনয়ন, থাকছেন কারা ইতালিতে ছোট ভাইকে হত্যা করে পরিবারকে মরদেহ দেখাল বড় ভাই

২২৬ পেরিয়ে যাব, বিজেপি টাকা দিয়ে বুথফেরত সমীক্ষা দেখিয়েছে : মমতা

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০১:৩১:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
  • / 14

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ‘বুথফেরত সমীক্ষা’ নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল ৩০ এপ্রিল এক ভিডিওবার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ২২৬টির বেশি আসনে জিতবে বলে তিনি নিশ্চিত তিনি।

২৯ তারিখ বুধবার দ্বিতীয় দফা ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর থেকে সংবাদমাধ্যমে বুধফেরত সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। ভিডিওবার্তায় মমতা দাবি করেছেন, বিজেপি টাকা দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে ওই সমীক্ষার ফল দেখাতে বাধ্য করিয়েছে।

বুধবার রাজ্যের দ্বিতীয় দফার নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরেই সন্ধ্যা থেকে বুথফেরত সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। অধিকাংশ সমীক্ষাতেই ইঙ্গিত, বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসছে পশ্চিমবঙ্গে। পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪ আসনের রাজ্য বিধানসভায় সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। অধিকাংশ বুথফেরত সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিজেপি ১৫০ পেরিয়ে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার সেই সমীক্ষা নিয়েই মুখ খুলেছেন মমতা।

ভিডিয়োবার্তায় তিনি রাজ্যের বাসিন্দাদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘‘এত রোদের মধ্যেও, এত অত্যাচার সহ্য করেও আপনারা যে ভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন, তাতে আমরা কৃতজ্ঞ। আমার কর্মীদের কাছেও আমি কৃতজ্ঞ। তারা প্রাণপণ লড়াই করেছে। অনেক অত্যাচার সহ্য করেছে। যারা বাংলাকে জব্দ করতে চেয়েছিলেন, তারা ভোটবাক্সে জব্দ হয়ে গিয়েছেন।”

বুথফেরত সমীক্ষা নিয়ে এর পর মমতা বলেন, ‘‘আমি আপনাদের নিশ্চিন্ত করে বলতে চাই, যেটা টিভিতে দেখাচ্ছে, গতকাল বেলা ১টা ৮ মিনিটে বিজেপির অফিস থেকে সেই সার্কুলার জারি করা হয়েছে। টাকা দিয়ে বলা হয়েছে ওটা দেখাতে। জোর করে সংবাদমাধ্যমকে এটা করতে বাধ্য করা হয়েছে। আমরা ২২৬ (আসন) ক্রস করব। ২৩০-ও পেয়ে যেতে পারি। মানুষ যে ভাবে ভোট দিয়েছেন, আমার পুরো ভরসা রয়েছে।”

ভোটের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং এখানকার পুলিশের বাহিনীর যৌথ অত্যাচার তৃণমূল কর্মীদের সহ্য করতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন মমতা।

তৃণমূল সভানেত্রী আরও বলেন, “বিজেপি তো ইডি, সিবিআই সকলকেই চমকায়। কেন্দ্রীয় বাহিনী যে ব্যবহার গতকাল করেছে, নতুন যে সমস্ত পুলিশ নিযুক্ত হয়েছিলেন, যারা আমার হাতে ছিলেন না, তারা মেয়েদের মেরেছেন। বাচ্চাদের মেরেছেন। উদয়নারায়ণপুরে যে ভদ্রলোক ভোট দিতে গিয়ে মারা গেলেন, তার শোকাহত পরিবারকে সমবেদনা জানানোর ভাষা আমার নেই। ওই পরিবারের পাশে আমরা থাকব।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, তৃণমূলের কর্মীরা একতরফা ভাবে মার খেয়েছেন, তবু এলাকা ছেড়ে যাননি। অনেককে ইচ্ছাকৃত ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছেন। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি কেন্দ্রের নাম উল্লেখ করেন মমতা। বলেন, ‘‘আমাদের কর্মীদের মেরেছে, যাতে তারা এজেন্ট হিসাবে কাজ করতে না-পারেন। বিশেষ করে ভাটপাড়া, নোয়াপাড়া, জগদ্দল। আমাদের এখানে ভবানীপুরেও সারা রাত রেইড (তল্লাশি অভিযান) হয়েছে। আমি দু’দিন ঘুমোইনি।”

বুথফেরত সমীক্ষাকে ‘বিজেপির চক্রান্ত’ বলে উল্লেখ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী বলেছেন ‘সত্যিটা’ বেরিয়ে এলে শেয়ার বাজারে ধস নামবে। সম্ভাব্য সেই ‘ধস’ আটকাতেই এই সমীক্ষা দেখানো হয়েছে।

মমতার কথায়, “বিজেপি এত করেও মানুষের অধিকার থেকে মানুষকে বঞ্চিত করতে পারল না। তাই সংবাদমাধ্যমকে দিয়ে ওরা শেষ খেলা খেলেছে। যাতে উল্টোপাল্টা বলে আমাদের কর্মীদের মনোবল ভেঙে দেওয়া যায়। আমার কাছে খবর আছে, শেয়ার মার্কেটকে সান্ত্বনা দিতে ওরা এটা করেছে।’’ ২

০১৬ এবং ২০২১ সালের ভোটের ফলের আগে প্রকাশিত সমীক্ষার কথাও মমতা মনে করিয়ে দিয়েছেন। কর্মীদের উদ্দেশে তার বিশেষ নির্দেশ, “গণনাকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। দরকারে আমিও আমার এলাকায় পাহারা দিতে নামব। প্রার্থীরা নিজে পাহারা দিন। রাত জাগুন। আমি যদি পারি, আপনারাও পারবেন। কারণ, গণনাকেন্দ্রে ইভিএম নিয়ে যাওয়ার সময় যন্ত্র বদলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তাই এটা অবহেলা করবেন না। আমি যতক্ষণ সাংবাদিক বৈঠক করে না-বলব, তত ক্ষণ কেউ গণনার টেবিল ছাড়বেন না।”

গণনার দিন বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছেন মমতা। দাবি, টেবিলে যে ভোট গোনা হয়, যন্ত্রস্থ করার সময় তা বদলে দেওয়া হতে পারে। তৃণমূলের ভোট চালিয়ে দেওয়া হতে পারে বিজেপির নামে। প্রার্থী হিসাবে মমতা নিজেও গণনাকেন্দ্রে ‘হানা’ দেবেন বলে জানিয়েছেন। কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “গণনার সময় ঠায় বসে থাকবেন কেন্দ্রে। কাউকে শৌচালয়ে যাওয়ার জন্য বা খাবার খাওয়ার জন্য উঠতে হলেও দু’মিনিটের বেশি নয়। এমন কাউকে ওই সময়ে বসিয়ে যাবেন, যিনি বিশ্বস্ত। টাকা দিয়ে যাকে কেনা যায় না।”

কর্মীদের সকলকে শান্ত ও সংযত থাকার জন্য অনুরোধ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী। বলেছেন, “ওরা হামলা করলেও আপনারা এক্ষুনি হামলায় যাবেন না। গতকালও অনেক মারধর করা হয়েছে। ভাঙড়ে আমার কর্মীদের যে ভাবে পেটানো হয়েছে, রক্তাক্ত করা হয়েছে, এর জবাব ওদের দিতেই হবে। কাউকে আইন হাতে তুলে নিতে হবে না। আমরা ব্যবস্থা করব। প্রশাসনকে অনুরোধ, গণনার সময় আমাদের ছেলের গায়ে বা কোনও রাজনৈতিক দলের কর্মীর গায়ে হাত দেবেন না।”

কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপির ‘এজেন্ট’ হিসাবে কাজ করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন মমতা। ভিডিওবার্তায় তার দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সরাসরি হস্তক্ষেপে এটা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকেও কটাক্ষ করেছেন তিনি। বলেছেন, “ভোট চলাকালীন উনি (নরেন্দ্র মোদি) বললেন কী করে বাংলাটা উনার? উনি কি বাংলাকে চেনেন? বাংলার মাটিকে চেনেন? কাউকে চেনেন না।”

গণনার দিন রাজ্যের সকল তৃণমূল প্রার্থীকে মাঠে নামার ডাক দিয়েছেন নেত্রী মমতা। জানিয়েছেন, তিনি জয় নিয়ে ১০০ শতাংশ আত্মবিশ্বাসী।

সূত্র : আনন্দবাজার

 

 

 

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

২২৬ পেরিয়ে যাব, বিজেপি টাকা দিয়ে বুথফেরত সমীক্ষা দেখিয়েছে : মমতা

প্রকাশের সময় : ০১:৩১:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ‘বুথফেরত সমীক্ষা’ নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল ৩০ এপ্রিল এক ভিডিওবার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ২২৬টির বেশি আসনে জিতবে বলে তিনি নিশ্চিত তিনি।

২৯ তারিখ বুধবার দ্বিতীয় দফা ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর থেকে সংবাদমাধ্যমে বুধফেরত সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। ভিডিওবার্তায় মমতা দাবি করেছেন, বিজেপি টাকা দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে ওই সমীক্ষার ফল দেখাতে বাধ্য করিয়েছে।

বুধবার রাজ্যের দ্বিতীয় দফার নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরেই সন্ধ্যা থেকে বুথফেরত সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। অধিকাংশ সমীক্ষাতেই ইঙ্গিত, বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসছে পশ্চিমবঙ্গে। পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪ আসনের রাজ্য বিধানসভায় সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। অধিকাংশ বুথফেরত সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিজেপি ১৫০ পেরিয়ে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার সেই সমীক্ষা নিয়েই মুখ খুলেছেন মমতা।

ভিডিয়োবার্তায় তিনি রাজ্যের বাসিন্দাদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘‘এত রোদের মধ্যেও, এত অত্যাচার সহ্য করেও আপনারা যে ভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন, তাতে আমরা কৃতজ্ঞ। আমার কর্মীদের কাছেও আমি কৃতজ্ঞ। তারা প্রাণপণ লড়াই করেছে। অনেক অত্যাচার সহ্য করেছে। যারা বাংলাকে জব্দ করতে চেয়েছিলেন, তারা ভোটবাক্সে জব্দ হয়ে গিয়েছেন।”

বুথফেরত সমীক্ষা নিয়ে এর পর মমতা বলেন, ‘‘আমি আপনাদের নিশ্চিন্ত করে বলতে চাই, যেটা টিভিতে দেখাচ্ছে, গতকাল বেলা ১টা ৮ মিনিটে বিজেপির অফিস থেকে সেই সার্কুলার জারি করা হয়েছে। টাকা দিয়ে বলা হয়েছে ওটা দেখাতে। জোর করে সংবাদমাধ্যমকে এটা করতে বাধ্য করা হয়েছে। আমরা ২২৬ (আসন) ক্রস করব। ২৩০-ও পেয়ে যেতে পারি। মানুষ যে ভাবে ভোট দিয়েছেন, আমার পুরো ভরসা রয়েছে।”

ভোটের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং এখানকার পুলিশের বাহিনীর যৌথ অত্যাচার তৃণমূল কর্মীদের সহ্য করতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন মমতা।

তৃণমূল সভানেত্রী আরও বলেন, “বিজেপি তো ইডি, সিবিআই সকলকেই চমকায়। কেন্দ্রীয় বাহিনী যে ব্যবহার গতকাল করেছে, নতুন যে সমস্ত পুলিশ নিযুক্ত হয়েছিলেন, যারা আমার হাতে ছিলেন না, তারা মেয়েদের মেরেছেন। বাচ্চাদের মেরেছেন। উদয়নারায়ণপুরে যে ভদ্রলোক ভোট দিতে গিয়ে মারা গেলেন, তার শোকাহত পরিবারকে সমবেদনা জানানোর ভাষা আমার নেই। ওই পরিবারের পাশে আমরা থাকব।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, তৃণমূলের কর্মীরা একতরফা ভাবে মার খেয়েছেন, তবু এলাকা ছেড়ে যাননি। অনেককে ইচ্ছাকৃত ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছেন। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি কেন্দ্রের নাম উল্লেখ করেন মমতা। বলেন, ‘‘আমাদের কর্মীদের মেরেছে, যাতে তারা এজেন্ট হিসাবে কাজ করতে না-পারেন। বিশেষ করে ভাটপাড়া, নোয়াপাড়া, জগদ্দল। আমাদের এখানে ভবানীপুরেও সারা রাত রেইড (তল্লাশি অভিযান) হয়েছে। আমি দু’দিন ঘুমোইনি।”

বুথফেরত সমীক্ষাকে ‘বিজেপির চক্রান্ত’ বলে উল্লেখ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী বলেছেন ‘সত্যিটা’ বেরিয়ে এলে শেয়ার বাজারে ধস নামবে। সম্ভাব্য সেই ‘ধস’ আটকাতেই এই সমীক্ষা দেখানো হয়েছে।

মমতার কথায়, “বিজেপি এত করেও মানুষের অধিকার থেকে মানুষকে বঞ্চিত করতে পারল না। তাই সংবাদমাধ্যমকে দিয়ে ওরা শেষ খেলা খেলেছে। যাতে উল্টোপাল্টা বলে আমাদের কর্মীদের মনোবল ভেঙে দেওয়া যায়। আমার কাছে খবর আছে, শেয়ার মার্কেটকে সান্ত্বনা দিতে ওরা এটা করেছে।’’ ২

০১৬ এবং ২০২১ সালের ভোটের ফলের আগে প্রকাশিত সমীক্ষার কথাও মমতা মনে করিয়ে দিয়েছেন। কর্মীদের উদ্দেশে তার বিশেষ নির্দেশ, “গণনাকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। দরকারে আমিও আমার এলাকায় পাহারা দিতে নামব। প্রার্থীরা নিজে পাহারা দিন। রাত জাগুন। আমি যদি পারি, আপনারাও পারবেন। কারণ, গণনাকেন্দ্রে ইভিএম নিয়ে যাওয়ার সময় যন্ত্র বদলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তাই এটা অবহেলা করবেন না। আমি যতক্ষণ সাংবাদিক বৈঠক করে না-বলব, তত ক্ষণ কেউ গণনার টেবিল ছাড়বেন না।”

গণনার দিন বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছেন মমতা। দাবি, টেবিলে যে ভোট গোনা হয়, যন্ত্রস্থ করার সময় তা বদলে দেওয়া হতে পারে। তৃণমূলের ভোট চালিয়ে দেওয়া হতে পারে বিজেপির নামে। প্রার্থী হিসাবে মমতা নিজেও গণনাকেন্দ্রে ‘হানা’ দেবেন বলে জানিয়েছেন। কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “গণনার সময় ঠায় বসে থাকবেন কেন্দ্রে। কাউকে শৌচালয়ে যাওয়ার জন্য বা খাবার খাওয়ার জন্য উঠতে হলেও দু’মিনিটের বেশি নয়। এমন কাউকে ওই সময়ে বসিয়ে যাবেন, যিনি বিশ্বস্ত। টাকা দিয়ে যাকে কেনা যায় না।”

কর্মীদের সকলকে শান্ত ও সংযত থাকার জন্য অনুরোধ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী। বলেছেন, “ওরা হামলা করলেও আপনারা এক্ষুনি হামলায় যাবেন না। গতকালও অনেক মারধর করা হয়েছে। ভাঙড়ে আমার কর্মীদের যে ভাবে পেটানো হয়েছে, রক্তাক্ত করা হয়েছে, এর জবাব ওদের দিতেই হবে। কাউকে আইন হাতে তুলে নিতে হবে না। আমরা ব্যবস্থা করব। প্রশাসনকে অনুরোধ, গণনার সময় আমাদের ছেলের গায়ে বা কোনও রাজনৈতিক দলের কর্মীর গায়ে হাত দেবেন না।”

কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপির ‘এজেন্ট’ হিসাবে কাজ করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন মমতা। ভিডিওবার্তায় তার দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সরাসরি হস্তক্ষেপে এটা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকেও কটাক্ষ করেছেন তিনি। বলেছেন, “ভোট চলাকালীন উনি (নরেন্দ্র মোদি) বললেন কী করে বাংলাটা উনার? উনি কি বাংলাকে চেনেন? বাংলার মাটিকে চেনেন? কাউকে চেনেন না।”

গণনার দিন রাজ্যের সকল তৃণমূল প্রার্থীকে মাঠে নামার ডাক দিয়েছেন নেত্রী মমতা। জানিয়েছেন, তিনি জয় নিয়ে ১০০ শতাংশ আত্মবিশ্বাসী।

সূত্র : আনন্দবাজার